ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

ধানখেতে আসার পর বিদ্যুৎ ফাঁদে বন্যহাতি হত্যা, আটক ১

জেলা প্রতিনিধি | কক্সবাজার | প্রকাশিত: ০৭:২০ এএম, ২৪ অক্টোবর ২০২২

কক্সবাজার জেলার উখিয়ায় বন্যহাতি হত্যার পর মাটিতে পুঁতে ফেলার অভিযোগে আবুল শামা নামের একজনকে আটক করেছে বনবিভাগের কর্মীরা।

শনিবার (২২ অক্টোবর) দিনগত রাতের কোনো এক সময় কক্সবাজার দক্ষিণ বনবিভাগের ইনানী রেঞ্জাধীন উখিয়ার রাজাপালং ইউনিয়নের বন এলাকায় ঘটনা ঘটে। ভোর হওয়ার আগেই বনের পাদদেশে হাতিটি পুঁতে ফেলা হয়।

খবর পেয়ে রোববার (২৩ অক্টোবর) দুপুরে রাজাপালং ইউনিয়নের ওই বন এলাকায় অভিযান চালিয়ে সন্ধ্যা নাগাদ মাটি সরিয়ে মরা হাতিটি উদ্ধার করা হয় বলে জানিয়েছেন রেঞ্জ কর্মকর্তা শামীম রেজা মিঠু।

রেঞ্জ কর্মকর্তা শামীম রেজা মিঠু জানান, ইনানী রেঞ্জাধীন রাজাপালং বন বিটের আবু শামার ঘোনা নামক স্থানে জমির ধানখেতে হাতি ও অন্য প্রাণীর উপদ্রব রুখতে অবৈধভাবে বিদ্যুতের তারের ফাঁদ বসায় আবুল শামা। রাতে পাহাড়ে বিচরণ কালে একটি বন্যহাতি ওই বৈদ্যুতিক তারে আটকে পৃষ্ট হয়ে মারা যায়। তারা রাত হতে ভোর পর্যন্ত প্রচেষ্টা চালিয়ে হাতির মৃতদেহটি মাটিতে পুঁতে ফেলে। খবর পেয়ে বিট কর্মকর্তা ক্যাচিং মার্মা সঙ্গীয় স্টাফ ও সিপিজি সদস্যদের সহায়তায় মাটি সরিয়ে হাতির মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

তিনি আরও জানান, অভিযান চালিয়ে জমির মালিক আবুল শামাকে ঘটনাস্থল থেকে আটক করা হয়। তার বিরুদ্ধে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইন ২০১২ আনুযায়ী মামলা দায়ের করা হয়েছে।

অন্যদিকে বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কের ভেটেরিনারি সার্জন ও উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তাদের এনে সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করা হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের পরামর্শ মতে পরবর্তী কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

কক্সবাজার দক্ষিণ বনবিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. সারোয়ার আলম বলেন, পাহাড়-বন বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল। সেখানে চাষাবাদ করে বন্যপ্রাণীর চলাচলে প্রতিবন্ধকতা তৈরি সম্পূর্ণ বেআইনি। এর আগেও একভাবে বিপন্ন হাতি হত্যা করা হয়েছে। এরপর মানুষ-হাতির দ্বন্দ্ব নিরসন সচেতনতা বাড়াতে পাহাড়ের কাছাকাছি গ্রামে গ্রামে সভা-সমাবেশ করা হয়েছে। আজকের (রোববার) ঘটনায় মনে হচ্ছে এরপরও সচেতনতা আসেনি। তাই বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইন-২০১২ আনুযায়ী মামলা করা হয়েছে। আমরা চাইবো হাতি হত্যাকারি আটক ব্যক্তির দৃষ্টান্তমূলক সর্বোচ্চ শাস্তি হোক।

সায়ীদ আলমগীর/এমআইএইচএস