ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

৪ দিন বিদ্যুৎহীন লক্ষ্মীপুরের ৩ ইউনিয়ন, সড়ক অবরোধ

জেলা প্রতিনিধি | লক্ষ্মীপুর | প্রকাশিত: ০৯:২৬ পিএম, ২৬ অক্টোবর ২০২২

ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের প্রভাবে গাছ উপড়ে ও বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে চার দিন ধরে বিদ্যুৎহীন রয়েছে লক্ষ্মীপুরের তিন ইউনিয়নের গ্রাহকরা। এর মধ্যে একটি ইউনিয়নের বাসিন্দারা বিদ্যুতের দাবিতে গাছের গুঁড়ি ফেলে সড়ক অবরোধ করেছেন।

বুধবার (২৬ অক্টোবর) সন্ধ্যায় সদর উপজেলার ভবানীগঞ্জ ইউনিয়নের পিয়ারাপুর এলাকায় লক্ষ্মীপুর-রামগতি সড়কটি ঘণ্টাব্যাপী অবরোধ করে রাখেন তারা। এ সময় সড়কের দু’পাশে বাস, ট্রাকসহ যানবাহন আটকে যানজট সৃষ্টি হয়। পরে পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের আশ্বাসে বিক্ষুব্ধরা সরে গেলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

৪২ ঘণ্টা বিদ্যুৎ না পেয়ে মঙ্গলবার (২৫ অক্টোবর) রাতে লক্ষ্মীপুর পৌর শহরের সমসেরাবাদ এলাকার বাসিন্দারা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছিলে। পরে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের প্রভাবে বৃষ্টি হওয়ায় রোববার (২৩ অক্টোবর) রাতে সদরের ভবানীগঞ্জ, লাহারকান্দি ও চররুহিতা ইউনিয়নে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। ঘূর্ণিঝড়ের দুদিন পার হলেও এসব এলাকায় এখনো বিদ্যুৎ সরবরাহ সচল হয়নি। এতে চারদিন ধরে এসব এলাকায় বিদ্যুতের দেখা নেই।

বিক্ষুব্ধ ১২ জন গ্রাহক জানিয়েছেন, টানা চার দিন ধরে এলাকায় বিদ্যুৎ নেই। এতে ফ্রিজে রাখা মাছ-মাংসসহ খাবার সামগ্রীতে পচন ধরেছে। এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা পড়তে বসতে পারছে না। পুরো এলাকা অন্ধকার হয়ে আছে। মঙ্গলবার কয়েকটি এলাকায় চুরিও হয়েছে। ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালকরা তিন দিন ধরে বেকার হয়ে পড়েছেন। অনেকের ঘরে খাবারও নেই।

চররুহিতা ইউনিয়নের বাসিন্দা শাহাদাত হোসেন শিমুল বলেন, ‘রোববার রাতে আমাদের এলাকায় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়েছে। এরপর থেকে আমরা অন্ধকারে আছি। দুদিন হয়েছে ঘূর্ণিঝড় শেষ হলো। কিন্তু এখনো বিদ্যুৎ আসেনি। মোবাইলে চার্জ নেই। কারও সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছি না।’

ভবানীগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য (মেম্বার) জসিম উদ্দিন জাগো নিউজকে বলেন, পল্লী বিদ্যুতের জিএমের সঙ্গে কথা বলেছি। রাত ৯টার দিকে এসে তারা কাজ করবেন। এরপর বিদ্যুৎ সংযোগ সচল করবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন। পরে বিক্ষুব্ধদের শান্ত করে অবরোধ তুলে নেওয়া হয়েছে। যান চলাচল স্বাভাবিক আছে।’

লক্ষ্মীপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার জাকির হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, আমাদের ৩৬৫টি খুঁটি ঘূর্ণিঝড়ে ভেঙে গেছে। ৪৫০টি স্থানে তার ছিঁড়ে গেছে। এসব মেরামত করতে অনেক জনবল প্রয়োজন। জনবলের বিভিন্ন স্থানে কাজ করা এখনো সম্ভব হয়নি। চেষ্টা করছি দ্রুত প্রত্যেকটি স্থানে বিদ্যুৎ সরবরাহ সচলের।

কাজল কায়েস/এসজে/এএসএম