চাঁদপুরের ঘাটে ইলিশ কম, মিলছে পদ্মা-মেঘনার বড় বড় পাঙাশ
চাঁদপুর বড় স্টেশন মাছঘাটে বেড়েছে পাঙাশ মাছের আমদানি। বড় আকারের এসব পাঙাশ সরবরাহ করতে অনেকে জেলেই ছুটে আসছেন ঘাটে। জেলেরা বলেছেন, ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে পদ্মা-মেঘনায় আশানুরূপ ইলিশের দেখা না পেলেও পাঙাশ ধরা পড়ছে প্রচুর।
নদী থেকে ধরে আনা এসব বড় আকারের পাঙাশ বিক্রি হচ্ছে চাঁদপুর বড় স্টেশন মাছঘাট এবং জেলার ছোট বড় বিভিন্ন মৎস্য আড়তে। অন্যদিকে পদ্মা ও মেঘনার বড় বড় এসব মাছ কিনতে ক্রেতারাও ছুটে আসছেন ঘাটে। আড়ৎদারদের দাবি, পদ্মা মেঘনার মিঠা পানির পাঙাশ শুধু চাঁদপুরে নয়, দেশের বিভিন্ন জেলায় এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।
চাঁদপুর বড় স্টেশন মাছঘাটে সরেজমিনে দেখা যায়, সারি সারি নৌকা ইলিশের বদলে ঘাটে ফিরছে পাঙাশ মাছ নিয়ে। প্রতিটি নৌকায় ১৫ থেকে ২০টি করে বড় বড় পাঙাশ নিয়ে ফিরেছেন তারা। অধিকাংশই ৮ থেকে ১৫ কেজি ওজনের। জেলেদের দাবি, সারা বছর পাঙাশ কম পাওয়া গেলেও মৌসুমের এই সময়ে নদীতে বড় আকারের ও পরিমাণে বেশি পাওয়া যায়। আর নদীতে এসব মাছ পেয়ে একটু বেশি লাভবান হচ্ছে তারা।

ঘাটে আসা জেলে মাসুদ খান, সুমন গাজীসহ বেশ কয়েকজন জানান, পাঙাশ মাছ প্রতি মণ ২২ থেকে ২৩ হাজার টাকা ধরে আড়তে বিক্রি করছেন তারা। প্রতিটি পাঙাশ মাছ সাড়ে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এতে জ্বালানি ও অন্যান্য খরচ ২ হাজার টাকা গেলেও প্রতিদিন গড়ে ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকার মাছ বিক্রি করছেন তারা। তবে খুব বেশিদিন এমন মাছ জালে আসবে না বলেও মনে করছেন তারা।
ঘাটে পাঙাশ কিনতে আসা এক ক্রেতারা জানান, নদীতে প্রচুর পাঙাশ ধরা পড়ছে এমন খবর পেয়ে মাছ কিনতে এসেছেন।
পুকুরের চাষকৃত পাঙাশের চেয়ে এসব মাছ অনেক সুস্বাদু। অন্যান্য সময়ের চেয়ে এখন দামও কিছুটা কম।
ঘাটের আড়ৎদার নবির হোসেন বলেন, প্রতিদিন গড়ে ৫০ থেকে ৮০ মণ পাঙাশ মাছ সরবরাহ হচ্ছে এই ঘাটে। এছাড়াও ওজনে বেশি হওয়ায় চাইলেই অনেকেই একা কিনতে পারছেন না। তবে একাধিক ক্রেতা একত্রিত হয়ে প্রায়ই এসব মাছ কিনে নিয়ে যাচ্ছেন।

নদীতে পাঙাশ বেশি ধরা পড়ার কারণ হিসেবে চাঁদপুর মৎস্য বণিক সমিতির সভাপতি আব্দুল বারী জমাদার মানিক বলেন, চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনায় ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা থাকায় জেলেরা জাল ফেলতে পারেনি। তাই শুধু ইলিশ নয়, সব মাছ নদীতে অবাধে বিচরণের সুযোগ পেয়েছে। এজন্য পাঙাশ মাছগুলো তাদের বিচরণ ক্ষেত্র থেকে উঠে এসেছে। তাই মৌসুমের এ সময়ে পাঙাশ মাছ বেশি পাওয়া যাচ্ছে।
তিনি বলেন, মিঠা পানির মাছ হওয়ায় ইলিশের পাশাপাশি চাঁদপুরের পাঙাশের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। তাই জেলার চাহিদা পূরণ করে এসব পাঙ্গাস পাঠানো হচ্ছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে।
নজরুল ইসলাম আতিক/এমএইচআর