একসঙ্গে নিখোঁজ ৩ শিক্ষার্থী, দুজন ফিরলেও হদিস নেই একজনের
নিখোঁজ শরিফ উদ্দিন
চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে একই বিদ্যালয় থেকে একসঙ্গে তিন শিক্ষার্থী নিখোঁজ হয়। এর মধ্যে দুজন ফিরে আসলেও এখনো নিখোঁজ আছে মো. শরিফ উদ্দিন (১৫) নামে এক শিক্ষার্থী। সে উপজেলার মিঠাছরা উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী ও মিরসরাই সদর ইউনিয়নের আবু নগর গ্রামের মৃত মো. আলাউদ্দিনের ছোট ছেলে।
এ ঘটনায় মঙ্গলবার (১ নভেম্বর) শরিফ উদ্দিনের বড় ভাই তাজউদ্দিন মিরসরাই থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ২৩ অক্টোবর সকালে বিদ্যালয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয় মিঠাছরা উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী মো. ফয়সাল, মো. শরিফ উদ্দিন ও আরমান। এরপর ২৩ অক্টোবর রাতে আরমান এবং ২৯ অক্টোবর রাতে ফয়সাল বাড়ি ফিরলেও শরিফ এখনো বাড়ি ফেরেনি।
শরিফের বড় ভাই তাজউদ্দিন বলেন, আমার ছোট ভাই গত ২৩ তারিখ থেকে নিখোঁজ রয়েছে। আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে খোঁজ করেও তাকে পাওয়া যায়নি। ফয়সাল ও আরমান নামে তার দুই সহপাঠী একসঙ্গে নিখোঁজ হলেও তারা কয়েকদিন পর বাড়ি ফিরে এসেছে। কিন্তু আমার ছোট ভাই বাড়ি ফেরেনি। ফয়সাল ও আরমান কোথায়, কার কাছে গিয়েছিল সে বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে তাদের কিছু মনে নেই বলে জানিয়েছে।
ফয়সালের নানা হাফিজ আহম্মদ বলেন, নিখোঁজের সাতদিন পর গত ২৯ অক্টোবর রাতে জামালের দোকান এলাকায় ফয়সালকে অজ্ঞান অবস্থায় পাওয়া যায়। তার শরীর প্রচণ্ড দুর্বল। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে এখন সে বাড়িতে আছে। ফয়সাল শুধু এটুকু আমাদের বলেছে যে, গত ২৩ অক্টোবর স্কুলে না গিয়ে শরিফের সঙ্গে আরমানসহ তারা একটি প্রাইভেটকারে করে বারইয়ারহাট যায়। গাড়িতে ওঠার পর সে অজ্ঞান হয়ে যায়। এরপর এতদিন তারা কোথায় ছিল, কী অবস্থায় ছিল আর কিছু মনে নেই।
এ বিষয়ে মিঠাছরা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জামশেদ আলম বলেন, গত ২৩ অক্টোবর বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী ফয়সাল, শরীফ উদ্দিন ও আরমান নিখোঁজ হয়। আরমান ও ফয়সাল বাড়ি ফিরে এলেও শরিফ বাড়িতে আসেনি। বিষয়টি উদ্বেগের।
মিরসরাই থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আতাউর রহমান বলেন, মিঠাছরা উচ্চ বিদ্যালয়ের নিখোঁজ শিক্ষার্থী ফয়সাল ও শরিফের পরিবার থানায় পৃথক দুটি জিডি করেছে। এর মধ্যে ফয়সাল ফিরে আসলেও শরিফ এখনো নিখোঁজ। ফিরে আসার পর ফয়সালও কিছু বলছে না। কারা নিয়ে গিয়েছিল, কোথায় ছিল এসব কিছু তার মনে নেই বলে জানিয়েছে। পুরো বিষয়টি আমরা তদন্ত করছি।
এম মাঈন উদ্দিন/এমআরআর/জিকেএস