ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

লক্ষ্মীপুরে যুবলীগকর্মী সুমন-হানিফ হত্যায় ৮ আসামির যাবজ্জীবন

জেলা প্রতিনিধি | লক্ষ্মীপুর | প্রকাশিত: ০২:০৩ পিএম, ০৮ নভেম্বর ২০২২

লক্ষ্মীপুরে দুই যুবলীগকর্মী হত্যা মামলায় আট আসামির যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে প্রত্যেকের ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা ও অনাদায়ে আরও এক বছর করে কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (৮ নভেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ রহিবুল ইসলাম এ রায় দেয়।

লক্ষ্মীপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) জসিম উদ্দিন জানান, যুবলীগ কর্মী আবদুল হান্নান সুমন হত্যায় ছয় আসামির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ মামলায় দুইজনকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন আদালত।

অপরদিকে, আরেক যুবলীগ কর্মী হানিফ হত্যা মামলায় দুজনের যাবজ্জীবন সাজা দেওয়া হয়েছে। এ মামলায় ছয়জনকে খালাস দেওয়া হয়। মামলার আসামি ইলিয়াস কোবরা মারা যাওয়ায় তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। ঘোষিত দুই রায়ে সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা পলাতক রয়েছেন।

সুমন হত্যায় সাজাপ্রাপ্তরা হলেন- কাউছার, খোরশেদ আলম, সোহেল রানা, সোহাগ, রাব্বী ও কালা শাহাদাত। তারা সদর উপজেলার দত্তপাড়া, গোপালপুর ও দক্ষিণ মাগুরী গ্রামের বাসিন্দা। এ মামলায় খালাস পেয়েছেন বাবুল ওরফে বাবলু ও মানিক এলাহি বাবুল। তারা দত্তপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। নিহত সুমন উত্তর জয়পুর ইউনিয়ন যুবলীগের সদস্য ছিলেন।

আদালত সূত্র জানায়, ২০১৩ সালের ৬ ডিসেম্বর ছেলে সাইফ হান্নানকে নিয়ে রিকশায় করে সুমন বাড়ি ফিরছিলেন। পথে আসামিরা তার গতি রোধ করেন। এসময় আসামিরা তাকে রিকশা থেকে নামিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করেন। পরে উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এরপর একই বছরের ৮ ডিসেম্বর নিহতের মা সুফিয়া বেগম বাদী হয়ে সদর মডেল থানায় মামলা করেন। ২০১৬ সালের ২৩ আগস্ট মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আট আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করেই হত্যাকাণ্ডটি ঘটানো হয়েছিল।

এদিকে, হানিফ হত্যা মামলায় সাজাপ্রাপ্তরা হলেন- দিদার হোসেন ও ফারুক হোসেন। তারা লক্ষ্মীপুর সদরের উত্তর জয়পুর ইউনিয়নের উত্তর মাগুরী গ্রামের বাসিন্দা। এ মামলায় মো. ইলিয়াস ওরফে ইলিয়াস কোবরা সাজার আওতায় থাকলেও তিনি মারা যাওয়ায় অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

মামলায় খালাসপ্রাপ্তরা হলেন- মো. রিপন, মো. রনি, ওমর ফারুক, ইসমাইল হোসেন মুন্সি, মো. বাবলু ও মো. রিয়াদ। এ মামলার অন্য আসামি জসিম উদ্দিন ২০১৫ সালের ৮ জুন দুর্বৃত্তদের সঙ্গে গোলাগুলিতে নিহত যান। এতে তাকেও মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছিল। নিহত হানিফ যুবলীগকর্মী ছিলেন বলে জানা গেছে।

এজাহার সূত্র জানায়, চাঁদার দাবিতে ২০১৫ সালের ৭ এপ্রিল সন্ধ্যায় বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে আসামিরা হানিফকে গুলি করে হত্যা করেন। এ ঘটনায় ১৫ মে হানিফের বোন মনোয়ারা বেগম বাদী হয়ে চন্দ্রগঞ্জ থানায় মামলা করেন। ২০১৬ সালের ২৭ মার্চ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও চন্দ্রগঞ্জ থানার এসআই জাহাঙ্গীর আলম আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

কাজল কায়েস/এমআরআর/জেআইএম