ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

নারায়ণগঞ্জে গ্যাস সংকটে কদর বেড়েছে লাকড়ি চুলার

মোবাশ্বির শ্রাবণ | প্রকাশিত: ০৬:০৪ পিএম, ১১ নভেম্বর ২০২২

বিগত কয়েক মাস ধরেই তীব্র গ্যাস সংকটে ভুগছেন নারায়ণগঞ্জবাসী। আগে দিনেরবেলায় কোনো কোনো সময় গ্যাসের দেখা মিললেও এখন একেবারেই যেন দেখা মিলছে না। কবে এ সমস্যা থেকে মুক্তি মিলবে তাও জানা নেই।

এ অবস্থায় গ্যাসের চুলার বিকল্প হিসেবে নারায়ণগঞ্জে কদর বেড়েছে লাকড়ি চুলার। আবাসিক গ্রাহকরা লাকড়ির চুলার দিকে ঝুঁকছেন। সেইসঙ্গে চুলার কারিগরদেরও বেড়েছে ব্যস্ততা। আগে লাকড়ি চুলা তেমন বিক্রি না হলেও এখন প্রতিনিয়তই বিক্রি হচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শহরের বাবুরাইল, পাক্কারোড, দেওভোগ আখড়া, পালপাড়া, ভূঁইয়ারবাগ, নন্দীপাড়া, আমলাপাড়া, গলাচিপা, কলেজ রোড, জামতলা, উত্তর চাষাঢ়া, মাসদাইর, মিশনপাড়া, খানপুর, মেট্টো হল, দক্ষিণ সস্তাপুর, সস্তাপুর, কাঠেরপুল, তল্লা ও বন্দরের বিভিন্ন এলাকায় তীব্র গ্যাস সংকট চলছে।

এসব এলাকার মানুষজন সময়মতো রান্না করে খাওয়া-দাওয়া করতে পারছেন না। বিশেষ করে সরকারি-বেসরকারি অফিসগামী মানুষজন সকালবেলা বাসা থেকে নাস্তা করে বের হতে পারছেন না। সময়মতো খাবার খেতে পারছেন না তারা।

এ অবস্থায় যাদের বাসায় লাকড়ি দিয়ে রান্নার ব্যবস্থা রয়েছে তারা লাকড়ি চুলা কিনে নিজেদের খাবারের চাহিদা মেটাচ্ছেন। তারা সিমেন্টের বা মাটির তৈরি চুলা বাসায় রাখছেন। যখন গ্যাসের দেখা মিলছে না তখনই লাকড়ির চুলা ব্যবহার করছেন গৃহিণীরা।

শহরের চাঁনমারী এলাকার স্যানিটারি ব্যবসায়ী কামাল হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, ‘আগে লাকড়ির চুলা বিক্রি হতো না। এখন নিয়মিতই বিক্রি হচ্ছে।’

তিনি জানান, রড-বালু-সিমেন্টের সমন্বয়ে এই চুলা তৈরি করা হয়। প্রকারভেদে চুলার দামও ভিন্ন। ৩০০-১২০০ টাকা দামে বিক্রি হচ্ছে এসব চুলা।
চাষাঢ়া এলাকার স্যানিটারি ব্যবসায়ী সোহাগ বলেন, ‘আমার এখানে কয়েকটি চুলা তৈরি করা ছিল। গত কয়েকদিনে সেগুলো বিক্রি হয়ে গেছে। এখন আবার নতুন করে চুলা তৈরি করছি। আগের তুলনায় চুলার চাহিদা বেড়েছে।’

বন্দরের সোনাকান্দা এলাকার মাটির চুলা বিক্রেতা কুলছুম বলেন, ‘এখন নিয়মিতই মাটির চুলা বিক্রি হচ্ছে। তাই মাটির চুলা তৈরি করছি।’

আরেক মাটির চুলা বিক্রেতা জুলহাস বলেন, ‘প্রতিদিনই মাটির চুলা বিক্রি হচ্ছে। ১৫০ টাকা থেকে শুরু করে ৩০০ টাকা করে চুলা বিক্রি করছে। শহর ও বন্দরের বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষজন এসে চুলা নিয়ে যাচ্ছেন।’

বন্দর বাবুপাড়া এলাকার বাসিন্দা আফরোজা আক্তার। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ‘দিনের বেলা একেবারেই গ্যাস থাকে না। রাতে নিভু নিভু করে যা থাকে তাতে কোনো কাজই করা যায় না। রান্না-খাওয়ার খুব কষ্ট হয়। তাই উপায় না পেয়ে মাটির চুলায় রান্না করতে হয়। মাটির চুলায় রান্না করেও মাসে মাসে গ্যাস বিল দিতে হয়।’

শহরের দেওভোগ এলাকার বাসিন্দা ইমন হোসেন বলেন, ‘গ্যাসের ব্যাপারে বলার কিছু নেই। গত কয়েক মাস সকালে একদিনও বাসায় খেতে পারি না। দোকান থেকে নাস্তা কিনে খেতে হয়। বাসায় একটি লাকড়ির চুলা কিনে এনেছি। কিন্তু এই চুলা দিয়ে বাসার সবার রান্না করা সম্ভব হচ্ছে না। খুবই খারাপ অবস্থার মধ্যে আছি আমরা।’

সামাজিক সংগঠন আমরা নারায়ণগঞ্জবাসীর সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন মন্টু জাগো নিউজকে বলেন, ‘আগে রাত ১১টার পর গ্যাস থাকলেও এখন গভীর রাতেও গ্যাস পাওয়া যায় না। গ্যাসের অভাবে আমাদের দৈনন্দিন কার্যক্রম স্থবির হয়ে গেছে।’

এ বিষয়ে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের নারায়ণগঞ্জ আঞ্চলিক কার্যালয়ের বিপণন বিভাগের উপ-মহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মো. মামুনার রশীদ জাগো নিউজকে বলেন, ‘ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের কারণে জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে। জ্বালানি সংকটের কারণে বিদ্যুতের উৎপাদন ঠিক রাখার জন্য তাদের বেশি গ্যাস দিতে হচ্ছে। এটা শুধু নারায়ণগঞ্জে নয়, পুরো বাংলাদেশেরই একই অবস্থা। তবে এ সমস্যা সমাধানে আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’

এসআর/এএসএম