ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

১৩ বছর ধরে অকেজো ৩৭ লাখ টাকার ভবন

জেলা প্রতিনিধি | ফরিদপুর | প্রকাশিত: ০৬:২৮ পিএম, ২১ ডিসেম্বর ২০২২

ফরিদপুরে নির্মাণের এক যুগ পেরিয়ে গেলেও অকেজো পড়ে আছে ৩৭ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি ভবন। ফরিদপুর জেলা পরিষদের এক কর্মকর্তার বসবাসের জন্য নির্মিত ভবনটি ১৩ বছর ধরে অবহেলা-অযত্নে পড়ে আছে।

২০০৯ সালে ভবনটির নির্মাণ কাজ শেষ হয়। ফরিদপুর জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার বাসভবন হিসেবে ভবনটি নির্মাণ করা হলেও এত বছরে এক ঘণ্টার জন্যও ব্যাবহার করা হয়নি। ভবনটির মূল গেটে বছরের পর বছর তালা ঝুলছে।

jagonews24

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এক যুগের বেশি সময় ধরে অকেজো পড়ে থাকলেও ভবনটির প্রতি জেলা পরিষদের কোনো নজরদারি নেই। ফলে ভবনটি মাদকসেবীদের নিরাপদ আড্ডাস্থলে পরিণত হয়েছে। জানালার গ্রিল কেটে রাতে বসে মাদকের আড্ডা।

দেখা গেছে, ভবনটির জানালার থাই গ্লাসগুলো ভাঙা। একপাশের একটি জানালার গ্রিল কেটে ভবনের ভেতরে গোপনে প্রবেশের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ভবনের ভেতরের কাঠের দরজা-জানালাগুলোও ভেঙে ফেলা হয়েছে। ইলেকট্রনিকস সামগ্রী যেমন- ফ্যান, লাইটসহ অন্য মালপত্রও চুরি হয়ে গেছে।

জেলা পরিষদ কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০০৯ সালে ফরিদপুর শহরের টেপাখোলাতে জেলা পরিষদের নিজস্ব মালিকানার জায়গায় প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার বসবাসের জন্য আবাসিক ভবনটি নির্মাণ করা হয়।
তৎকালীন জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ছিলেন আবদুল্লাহ আল মামুন। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) অর্থায়নে ও জেলা পরিষদের তত্ত্বাবধানে ভবনটি নির্মাণে ব্যয় ধরা হয় ৩৭ লাখ টাকার মতো। এ কাজের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ছিলেন মেসার্স আর আর কনস্ট্রাকশন লিমিটেড। ২০০৮ সালে নির্মাণকাজ শুরু করে ২০০৯ সালে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জেলা পরিষদকে ভবনটি বুঝিয়ে দেয়।

jagonews24

এ বিষয়ে ফরিদপুর জেলা পরিষদের সহকারী প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত) মো. আবুল ফজল জাগো নিউজকে বলেন, আজ থেকে প্রায় ১৩ বছর আগের কথা। আমি আসার প্রায় ছয় থেকে সাত বছর আগের বিষয়। তৎকালীন যারা দায়িত্বে ছিলেন এখন তারা এখানে দ্বায়িত্বে নেই। ভবনটি নির্মাণের ফাইলটি তখনকার কর্মকর্তারা কোথায় রেখেছেন জানা নেই। অফিসে খোঁজ করা হয়েছে কিন্তু ফাইলটি পাওয়া যাচ্ছে না। এ কারণে ভবনটির বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য জানানো সম্ভব নয়।

তবে ওই সময় যারা ছিলেন তাদের বরাত দিয়ে এই প্রকৌশলী আরও বলেন, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের অর্থায়নে ও জেলা পরিষদের তত্ত্বাবধানে ভবনটি নির্মাণে ব্যয় ধরা হয় ৩৭ লাখ টাকার মতো। এ কাজের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ছিলেন মেসার্স আর আর কনস্ট্রাকশন লিমিটেড। ২০০৮ সালে নির্মাণকাজ শুরু করে ২০০৯ সালে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জেলা পরিষদকে ভবনটি বুঝিয়ে দেয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, দীর্ঘদিন ভবনটি অকেজো হয়ে পড়ে রয়েছে। ওখানে মাদকের আড্ডাসহ নানা ধরনের অসামাজিক কার্যকলাপ সংঘটিত হয়। ভয়ে কেউ মুখ খোলে না। ভবনটি একটি ভুতুড়ে বাড়িতে পরিণত হয়েছে। ভয়ে এলাকার কোনো সাধারণ মানুষ ভবনটিতে যান না। তবে ভবনটির জানালার গ্রিল কেটে দিনেরাতে মাদকসেবীরা ঢুকে নেশা করেন। বিভিন্ন ধরনের মাদক সেবনের পাশাপাশি অসামাজিক কার্যকলাপও চলে।

ওই ভবন এলাকায় বসবাসকারী শাহানা বেগম জাগো নিউজকে বলেন, এ এলাকায় প্রায় সাড়ে পাঁচ বছর ধরে বসবাস করছি। কিন্তু গত পাঁচ বছরে সরকারি কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীকে ভবনটির খোঁজ নিতে দেখিনি। দিনেরাতে বিভিন্ন সময়ে মাদকসেবীদের আড্ডা বসে। আমি গরিব অসহায় মানুষ সবকিছু দেখেও না দেখার ভান করে ভয়ে চুপ করে থাকি।

jagonews24

ফরিদপুর নাগরিক মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক প্রবীর কান্তি বালা জাগো নিউজকে বলেন, বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। এরকম রাষ্ট্রীয় অপচয় কোনোভাবে কাম্য নয়। গ্রহণযোগ্যও হতে পারে না। ব্যবহার করা হবে না, তাহলে এত টাকা খরচ করে কেন নির্মাণ করা হলো। কেন এক যুগের বেশি সময় ধরে সেটি অব্যবহৃত। এ বিষয়ে তদন্ত করে দেখার দাবি জানাই।

এ বিষয়ে জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মুজিবুর রহমান বলেন, বিগত দিনে যারা ফরিদপুর জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহীর দ্বায়িত্বে ছিলেন তারা সবাই শহরের বিভিন্ন স্থানে ভাড়া বাসায় থেকেছেন। ২০০৯ সালে ওই বাসভবনটি নির্মাণ করা হয়। আগের নির্বাহী কর্মকর্তারা বাসভবনটিতে কেন বসবাস করেননি তা জানা নেই। ফরিদপুরে আমি পরিবার নিয়ে থাকি না। বর্তমানে জেলা পরিষদের ডাক-বাংলোর একটি কক্ষে থাকি। তবে ওই এলাকায় জেলা পরিষদের জায়গায় সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটি শুরু হলে অব্যবহৃত ভবনটি নতুন করে মেরামত করা হবে।

এ বিষয়ে ফরিদপুর জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. শাহাদাৎ হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, আমি নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে কিছুদিন আগে দায়িত্ব পেয়েছি। বিষয়টি আমার জানা নেই। এখন যেহেতু জানতে পারলাম, আগামীকালই আমি সরেজমিন ভবনটি দেখতে যাবো। তারপর এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য নিশ্চিত করতে পারবো।

এন কে বি নয়ন/এমআরআর/জিকএস