ফরিদপুরে প্রতিবন্ধী কিশোরকে বলাৎকারের ঘটনা তদন্তে কমিটি
ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলায় প্রতিবন্ধী কিশোরকে বলাৎকারের ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। বুধবার (২১ ডিসেম্বর) বিকেলে বোয়ালমারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আবু আহাদ মিয়া ওই তদন্ত কমিটি গঠনের বিষয়টি জাগো নিউজকে নিশ্চিত করেন।
উপজেলা শিক্ষা অফিসের এটিইও মো. আজিজুর রহমান খানকে প্রধান করে ওই তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেন উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আবু আহাদ মিয়া। ওই কমিটিকে ৭ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। কমিটির আরো দুই সদস্য হলেন, এটিইও টিপু সুলতান ও এটিইও শরীফ বসির।
এদিকে আলোচিত এ ঘটনায় বলাৎকারকারের অভিযোগ ওঠা আজাদ মোল্লার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি স্কুলটির সভাপতি ও প্রধান শিক্ষক। উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রধান শিক্ষককে নির্দেশ দিলেও সে নির্দেশ অমান্য করেন প্রধান শিক্ষক; এমনটাই অভিযোগ স্থানীয়দের।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি অভিযোগ করে জাগো নিউজকে বলেন, প্রধান শিক্ষককের আপন ভাগিনা ও সভাপতির দলীয় পক্ষের লোক হওয়ায় তারা বলাৎকারের মতো একটি ভয়ানক ঘটনা এড়িয়ে যাচ্ছেন।
তারা আরো বলেন, এতো বড় ঘটনার পর স্কুলে সন্তানদের পাঠাতে দুশ্চিন্তা হচ্ছে।
এ ব্যাপারে ওই তদন্ত কমিটির প্রধান আজিজুর রহমান খান বলেন, প্রধান শিক্ষককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল ম্যানেজিং কমিটির সভা ডেকে তদন্ত কমিটি করে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য। যদি প্রধান শিক্ষক সে নির্দেশ না মানেন তাহলে প্রধান শিক্ষক বিপদে পড়ে যাবেন।
তিনি আরও বলেন, তদন্ত করে যদি দপ্তরিকে দোষী পাই তাহলে তাকে চাকরিচ্যুত করা হবে। কোনো রকম ক্ষমা করা হবে না।
এ বিষয়ে স্কুলটির প্রধান শিক্ষক মো. সানোয়ার করিম বলেন, বুধবার (২১ ডিসেম্বর) সকালে ম্যানেজিং কমিটির সভা ডাকা হয়েছিল। সেখানে সকলে বলেন বিভিন্ন পত্রিকায় বা পরস্পর ঘটনা শুনেছি। কিন্তু কোনো লিখিত অভিযোগ নেই। তাই ব্যবস্থা নেওয়া যাবে না।
এ ব্যাপারে স্কুলটির সভাপতি মো. আনিচুজ্জামানের মুঠোফোন একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
গত ১৮ ডিসেম্বর বলাৎকারের ঘটনা নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হয়। এর আগে ঘটনাটি ঘটে শনিবার (১৭ ডিসেম্বর) সকালে। দপ্তরি আজাদ মোল্যা বর্নিচর গ্রামের এক প্রতিবন্ধী কিশোরকে বলাৎকার করেন বলে অভিযোগ ওঠে। ভুক্তভোগী ঘটনার সময় আজাদের পুরুষাঙ্গ কামড়ে অনেকটা ছিঁড়ে ফেলে। পরে আহত অবস্থায় আজাদকে প্রথমে ফরিদপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
এন কে বি নয়ন/এফএ/জিকেএস