ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

আওয়ামী লীগের কার্যালয় বানাতে অন্যের জমিতে সাইনবোর্ড

জেলা প্রতিনিধি | সিরাজগঞ্জ | প্রকাশিত: ১১:০৫ এএম, ২৫ ডিসেম্বর ২০২২

সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলায় আওয়ামী লীগের আঞ্চলিক কার্যালয়ের সাইনবোর্ড স্থাপন করে ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। এ নিয়ে এলাকায় ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। এমনকি স্থানীয় আওয়ামী লীগের কিছু নেতাও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। এ নিয়ে থানায় অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার সদর ইউনিয়নের শ্রীকৃষ্ণপুর মৌজায় আরএস ৫২০ দাগে ১০ শতাংশ জমি শ্রীকৃষ্ণপুর গ্রামের মৃত ছবের আলীর ছেলে সিদ্দিকুর রহমান ২০১২ সালে সাব-রেজিস্ট্রিমূলে কেনেন। এরপর থেকেই তিনি ভোগ দখল করে আসছেন।

হঠাৎ ১৮ ডিসেম্বর সকাল ৯টার দিকে উপজেলার সদর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কৃষি বিষয়ক সম্পাদক খলিলুর রহমান, ৫ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাবেক নেতা আব্দুল জলিল ও সেলিম রেজাসহ আরও কয়েকজন দলের আঞ্চলিক কার্যালয়ের নামে একটি সাইনবোর্ড স্থাপন করেন। যাতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, তার কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও নাতি সজীব ওয়াজেদ জয়ের ছবি টাঙানো আছে। এতে লিখা আছে- বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ আঞ্চলিক কার্যালয়। এর নিচে লিখা ৫ নম্বর ওয়ার্ড, তাড়াশ সদর ইউনিয়ন শাখা, তাড়াশ, সিরাজগঞ্জ। তারও নিচে আছে সৌজন্যে মো. সেলিম রেজা।

জমি দখলে বাধা দিলে মালিক সিদ্দিকুর রহমানকে মারধরেরও অভিযোগ ওঠে আওয়ামী লীগ নেতাদের বিরুদ্ধে। এ নিয়ে ২২ ডিসেম্বর থানায় অভিযোগ দিয়েছেন সিদ্দিকুর।

ভুক্তভোগী সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘ওই জমিতে ২০১২ সাল থেকে শাক সবজি চাষ করে আসছি। কিন্তু ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাবেক সহ-সভাপতি সেলিম রেজাসহ আরও কয়েকজন নেতা জমিটি দখলে নিয়েছে। আওয়ামী লীগের সাইনবোর্ড স্থাপন করেছে তারা। শুনেছি জমিতে গেলে আওয়ামী লীগ অফিস ভাঙার মামলা দেবে আমার নামে। বিষয়টি নিয়ে আমি থানায় অভিযোগ করেছি।’

অভিযুক্ত ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাবেক সহ-সভাপতি সেলিম রেজার দাবি, ‘ব্যক্তিমালিকানাধীন কোনো জমি দখল করা হয়নি। আমরা গ্রামবাসী মিলে সরকারি জমিই দখল করেছি। ওখানে ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের আঞ্চলিক কার্যালয় হবে।’

তবে ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি শ্রী ভুলন চন্দ্র বসাক বলেন, ‘ওই জায়গাটা ব্যক্তিমালিকানা। কোনো সরকারি জায়গা নয়। আমি ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি হয়েও জানি না, ওখানে আমাদের কার্যালয় হবে।’

তাড়াশ সদর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি রেজাউল করিম জাগো নিউজকে বলেন, ‘এ সাইনবোর্ড স্থাপনের সঙ্গে আমরা কোনো সম্পৃক্ততা নেই। এছাড়া আমরা দলীয় কার্যালয়ের জন্য বিতর্কিত কোনো জমি নেবো না।’

তাড়াশ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জিত কুমার কর্মকার জাগো নিউজকে বলেন, ‘বিষয়টি ফোনে জেনেছি। যারা আওয়ামী লীগের সাইনবোর্ড দিয়ে জমি দখলের সঙ্গে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে অবশ্যই সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

অভিযোগের বিষয়ে তাড়াশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, এক ভুক্তভোগী কয়েক জনের নাম উল্লেখ করে লিখিত একটি অভিযোগ দিয়েছে। খতিয়ে দেখে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এসজে/এমএস