রূপগঞ্জে বিলুপ্তপ্রায় ‘মধুবৃক্ষ’ খেজুরগাছ
প্রাচ্যের ড্যান্ডি খ্যাত নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলায় দুই দশক আগেও গ্রামীণ মেঠোপথ ধরে হাঁটলেই চোখে পড়তো সারি সারি খেজুর গাছ। শীতকাল এলে সন্ধ্যায় গাছ কেটে ভাঁড় বসিয়ে ভোরবেলা খেজুর গাছ থেকে সুমিষ্ট রস সংগ্রহ করতেন গাছিরা। সকালে কাঁধে করে সেই রস উপজেলার হাট-বাজার, অলিগলি ও রাস্তার মোড়ে মোড়ে মানুষের হাতে পৌঁছে দিতেন।
তবে আগের মতো এখন আর সারি সারি খেজুর গাছ চোখে পড়ে না। নানা কারণে বিলুপ্তির পথে এ ‘মধুবৃক্ষ’। আবাসন ও শিল্পাঞ্চল বিকাশের চাপে অবাধে বৃক্ষনিধন, অযত্ন-অবহেলা আর চারা রোপণে অনীহার কারণে দিন দিন খেজুর গাছ কমছে। খেজুর গাছের সঙ্গে বিলুপ্ত হতে চলেছে রস সংগ্রহ করা গাছিদের পেশা। দুষ্প্রাপ্য হয়ে যাচ্ছে শীতকালীন ঐতিহ্য খেজুরের রস।

খেজুর গাছ থেকে সংগৃহীত রস মিষ্টি পানীয়। ৭-৮ কেজি খেজুরের রস জ্বালিয়ে এককেজি গুড় বা পাটালি তৈরি করা যায়। শীতকালীন পিঠা-পায়েস তৈরিতে খেজুরের গুড় ও পাটালির জুড়ি নেই।
রূপগঞ্জ সদর ইউনিয়নের বাসিন্দা মোসলেম মিয়া (৬০) জাগো নিউজকে বলেন, ‘একসময় উপজেলায় অনেক খেজুরগাছ ছিল। তবে ৯০ দশকের পর থেকেই উদ্যোক্তারা কল-কারখানা তৈরিতে হুমড়ি খেয়ে পড়ে। এতে অবাধে নিধন করা হয়েছে গাছপালা। বিভিন্ন গাছপালার সঙ্গে হারিয়ে যাচ্ছে খেজুরগাছ।’

স্থানীয় সার্ভেয়ার জহিরুল ইসলাম সিকদার বলেন, আগে শীত মৌসুমে উপজেলার যেখানে সেখানে খেজুরের রস পাওয়া যেতো। খেজুরের সুমিষ্ট রস খেয়ে প্রাণ জুড়িয়ে যেতো। খেজুরের গুড় দিয়ে তৈরি পিঠা,পায়েস, শিরনি আজ শুধুই স্মৃতি। বিলুপ্তির হাত থেকে খেজুরগাছকে রক্ষায় সরকারিভাবে উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
গাছি মমিনুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, আগে খেজুরগাছ থেকে রস সংগ্রহ করে তা বিক্রি করে রোজগার করতাম। এখন আর আগের মতো খেজুরগাছ পাওয়া যায় না। আগের মতো রস না পাওয়ায় ৭-৮ বছর আগে থেকেই এ পেশা ছেড়ে এলাকার বাজারে চা-পানের দোকান করেছি।

মাঝিনা এলাকার গাছি বাবুল মিয়া জানান, আগে এই কাজ করে ভালোভাবেই তার সংসার চলে যেতো। তবে গাছ কমে যাওয়ায় আয়ও কমে গেছে। বাধ্য হয়ে এ পেশা ছেড়ে একটি টেক্সটাইল মিলে চাকরি নিয়েছেন।
এ বিষয়ে রূপগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফাতেহা নুর জাগো নিউজকে বলেন, ঐতিহ্যগতভাবে বাংলার সংস্কৃতির সঙ্গে খেজুরগাছ এবং এর রস ওতপ্রোতভাবে মিশে আছে। পুষ্টিগুণ এবং মিষ্টতায় এর জুড়ি মেলা ভার। তবে দ্রুত বর্ধমান শিল্পায়ন ও আবাসনসহ বিভিন্ন কারণে বর্তমানে উপজেলায় খেজুরগাছের সংখ্যা ক্রমশ হ্রাস পাচ্ছে। পতিত জায়গায় ও রাস্তার পাশে খেজুরগাছ রোপণে প্রচারণা চালানো হচ্ছে।
এসআর/জেআইএম