ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

ফেনীতে অর্ধশতাধিক জীর্ণ বিদ্যালয় ভবনে আতঙ্কের মধ্যে পাঠদান

জেলা প্রতিনিধি | ফেনী | প্রকাশিত: ০৯:৫৭ পিএম, ৩১ ডিসেম্বর ২০২২

জরাজীর্ণ ভবনে চরম ঝুঁকি নিয়ে চলছে ফেনী জেলায় অর্ধশতাধিক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঠদান। এতে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। আর এভাবে জীর্ণ ভবনে ক্লাস করতে গিয়ে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা সবসময় আতঙ্কে থাকেন।

এদিকে, ভবন পুনর্নির্মাণের জন্য লিখিত আবেদন করেও দীর্ঘসময়ে কোনো বরাদ্দ পাওয়া যায়নি। এ নিয়ে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক এবং এলাকাবাসীর মধ্যে উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, জেলায় ৫৫৯টি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এর মধ্যে ৮২টি স্কুল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। বেশিরভাগ বিদ্যালয়ের কলাম ও দেওয়ালে ফাটল ধরেছে। ছাদ দিয়ে পানি পড়ে। ছাদের পলেস্তারা ও দেওয়ালের প্লাস্টার খসে খসে পড়ছে। এর জন্য অনেক বিদ্যালয়ের ক্লাসরুম পরিত্যক্ত ঘোষণা করে বিকল্প ব্যবস্থায় পাঠদান করানো হচ্ছে। ফলে শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। তাই জরুরি ভিত্তিতে এগুলো সংস্কার করা প্রয়োজন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ফেনী সদর উপজেলার লেমুয়া রামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ১৯৪৪ সালে নির্মিত হয়। সেখানে একটি ভবনে চলছে সব কার্যক্রম। রয়েছে শ্রেণিকক্ষ সংকট। পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে অনেক কষ্টে শিক্ষকরা পাঠদান করছেন।

স্কুলের প্রধান শিক্ষক ফেরদৌস আরা বেগম বলেন, স্কুলটির বেহাল দশার কথা উল্লেখ করে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস ও উপজেলা চেয়ারম্যানকে একাধিকবার লিখিতভাবে জানানো হয়েছে।

একই স্কুলের শিক্ষক নাজনীন আক্তার বলেন, ভবনটির দেওয়ালের বাইরে ও ভেতরের ছাদে অনেকাংশে পলেস্তারা উঠে গেছে। ফাটল দেখা দিয়েছে। এর মধ্যে কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছে। তারপরও ওই ভবনে ক্লাস নেওয়া হচ্ছে।

স্কুলের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী সাবিহা বললো, আমাদের স্কুলটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। মাঝে মধ্যে আস্তর পড়ে আমাদের বই-খাতা নষ্ট হয়। আমরা আতঙ্কে আছি। এ অবস্থায় অনেক সহপাঠী এখন স্কুলে না এসে বেসরকারি কিন্ডারগার্টেন বা মাদরাসায় ভর্তি হচ্ছে।

একই উপজেলার কসবা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ফারজানা আক্তার জানান, বিদ্যালয়ের একমাত্র ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় এ নিয়ে তারা উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় রয়েছেন। বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় বাধ্য হয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এ ভবনে শিশুদের পড়াতে হচ্ছে। এতে দিনদিন শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমে যাচ্ছে।

এ বিষয়ে ফেনী সদর উপজেলা চেয়ারম্যান শুসেন চন্দ্র শীল বলেন, শিক্ষার মানোন্নয়নে ও কোমলমতি শিশুদের শুরু থেকে শিক্ষাব্যবস্থা সুনিশ্চিত করতে ভবনগুলো দ্রুত মেরামত প্রয়োজন।

ফেনী জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা নাছির উদ্দিন আহমেদ বলেন, জরাজীর্ণ ভবন সম্পর্কে পুরোপুরি তথ্য জানা নেই। তবে ঝুঁকিপূর্ণ হলে সরেজমিনে দেখে শিগগির নতুন ভবন নির্মাণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আবদুল্লাহ আল-মামুন/এমআরআর/জিকেএস