সিরাজগঞ্জ
বেকারদের স্বপ্ন দেখাচ্ছে ইনস্টিটিউট অব মেরিন টেকনোলজি
সিরাজগঞ্জে শিক্ষিত বেকার ছেলেমেয়েদের প্রশিক্ষণ দিয়ে তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করছে ইনস্টিটিউট অব মেরিন টেকনোলজি। এখানে প্রশিক্ষণ নিয়ে নিজেদের পছন্দমতো কাজ বেছে নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন তারা। এরই মধ্যে অনেকে বেকারত্ব দূর করতে সক্ষম হয়েছেন।
প্রতিষ্ঠানটি থেকে এরই মধ্যে চার বছর মেয়াদি ডিপ্লোমা-ইন ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়মিত কোর্সে ৩৭৮ জন এবং দুই ও চার মাস মেয়াদি কোর্সে প্রশিক্ষণ শেষে ৪৫৭ জন সনদ নিয়েছেন।
আরও পড়ুন: দেশের প্রথম গ্রিন ইকোনমিক জোন সিরাজগঞ্জে, কাজ পাবে ৫ লাখ মানুষ
চার বছর মেয়াদি ডিপ্লোমা কোর্স ছাড়াও জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের স্কিল ফর এমপ্লয়মেন্ট ইনভেস্টমেন্ট প্রোগ্রাম (এসইআইপি) প্রকল্পের আওতায় চার মাস মেয়াদি ওয়েল্ডিং, মেশিন শপ প্র্যাকটিস, ইলেকট্রিক্যাল ইনস্টলেশন অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স ও গ্রাফিক্স ডিজাইনের প্রশিক্ষণ দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। এছাড়া বিএমইটি অনুমোদিত জাপানি ভাষা শিক্ষাও ব্যবস্থা রয়েছে।

২০১৪ সাল থেকে সিরাজগঞ্জে এসব কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে ইনস্টিটিউট অব মেরিন টেকনোলজি।
সিরাজগঞ্জের ইনস্টিটিউট অব মেরিন টেকনোলজিতে চার বছর মেয়াদি কোর্স সম্পন্ন করছেন জেলার শাহজাদপুর পৌর এলাকার অরুপ আহম্মেদ (২১)।
আরও পড়ুন: টাকা ছাড়াই খাবার মেলে ‘আম জনতার হোটেলে
তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ‘২০১৭ সালে এসএসসি পাসের পর মেরিন টেকনোলজিতে ভর্তি হই। গতবছরের জুলাইয়ে ডিপ্লোমা-ইন ইঞ্জিনিয়ারিং (শিপ বিল্ডিং টেকনোলজি) কোর্স সম্পন্ন করেছি। এর কয়েকমাসের মধ্যেই ঢাকায় থ্রি অ্যাংগেল মেরিন লিমিটেড কোম্পানিতে চাকরি হয়। কর্মমুখী শিক্ষা গ্রহণ করে এখন সংসারের হাল ধরতে পেরেছি।’

কামারখন্দ উপজেলার শাহিন সেখ জানান, তিনি ইনস্টিটিউট থেকে চার মাস মেয়াদি গ্রাফিক্স ডিজাইনের প্রশিক্ষণ নিয়ে স্থানীয় বাজারে ফেস্টুন ও ব্যানার বানানোর কাজ করছেন। এতে তার বেকারত্ব দূর হয়েছে। এ কাজে এলাকায় বেশ সাড়া পাচ্ছেন তিনি।
একই প্রশিক্ষণ নিতে আসা আশরাফুল আহসান বলেন, চার বছর আগে এমবিএ শেষ করেছি। এখন গ্রাফিক্স ডিজাইনের ওপর প্রশিক্ষণ নিতে চাই। এজন্য বছরের শুরু থেকে সপ্তাহে পাঁচ দিন নিয়মিত চার ঘণ্টা করে ক্লাস করছি।

সিরাজগঞ্জ সরকারি কলেজ থেকে হিসাব বিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর শেষ করছেন মোকাদ্দেস ইসলাম আপন (২৯)। ২০১৭ সালে পড়াশোনা শেষ করলেও এখন পর্যন্ত চাকরি পাননি। এতদিনেও চাকরি না হওয়ার জন্য কর্মমুখী শিক্ষাগ্রহণ না করাকে দায়ী করছেন তিনি।
আরও পড়ুন: হাঁসেই চলে হোসেন আলীর সংসার
মেরিন টেকনোলজির গ্রাফিক্স ডিজাইনের প্রশিক্ষক মাহবুবুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, প্রতিনিয়ত অসংখ্য শিক্ষার্থী সাধারণ শিক্ষায় ডিগ্রি লাভ করছেন। কিন্তু সঙ্গে সঙ্গেই তাদের চাকরি হচ্ছে না। বেশকিছু সময় তারা বেকার থাকছেন। যা পুরো জাতির অর্থনীতির জন্য একটি বোঝাস্বরূপ। এজন্য কর্মমুখী শিক্ষা খুবই জরুরি।
.কথা হয় সিরাজগঞ্জ ইনস্টিটিউট অব মেরিন টেকনোলজির ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ প্রকৌশলী হারুন অর-রশীদের সঙ্গে। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, বাংলাদেশের জনশক্তি দেশের বাইরে কাজ পাচ্ছে না ভাষাগত অজ্ঞতার কারণে। মেরিন টেকনোলজিতে ভাষা শেখানোসহ বিদেশগামী কর্মীদের তিন দিনের ভিডিও ক্লাস নেওয়া হয় যাতে তারা বিদেশ গিয়ে কোনো সমস্যার সম্মুখীন না হন।
এম এ মালেক/এসআর/জেআইএম