পদ্মাপাড়ে রিকশা-ভ্যানচালকদের আনন্দঘন একটি দিন
রিকশা-ভ্যান চালকদের বনভোজন
হাঁড়ি-পাতিল, মাংস, চাল-ডাল নিয়ে পদ্মা নদীর পাড়ে এলো একদল রিকশা ও ভ্যানচালক। এদের মধ্যে কয়েকজন রান্নাবান্না শুরু করলেন। বাকিরা সবাই গানবাজনায় মেতে উঠলেন।
শনিবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৯টায় পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার মাজদিয়া গ্রামের পদ্মাপাড়ে গিয়ে এমন দৃশ্য চোখে পড়ে। রিকশা-ভ্যানচালকদের আনন্দ ও উল্লাস দেখে পদ্মা নদীর বাঁধের ওপর দিয়ে হেঁটে যাওয়া দুই রাশিয়ান নাগরিক এগিয়ে আসেন। বনভোজনে আমন্ত্রণ জানালে তারাও আনন্দ উল্লাসে মেতে ওঠেন। সবার সঙ্গে ছবি তুলতেও ভোলেননি তারা। দুই রাশিয়ানকে কাছে পেয়ে রিকশা-ভ্যানচালকরাও বেশ আনন্দিত।
আয়োজকরা জানান, অভাবের সংসারে আয়ের চিন্তায় রিকশা চালিয়ে কেটে যায় দিন। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যসামগ্রীর মূল্য বেড়ে যাওয়ায় পরিবারের সদস্যদের তিন বেলা খাবার জোটানো কষ্টকর হয়ে গেছে। ইচ্ছা থাকলেও কোথাও বেড়াতে বা ঘুরতে যাওয়া হয় না। রিকশা-ভ্যানচালকরা বেশকিছু দিন ধরে বনভোজনের চেষ্টা করছিলাম। অবশেষে আজ সবাই পদ্মাপাড়ে এসেছি। সারাদিন এখানে কাটালাম। খুব ভালো লাগলো।

রিকশাচালক সবুজ হোসেন বলেন, ‘অভাব-অনটন আর সংসারের টানাপোড়েন নিয়ে চিন্তাভাবনায় রাস্তাঘাটে দিন কেটে যায়। রাতে একরাশ ক্লান্তি নিয়ে বাড়ি ফিরে ঘুমিয়ে পড়ি। সকালে ঘুম থেকে উঠে আবার রিকশার হ্যান্ডেল ধরতে হয়। ঘোরাঘুরি আর আনন্দ উল্লাসের সুযোগ নাই। আজ সবাই এক হয়ে বনভোজনে এসেছি। খুব ভালো লাগলো।’
সবুজ আরও বলেন, ‘নিজেদের এতবড় আয়োজন করার মতো সামর্থ্য নেই। নিজেরা কিছু টাকার ব্যবস্থা করেছিলাম। বাকি টাকা দিয়ে সহযোগিতা করেছেন পৌর এলাকার রহিমপুরের ব্যবসায়ী আসাদুজ্জামান শিহাব ভাই। তিনি সামাজিক বিভিন্ন কাজকর্মের সঙ্গে থাকেন। গরীব ও দুঃখী মানুষকে সহযোগিতা করেন। তাকে সঙ্গে নিয়েই আমরা বনভোজনে এসেছি।’
রিকশাচালক দুখু মিয়া বলেন, ‘পদ্মাপাড়ে বনভোজনে এসে অনেক আনন্দ করেছি। যা কোনো ভাষা দিয়ে বোঝানো যাবে না।’

রিকশাচালক সাজু মিয়া বলেন, ‘সারাদিন পদ্মার পাড়ে সবাই একসঙ্গে খাওয়া ধাওয়া করেছি। নিজেরা গান গেয়েছি আনন্দ করেছি। খুব ভালো একটি দিন কাটলো। আমাদের সঙ্গে দুই রাশিয়ান নাগরিকও ছিলেন।’
বনভোজনে সহায়তাকারী আসাদুজ্জামান শিহাব বলেন, সমাজের অসহায়, গরিব ও দরিদ্র মানুষদের সবসময় সহযোগিতার আপ্রাণ চেষ্টা করি। রিকশা ও ভ্যানচালকরা আমাকে বেশ কিছু দিন আগে জানিয়েছিল বনভোজনের কথা। আমি তাদের সহযোগিতার চেষ্টা করেছি। সঙ্গে দুই রাশিয়ান নাগরিকও ছিলেন। তবে দিনভর তাদের যে আনন্দ ও উল্লাস দেখেছি, এতে আমি নিজেও খুব আনন্দ পেয়েছি।
শেখ মহসীন/এসজে/এমএস