কুয়াকাটায় ঢুকতে ৭ কিলোমিটার যানজট, দুর্ভোগে পর্যটকরা
সাপ্তাহিক ছুটির দিনে পর্যটকে কানায় কানায় পূর্ণ দেশের অন্যতম পর্যটনকেন্দ্র, সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের লীলাভূমি সাগরকন্যা কুয়াকাটা। শুধু পর্যটকই নয়, পর্যটকদের বহনকারী বাস, মাইক্রোবাস, মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহনে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে কুয়াকাটা-পটুয়াখালী রুটের মহিপুর থেকে কুয়াকাটা জিরো পর্যন্ত প্রায় ৭-৮ কিলোমিটার মহাসড়কে। এতে হেঁটে কুয়াকাটা পৌঁছাতে হচ্ছে সকল বয়সের পর্যটকদের।
শুক্রবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকেই লম্বা এ যানজটের কবলে পড়েন হাজার হাজার পর্যটক। যানজট নিরসনে ট্যুরিস্ট পুলিশ, থানা পুলিশ ও ট্রাফিক পুলিশের কয়েকটি টিম কাজ করলেও বাসস্ট্যান্ড না থাকায় হিমসিম খাচ্ছে প্রশাসন।

পর্যটক ও স্থানীয়রা যানজটের প্রধান কারণ হিসেবে যত্রতত্র যানবাহন পার্কিং এবং বাসস্ট্যান্ড না থাকাকে দায়ী করছেন। কুয়াকাটা-পটুয়াখালী মহাসড়কের দু’পাশে পার্কিং করে রাখা বাসগুলোর কারণে এই যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে বলে জানান তারা।
কুয়াকাটা ভ্যানচালক মালিক সমিতির সভাপতি মো. মাহলুম জানান, কুয়াকাটা-বরিশালগামী বাসগুলোই বড় সমস্যা। তারা গাড়িগুলো চৌরাস্তায় যেখানে সেখানে রেখে দেয়। যে কারণে সব গাড়ি জ্যামে আটকে থাকে। সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েন পর্যটকরা।
পর্যটক ইমরান খান বলেন, পরিবার নিয়ে কুয়াকাটায় এসেছি কিন্তু রাস্তায় প্রচুর জ্যাম থাকার কারণে মহিপুরে নামিয়ে দিয়েছে। নেমে অলরেডি ৪-৫ কিলোমিটার হেঁটে এসেছি, এখনও নাকি আরও ২-৩ কিলোমিটার বাকি। খুবই কষ্ট হচ্ছে ছোট-ছোট বাচ্চাদের নিয়ে।

অনুপম নামে আরেক পর্যটক বলেন, কুয়াকাটা পৌঁছাতে ৫-৬ কিলোমিটার পথ বাকি এমন জায়গায় বাস থেকে নামিয়ে দিয়েছে। অনেক অপেক্ষা করেও একটি অটো, ভ্যান কিছুই পাচ্ছি না। পরিবার নিয়ে মারাত্মক দুর্ভোগে পড়েছি।
দায়িত্বে থাকা কুয়াকাটা ট্যুরিস্ট পুলিশ জোনের সাব-ইন্সপেক্টর মো. জাফরুল জানান, অন্যান্য দিনের থেকে আজ শুক্রবার কয়েকগুণ পর্যটক বেড়েছে। তাই ট্যুরিস্ট, থানা ও ট্রাফিক পুলিশসহ বেশ কয়েকটি টিম কাজ করেও হিমসিম খাচ্ছি। তবে বাসস্ট্যান্ড থাকলে পর্যটকদের ভোগান্তির কিছুটা লাঘব হতো।
কুয়াকাটা পৌরসভার মেয়র আনোয়ার হাওলাদার জানান, তুলতলীতে ৬ একর জমির ওপর বাস টার্মিনাল নির্মাণের কাজ চলছে। বালু ভরাট শেষ হয়েছে, বেষ্টনী দেওয়ালের কাজ চলছে। তবে ঠিকাদারের গাফিলতির কারণে কিছুটা দেরি হচ্ছে। আশা করছি শিগগিরই এই যানজটের নিরসন হবে।
আসাদুজ্জামান মিরাজ/এফএ/জেআইএম