নওগাঁয় চালের বাজার স্থিতিশীল
এখন আমনের ভরা মৌসুম। সাধারণত এসময় চালের বাজার সহনীয় থাকার কথা। কিন্তু চিত্র উল্টো। চালের দাম কমার কোনো লক্ষণই নেই। গত ২০ দিন আগে উত্তরের জেলা নওগাঁয় চালের যে দাম বেড়েছিল তা এখনও রয়েছে। এরমধ্যে আবার নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম ঊর্ধ্বমুখী, সব মিলিয়ে নওগাঁয় নাভিশ্বাস মধ্য ও নিম্নবিত্তদের। এ অবস্থায় বাজার মনিটরিংয়ের দাবি ভোক্তাদের।
নওগাঁ পৌর ক্ষুদ্র চাল বাজার সূত্রে জানা যায়, ২০ দিন আগে মোটা চাল (স্বর্ণা-৫) ও সরু চালের দাম কেজিতে দুই টাকা এবং সুগন্ধি জাতের চাল ১০ টাকা বেড়েছিল। ওই দাম বাড়ার পর স্থিতিশীল রয়েছে। বর্তমানে মোটা চাল (স্বর্ণা-৫) প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে প্রকারভেদে ৪৮-৫২ টাকা, ব্রিআর-২৮ ও ২৯ জাতের চাল বিক্রি হচ্ছে ৫৮-৬০ টাকা, রনজিত ৫০-৫২ টাকা, জিরাশাইল ৬০-৬৫ টাকা এবং কাটারিভোগ ৭০-৭৫ টাকা। এছাড়া সবচেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে সুগন্ধি চিনিগুড়া চাল, যা কেজিপ্রতি ১২০-১৩০ টাকা।

আরও পড়ুন: চাল নিয়ে সিন্ডিকেটের ‘চালবাজি’
ভোক্তারা জানান, চালসহ নিত্যপণ্যের দাম ঊর্ধ্বমুখী হওয়ায় বিপাকে রয়েছেন তারা। বাজার মনিটরিংয়ের প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করছেন তারা।
শহরের আনন্দ বাজার মহল্লার বাসিন্দা হাবিবুর রহমান বলেন, ফেরিওয়ালার কাজ করে পরিবারের পাঁচ সদস্যের সংসার চলে। মোটা চালের ভাত খেতে ভালো লাগে না। তাই চিকন চাল কিনতে হয়। কিন্তু দাম বেশি থাকায় চাল কিনতে গিয়ে পড়তে হয় সমস্যায়। এছাড়া অন্যান্য নিত্যপণ্য যেমন ডিম, পোল্ট্রি মুরগি ও মাছের দামও বেশি। যা আয় হয় তা দিয়ে সংসার চালানো কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ছে। ঋণ হচ্ছে, দোকানে বাকি পড়ছে।

আরও পড়ুন: ব্রয়লার মুরগি-ডিমের দাম আরও বেড়েছে, ঊর্ধ্বমুখী মাংসও
খুচরা চাল ব্যবসায়ীরা বলছেন, ২০ দিন থেকে বাজারে সব ধরনের চালের দাম স্থিতিশীল রয়েছে। বাজার প্রায় ক্রেতা শূন্য হওয়ায় ব্যবসায় মন্দা। একান্ত প্রয়োজন ছাড়া চাল কিনছেন না কেউ। আমন মৌসুমের ধান অনেকের ঘরে থাকায় তারা বাজারে আসছেন না।
রুপা খাদ্য ভাণ্ডারের মালিক আক্কাস আলী বলেন, দাম বাড়ার পর গত ২০ দিন থেকে বাজারে সব ধরনের চালের দাম স্থিতিশীল। বেচাকেনা মন্দা। বাজার প্রায় ক্রেতা শূন্য বলা চলে। আমন ধান অনেকের ঘরে থাকায় তারা চাল কিনছেন না।
আরও পড়ুন: ডলারের দাম বাড়ায় চাল আমদানিতে অনীহা ব্যবসায়ীদের
নওগাঁ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, এ বছর এক লাখ ৯৬ হাজার ৩০০ হেক্টর জমিতে আমন ধানের আবাদ হয়েছে। এই পরিমাণ জমি থেকে নয় লাখ ৩২ হাজার ২১৫ টন ধান উৎপাদন হয়।
আব্বাস আলী/জেডএইচ/এমএস