ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

৫ দিন পর মায়ের কোলে ফিরে গেলো শিশু মাহিন

জেলা প্রতিনিধি | লক্ষ্মীপুর | প্রকাশিত: ১০:৫৭ এএম, ০৭ মার্চ ২০২৩

লক্ষ্মীপুরে স্বামীর সঙ্গে ঝগড়া করে ভিক্ষুকের কোলে রেখে যাওয়া তিনমাসের শিশু মাহিন হোসেন পাঁচদিন পর তার মায়ের কোলে ফিরেছে। সোমবার (৬ মার্চ) বিকেলে লক্ষ্মীপুর নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনালের বিচারক সাদেকুর রহমান শিশুটিকে তার মায়ের কোলে ফিরিয়ে দেওয়ার নির্দেশনা দেন। একইসঙ্গে এ ধরনের ঘটনার যেন পুনরাবৃত্তি না ঘটে সেজন্য শিশুটির মা সুরমা বেগমকে সতর্ক করে দিয়েছেন আদালত।

রাতে জেলা পুলিশ সুপার মাহফুজ্জামান আশরাফ আদালতের নির্দেশে শিশুটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে তার মায়ের কোলে তুলে দেন।

jagonews24

সুরমা বেগমের আইনজীবী মাহমুদুল হক সুজন বলেন, শিশুটিকে ফিরে পেতে তার মা সুরমা বেগম রোববার (৫ মার্চ) লক্ষ্মীপুর নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনালে আবেদন করেন। কিন্তু আদালত প্রথম দিন কোন সিদ্ধান্ত দেননি। সোমবার আদালত শিশুটিকে পরিবারের কাছে হস্তান্তরের নির্দেশ দেন।

এদিকে শিশুটিকে বুকে আগলে রেখে আদর-যত্নে বড় করতে চেয়েছিলেন নিঃসন্তান দম্পতি বেলাল হোসেন ও নিশি আক্তার। শিশুটি পাঁচদিন তাদের আদরেই ছিল। প্রথম যেদিন শিশুটিকে নিতে পরিবারের লোকজন থানায় এসেছিলেন তখন কান্নায় ভেঙে পড়েন ওই দম্পতি। মায়া জমলেও শিশুটিকে তার মায়ের কোলে ফিরিয়ে দিয়েছেন তারা।

জেলা পুলিশ জানায়, শিশুটির মা সুরমা বেগমের বাবার বাড়ি সদর উপজেলার ভবানীগঞ্জ চরমনসা গ্রামের মিয়ারবেড়ি এলাকায়। বুধবার (১ মার্চ) দুপুর ২টার দিকে শিশুটিকে ভিক্ষুক সালমা বেগমের (৭০) কাছে রেখে চলে যান সুরমা। ভিক্ষুক সালমার কাছ থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করে জেলা পুলিশ লক্ষ্মীপুর পৌরসভার কাউন্সিলর জসিম উদ্দিন মাহমুদের ভাই বেলালের পরিবারের হেফাজতে রাখেন। পরদিন বেলাল ও তার স্ত্রী নিশি আক্তার আদালতের মাধ্যমে শিশুটিকে দত্তক নেন। তবে শিশুটির পরিবারের খোঁজ পেলে ফিরিয়ে দেওয়ার নির্দেশনা ছিল আদালতের।

আরও পড়ুন: ভিক্ষুকের কোলে ৬ মাসের শিশু রেখে পালালেন মা

ফেসবুকে শিশুটির খোঁজ পেয়ে একইদিন রাতে মাসহ পরিবারের লোকজন শিশুটিকে নিতে সদর থানায় উপস্থিত হন। কিন্তু আইনি জটিলতার কারণে তখন শিশুটিকে ফিরিয়ে দেওয়া যায়নি।

শিশুটির মা সুরমা বেগম জানান, প্রতি মাসে তাকে ১১ হাজার টাকা ঋণ পরিশোধ করতে হয়। কিন্তু তার স্বামী মিরন কয়েক মাস ধরে সংসার খরচ দিচ্ছেন না। এ নিয়ে ঘটনার দিন স্বামীর সঙ্গে তার ঝগড়া হয়। ধার-দেনায় তিনি বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন। একপর্যায়ে ক্ষোভে শিশুটিকে ভিক্ষুকের কাছে রেখে চলে যান। বাড়িতে গেলে পরিবারের লোকজনের বকাঝকায় আবার শিশুটিকে খুঁজতে থাকেন। পরদিন ফেসবুকে শিশুটির সন্ধান পান। আর কখনো এ ধরনের ঘটনা ঘটাবেন না বলে জানিয়েছেন তিনি।

শিশুটির দাদা হাফিজ উল্যাহ বলেন, ‘নাতি মাহিনের প্রতি বেলাল ও তার স্ত্রী মায়া জমেছে। আমাদের কাছে মাহিনকে তুলে দেওয়ার সময় তারা কান্না করেছেন। তবে মাহিনকে নিয়ে আমরা মাঝেমধ্যে তাদের বাড়িতে যাবো বলে আশ্বাস দিয়েছি।’

jagonews24

লক্ষ্মীপুর পৌরসভার ১০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর জসিম উদ্দিন মাহমুদ বলেন, বিকেলে আদালত শিশুটিকে তার মায়ের কোলে ফিরিয়ে দিতে নির্দেশ দেন। পরে শিশুটিকে তার মায়ের কোলে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে লক্ষ্মীপুর পুলিশ সুপার মাহফুজ্জামান আশরাফ বলেন, ফেলে রেখে যাওয়া শিশুটি অবশেষে তার মায়ের কোলে ফিরেছে। ফুটফুটে শিশুটির হাসি খুব মধুর। আমি নিজেই মায়ায় পড়ে গেছি। আজীবন তার প্রতি একটি অনুভব থেকে যাবে।

শিশু মাহিন রামগতি উপজেলার চরবাদাম ইউনিয়নের পূর্ব চরসিতা গ্রামের সৌদি প্রবাসী মিরন হোসেনের ছেলে। মিরন-সুরমা দম্পতির সংসারে আরও তিন মেয়ে রয়েছে। তারা লক্ষ্মীপুর পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাঞ্চানগর এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকেন।

 

কাজল কায়েস/এসআর/জিকেএস