৩ ছাত্রলীগ নেতাকে মারধর: কুবিতে উত্তেজনা, মহাসড়ক অবরোধ
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) সদ্য বিলুপ্ত ছাত্রলীগ কমিটির তিন নেতাকে মারধরের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় ক্যাম্পাসজুড়ে উত্তেজনা বিরাজ করছে। সন্ধ্যা ৬টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ইলিয়াছ অনুসারীরা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে রাখেন।
বুধবার (৮ মার্চ) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন পাকিস্তানি মসজিদের পাশে এ ঘটনা ঘটে।
হামলার শিকার তিন ছাত্রলীগ নেতা হলেন, কুবির দত্ত হল শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এনায়েত উল্লাহ, সহসভাপতি সাইদুল ইসলাম রোহান ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সালমান চৌধুরী।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানায়, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সাবেক সাধারণ সম্পাদক রেজা-ই-ইলাহী গ্রুপের অনুসারী বিপ্লব দাসের নেতেৃত্বে কয়েকজন মিলে সাবেক সভাপতি ইলিয়াছ হোসেন সবুজের অনুসারী ও শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হল শাখার সাধারণ সম্পাদক এনায়েত উল্লাহ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সালমান চৌধুরী এবং সাইদুল ইসলাম রোহানকে পাকিস্তানি মসজিদের পাশে পেয়ে মারধর করেন। এ ঘটনায় মুহূর্তের মধ্যে ক্যাম্পাসে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
পরে ইলিয়াছ হোসেন সবুজের অনুসারীরা জড়ো হয়ে ক্যাম্পাসে মিছিল বের করেন। এক পর্যায়ে ক্যাম্পাস সংলগ্ন একটি গ্যারেজ ও একটি দোকান ভাঙচুর করেন তারা। পরে বিশ্ববিদ্যায়ের সামনের সড়কটি অবরোধ করে বিপ্লব দাসসহ মারধরের সঙ্গে জড়িতদের বিচার দাবি করে স্লোগান দিতে থাকেন। বিকেল সাড়ে ৫টা থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বেলতলী এলাকায় অবরোধ করে রাখেন।
এ বিষয়ে হামলার শিকার ছাত্রলীগ নেতা সালমান চৌধুরী জাগো নিউজকে বলেন, সবেমাত্র আমি আল আমিন ভাইয়ের দোকানের সামনে আসছি, তখন আমাকে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের সেক্রেটারি বিপ্লব ডাক দিয়ে বলে, ‘তুই বহিষ্কৃত, ক্যাম্পাসে কী?’ কিছু বুঝে ওঠার আগেই অর্থনীতি অষ্টম ব্যাচের কাওসার আমাকে ঘুষি মারে এবং আল আমিন ভাইয়ের দোকান থেকে লাঠি নিয়ে আমার গায়ে, হাতে ও পায়ে আঘাত করে। এরপর আরেকজন আমাকে ধাক্কা দিয়ে সিএনজিতে করে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে এনায়েত ভাইকে মাথায় আঘাত করার সময় আমার হাতে লেগে যায়।
সাবেক সভাপতি ইলিয়াছ হোসেন সবুজ ও সাধারণ সম্পাদক রেজা-ই-ইলাহীকে একাধিকবার ফোন করেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর (ভারপ্রাপ্ত) কাজী ওমর সিদ্দিকী বলেন, আমরা জানার সঙ্গে সঙ্গে এখানে এসেছি এবং দ্রুত পুলিশ প্রশাসনকে জানিয়েছি। এখানে এনায়েতকে যারা মেরেছে তারা কেউই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র না।
দক্ষিণ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দেবাশীষ চৌধুরী বলেন, খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছি। এ বিষয়ে পরে আপনাদের বিস্থারিত জানানো হবে।
জাহিদ পাটোয়ারী/এফএ/এমএইচআর