ভিডিও EN
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

বাঘাবাড়ি নৌবন্দর

৩ মাস ধরে ভিড়ছে না জাহাজ, জমেছে কচুরিপানা

এম এ মালেক | প্রকাশিত: ১২:৩৫ পিএম, ০৬ এপ্রিল ২০২৩

উত্তরবঙ্গের সবচেয়ে বড় নৌবন্দর হলো সিরাজগঞ্জের বাঘাবাড়ি। চট্টগ্রাম, খুলনা ও মোংলাসহ দেশের বিভিন্ন নৌবন্দর থেকে প্রতিদিনই সার, কয়লা, সিমেন্ট ও তেলসহ বিভিন্ন পণ্য নিয়ে এ বন্দরে অসতো জাহাজ। তবে নাব্য সংকটে তিন মাস ধরে ভিড়তে পারছে না কোনো পণ্যবাহী জাহাজ। ফলে ঘাটের চারদিকে জমে আছে কচুরিপানা। কাজ না থাকায় বেকার হয়ে পড়েছেন বন্দরের প্রায় পাঁচ শতাধিক শ্রমিক।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শুষ্ক মৌসুমের শুরু থেকেই যমুনা নদীতে পানি কমতে থাকে। ওই ঘাট এলাকায় বড় জাহাজ চলাচলে ১০-১৫ ফুট পানির গভীরতা প্রয়োজন হলেও আছে ৫-৭ ফুট। তাই কোনো জাহাজ ভিড়তে পারছে। দূর থেকে কার্গোতে নিয়ে মালামাল তীরে আনা হচ্ছে।

বুধবার (৫ এপ্রিল) সকালে বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক ফেডারেশনের সহ-সভাপতি আব্দুল ওয়াহাব মিয়া বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এ সময় তিনি জাগো নিউজকে জানান, নদীর পানি কমে যাওয়ায় অনেক ডুবচর জেগে উঠেছে। ফলে তিন মাস ধরে কোনো পণ্যবাহী জাহাজ বাঘাবাড়ি নৌবন্দরে আসতে পারছে না। এতে বন্দরের প্রায় পাঁচ শতাধিক শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছে। তিনি এ সমস্যা সমাধানে নদী ড্রেজিং করতে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

নৌবন্দর শ্রমিক প্রতিনিধি আবুল সরকার জাগো নিউজকে বলেন, দৌলতদিয়া ও পাটুরিয়া ঘাট এলাকায় জাহাজগুলো আটকে যাওয়ায় লাইটারেজ জাহাজ ও কার্গোতে করে বন্দরে আনতে হচ্ছে পণ্য। এতে বাড়তি খরচ গুনতে হচ্ছে ব্যবসায়ী ও ঘাট ইজারাদারদের। আর বন্দরে বড় জাহাজ ভিড়তে না পারায় বেকার হয়ে পড়ছে বন্দর শ্রমিকরা।

৩ মাস ধরে ভিড়ছে না জাহাজ, জমেছে কচুরিপানা

বাঘাবাড়ি নৌবন্দরের শ্রমিক আলমগীর হোসেন, ওমর ফারুক ও জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ৪০ বছরেও এ নৌ বন্দর জাহাজ শূন্য হয়নি। কিন্তু তিন মাস ধরে ডুবচর ও নাব্য সংকটের কারণে জাহাজ ভিড়তে পারছে না। ফলে পাঁচ শতাধিক শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছে। এখন আমরা পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছি।

বাঘাবাড়ি নৌবন্দরের বাফার গুদামের কর্মকর্তা হারুন আর রশিদ জাগো নিউজকে বলেন, উত্তরাঞ্চলের ১৬ জেলার ১৪টি বাফার গুদামে আপদকালীন সার মজুত আছে। ফলে এ সমস্যায় সার সংকটের সম্ভাবনা নেই।

জেলা বিআইডব্লিউটিএর উপ-পরিচালক আসাদুজ্জামান জাগো নিউজকে বলেন, বাঘাবাড়ি নৌবন্দর দ্বিতীয় শ্রেণির। বন্দরটিকে প্রথম শ্রেণিতে রূপান্তরের চেষ্টা চলছে। এটি হয়ে গেলে এ সমস্যা আর থাকবে না।

এসজে/জেআইএম