খুলনা সিটি নির্বাচন
আগ্রহ আছে বিএনপি নেতাদের, আওয়ামী লীগে প্রার্থিতার জট
পোস্টার, ব্যানার ও ফেস্টুন টাঙাচ্ছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা
খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন ১৬ মে। এরই মধ্যে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী নির্ধারণ হলেও বিএনপির কোনো প্রার্থীর নাম এখনো শোনা যায়নি। নির্বাচনে অংশ নিতে প্রবল আগ্রহ থাকলেও দলীয় সিদ্ধান্তের কারণে মুখে কুলুপ এঁটেছেন নেতাকর্মীরা।
‘বর্তমান সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচন নয়’ বিএনপির এমন সিদ্ধান্তের কারণে দোটানায় পড়েছেন নির্বাচনে অংশ নিতে ইচ্ছুক শতাধিক কাউন্সিলর প্রার্থী প্রত্যাশী। বিএনপি যদি নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্তে অটল থাকে তাহলে পদ পদ ছাড়তেও প্রস্তুত অনেক নেতা। এমন খবর খুলনায় ছড়িয়ে পড়েছে আরও আগে। তাদের ধারণা নির্বাচনে অংশ নিলে তারা জয়লাভ করবেন। তবে এখনো কাউকে প্রচারণায় মাঠে দেখা যায়নি।
অপরদিকে, মেয়র পদে প্রার্থী নির্ধারণ হলেও কাউন্সিলর পদে দলীয় ব্যানারে নির্বাচন হবে নাকি যে যার মত নির্বাচন করবেন, তা নিয়ে এখনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি আওয়ামী লীগ।
ফলে খুলনা সিটি করপোরেশনের ৩১টি ওয়ার্ড ও সংরক্ষিত ১০ ওয়ার্ডের জন্য দুই শতাধিক নেতাকর্মী ছুটছেন মাঠে। এক একটি ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের অন্তত তিন জন প্রার্থী ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ছুটছেন। তারা ভোটারদের সঙ্গে বিনিময় করছেন ঈদ শুভেচ্ছা, লাগিয়েছেন বিলবোর্ড, ফেস্টুন ও পোস্টার।
খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এমডিএ বাবুল রানা জাগো নিউজকে বলেন, সিটি নির্বাচনে শুধুমাত্র দলীয় প্রতীকে নির্বাচন করে মেয়র। কাউন্সিলরদের কোনো দলীয় প্রতীক থাকবে না। তবে আমরা দলীয়ভাবে প্রত্যেক ওয়ার্ডে একজন করে সর্বাধিক জনপ্রিয় ও ত্যাগী নেতাকে মনোনীত করার চেষ্টা করবো। তবে কেন্দ্র থেকে যদি কোনো সিদ্ধান্ত আসে তাহলে সে মোতাবেক কাজ করবো।

তবে খুলনা মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এসএম শফিকুল আলম মনা জাগো নিউজকে বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচনেই বিএনপি অংশ নেবে না। মেয়র থেকে কাউন্সিলর পর্যন্ত কাউকে দলীয় মনোনয়নও দেওয়া হবে না। দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করে কেউ প্রার্থী হলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এমনকি দল থেকে বহিষ্কার করাও হতে পারে।
বিএনপির একাধিক সূত্র জানায়, বর্তামানে খুলনা সিটি করপোরেশনে ৩১টি ওয়ার্ড আছে। এছাড়া নারীদের জন্য সংরক্ষিত ১০টি আসন আছে। এ ৪১টি আসনে বিএনপির শতাধিক সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থী আছেন।
নেতার জানান, কেসিসিতে ১৯৯৪ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত পাঁচটি নির্বাচন হয়েছে। এর মধ্যে মেয়র পদে তিনবার বিএনপি ও দুবার আওয়ামী লীগের প্রার্থী বিজয়ী লাভ করেছে। একইভাবে অনেক ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের প্রার্থী তুলনায় বেশি জনপ্রিয় বিএনপির কাউন্সিলর প্রার্থীরা আছেন।

বর্তমানে কেসিসির ১৯ নম্বর ওয়ার্ডে কাউন্সিলর আছেন আশফাকুর রহমান কাকন। তিনি মহানগর বিএনপির সদস্য ও টানা তিনবারের বিজয়ী কাউন্সিলর। তিনি বলেন, এলাকার লোকজন আবারও আমাকে নির্বাচন করতে বলছে। সে কারণে বিএনপি যদি নির্বাচনে না যায় তাহলে আমি স্বতন্ত্র প্রার্থী হবো।
১৮ নম্বর ওয়ার্ডে টানা দুবার কাউন্সিলর হয়েছেন মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য হাফিজুর রহমান মনি। তিনি বলেন, নির্বাচনের জন্য বেশ আগে থেকেই প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছি। এ ওয়ার্ডে আমার থেকে জনপ্রিয় কোনো প্রার্থী নেই। এখনো দলের সিদ্ধান্ত নিয়ে বেশ বিড়ম্বনায় আছি। দলকে জানাবো নির্বাচনে আগ্রহের কথা।
নাম না প্রকাশ করার শর্তে এক ডজন বিএনপি নেতা জানিয়েছেন, তারা দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে কাউন্সিলর পদে নির্বাচন করবেন।

এছাড়া নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য গত কয়েক বছর ধরে নিজ এলাকায় প্রচারণা চালিয়েছেন একাধিক বিএনপি নেতা। এর মধ্যে সংরক্ষিত ১ নম্বর ওয়ার্ডে মহানগর মহিলা দলের সহ-সভাপতি চমন আক্তার, সংরক্ষিত ৫ নম্বর ওয়ার্ডে সাবেক কাউন্সিলর ও মহানগর মহিলা দলের সিনিয়র সহ-সভাপতি আনজিরা খাতুন, সংরক্ষিত ৬ নম্বর ওয়ার্ডে সাবেক কাউন্সিলর ও মহানগর মহিলা দলের যুগ্ম সম্পাদক হাসনা হেনা, সংরক্ষিত ৭ নম্বর ওয়ার্ডে মহানগর মহিলা দলের সাংগঠনিক সম্পাদক সামছুন নাহার লিপি, সংরক্ষিত ৯ নম্বর ওয়ার্ডে মহানগর মহিলা দলের যুগ্ম সম্পাদক কাওছারী জাহান মঞ্জু, সংরক্ষিত ১০ নম্বর ওয়ার্ডে সাবেক কাউন্সিলর ও মহানগর মহিলা দলের সহসভাপতি রোকেয়া ফারুক, ২৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও সাবেক কাউন্সিলর ওয়াহেদুর রহমান দিপু, ২৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি নজরুল ইসলাম বাবু, ২২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির নেতা ও সাবেক কাউন্সিলর মাহাবুব কায়সার, ১৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান বিশ্বাস, ১৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির আহ্বায়ক ও সাবেক কাউন্সিলর শেখ শাহিনুল ইসলাম পাখি, ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির আহ্বায়ক শেখ ইমাম হোসেন। এদের অনেকেই শেষ পর্যন্ত রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত দেখার অপেক্ষায় আছেন।
৩ এপ্রিল খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। ওই তফসিল অনুযায়ী ১২ জুন ভোটগ্রহণ হবে। এছাড়া নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন ১৬ মে, বাছাই ১৮ মে এবং ২৫ মে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন।
আলমগীর হান্নান/এসজে/জেআইএম