চলাচলের রাস্তায় বাঁশের বেড়া, অবরুদ্ধ ৮ পরিবার
আদালতের জারি করা স্থিতাবস্থা অমান্য করে ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার বানেশ্বরদী গ্রামে আট পরিবারের চলাচলের রাস্তায় বাঁশের বেড়া দিয়েছেন রেজাউল আলম রাজিব নামের এক প্রভাবশালী।
এতে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন অর্ধশত মানুষ। খবর পেয়ে নগরকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাময়িকভাবে যাতায়াতের ব্যবস্থা করলেও সেখান দিয়ে কৃষি ফসল আনা-নেওয়া করা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

স্থানীয় ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা গেছে, নগরকান্দা উপজেলার বানেশ্বরদী মৌজার ৬৪০ নম্বর দাগের আট শতাংশ জমি দাতা সোহেল শরিফের কাছ থেকে কেনেন স্থানীয় বিএনপি নেতা রেজাউল আলম রিজুর ভাই রবিউল আলম। ওই জমির অন্য অংশীদারদের (দাতার উত্তরাধিকার) দাবি, রেজাউল আলম রিজু প্রভাবশালী এবং তারা গ্রাম্য রাজনীতির প্রতিপক্ষ হওয়ায় ওই আট শতাংশের দলিলকে পুঁজি করে যাতায়াতের পথসহ পুরো জমির সামনের প্রায় ৪০ শতাংশ জায়গা বাঁশের বেড়া দিয়েছেন। এতে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন ওই জমির অংশীদারসহ আটটি পরিবার। অবরুদ্ধ পরিবারগুলো হলো আয়ুব শেখ, ইমারত মোল্লা, বাশার মোল্লা, জাহিদ মোল্লা, সুরুজী বেগম, জবেদা বেগম, বাশার মোল্লা ও ইউনুস মোল্লা।
জমিতে বেড়া দেওয়ার পর অংশীদারদের পক্ষে আদালতের শরণাপন্ন হন ইমারত মোল্লা। ১৩ এপ্রিল আদালত ওই জমির ওপর স্থিতাবস্থা জারি করেন, যার নোটিশ ১৪ এপ্রিল জারি করা হয়। কিন্তু ১৫ এপ্রিল স্থিতাবস্থা ভঙ্গ করে শতাধিক লোকজন নিয়ে নালিশি জমির সামনের সম্পূর্ণ অংশে বাঁশের বেড়া দিয়ে জোরপূর্বক আটকে দেন রিজু গংরা। এতে বিপাকে পড়েছেন পরিবারগুলোর সদস্যরা।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত রেজাউল আলম রাজিব বলেন, তার ভাইয়ের কেনা জমিতেই বেড়া দিয়ে দখলে নিয়েছেন। আদালতের নির্দেশনা অমান্য করে দখলের বিষয়টি অস্বীকার করে তিনি বলেন, বেড়া নির্মাণ করা হলেও মানবিক কারণেই যাতায়াতের কিছুটা ব্যবস্থা করে রেখেছেন। তবে অবরুদ্ধরা তার কাছে গিয়ে আবেদন জানালে তিনি বিষয়টি ভেবে দেখবেন।
নগরকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিরাজ হোসেন বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে যায়। তাদের যাতায়াতের পথ রাখার ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়েছে।

অবরুদ্ধ করে রাখার খবর পেয়ে সেখানে গিয়ে সাময়িকভাবে যাতায়াতের ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে জানান নগরকান্দা উপজেলা নিবাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মঈনুল হক।
তিনি বলেন, স্থিতাবস্থা ভঙ্গ করা হয়ে থাকলে আদালতকে জানালে আদালত পরবর্তী নির্দেশনা দেবেন। স্থায়ী সমাধানের ক্ষেত্রেও আদালতের সিদ্ধান্ত প্রয়োজন বলে জানান তিনি।
এন কে বি নয়ন/এসআর/এমএস