রিমান্ডে ২ আসামির স্বীকারোক্তি
‘৭-৮টি ট্রলারের লোকজনকে একটি ট্রলার ঘিরে ডাকাত বলে মারতে দেখেছি’
কক্সবাজারের নাজিরারটেক পয়েন্টে ট্রলার থেকে ১০ মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় করা মামলায় বাঁশখালীর ফজল কাদের ও আবু তৈয়ব মাঝির আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন।
তিনদিনের রিমান্ড শেষে রোববার (৩০ এপ্রিল) বিকেলে কক্সবাজার সদরের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শ্রীজ্ঞান তঞ্চ্যঙ্গার আদালতে হাজির করার পর তারা এ জবানবন্দি দেন।
জবানবন্দিদাতারা হলেন বাঁশখালীর কুদুকখালী এলাকার মৃত সিরাজুল হকের ছেলে ফজল কাদের মাঝি (৩০) ও শামসুল আলমের ছেলে আবু তৈয়ব মাঝি (৩২)।
১০ মরদেহ উদ্ধারের মামলায় মঙ্গলবার (২৫ এপ্রিল) তাদের আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছিল র্যাব। এরপর আদালতের নির্দেশে বৃহস্পতিবার (২৭ এপ্রিল) তিনদিনের রিমান্ডে নেওয়া হয় তাদের। রিমান্ড শেষে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কক্সবাজার সদর থানার পরিদর্শক দুর্জয় বিশ্বাস দুজনকে আদালতে হাজির করেন।
পরিদর্শক দুর্জয় বিশ্বাস জানান, রিমান্ডে তারা স্বীকার করেছেন ৯ এপ্রিল সাগরে একটির ট্রলারকে (সামশু মাঝির) ঘিরে ৭-৮টি ট্রলারের লোকজন ‘ডাকাত’ ‘ডাকাত’ বলে মারতে দেখেছেন। যারা মারধর করছিলেন তারা সবাই মহেশখালীর মানুষ। তারা বাঁশখালীর বাসিন্দা হওয়ায় সেখানে ট্রলার না থামিয়ে বাঁশখালী চলে যান।
একই মামলায় ২৫ এপ্রিল চকরিয়া উপজেলার বদরখালী এলাকা থেকে গিয়াস উদ্দিন মুনির (৩২) নামের আরেকজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। মুনির বদরখালী এলাকার নুর নবীর ছেলে। তার তিনদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
রোববার (২৩ এপ্রিল) গুরা মিয়া নামের এক ব্যক্তির মালিকানাধীন একটি ট্রলার সাগরে ভাসমান থাকা একটি ট্রলার নাজিরারটেক উপকূলে নিয়ে আসে। ওই ট্রলারের হিমঘরে হাত-পা বাঁধা ১০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরই মধ্যে উদ্ধার ছয়জনের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করলেও মর্গে রয়ে গেছে চারটি ও একটি কঙ্কাল। ডিএনএ পরীক্ষার পর তাদের পরিচয় নিশ্চিত হলে এ পাঁচজনকে হস্তান্তর করা হবে।
সায়ীদ আলমগীর/এসআর