ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

চাঁদা তুলে নিজেরাই রাস্তা নির্মাণ করলেন এলাকাবাসী

জেলা প্রতিনিধি | ফরিদপুর | প্রকাশিত: ০৮:৫১ এএম, ০২ মে ২০২৩

সরকারি সহায়তা না পেয়ে চাঁদা তুলে নিজেরাই রাস্তা নির্মাণ করলেন ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার টগরবন্দ ইউনিয়নের টিটা মিয়াপাড়ার বাসিন্দারা। মাটি ভরাট করে ২০০ মিটার রাস্তা নির্মাণ করেন তারা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার টিটা মিয়াপাড়ায় তিন শতাধিক পরিবারের সহস্রাধিক মানুষের বসবাস। এলাকায় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দুটি মসজিদ, ঈদগাহ ও গোরস্থান রয়েছে। বর্ষা মৌসুমে গ্রাম থেকে উপজেলা সদরসহ বিভিন্ন স্থানে যাতায়াতে গ্রামবাসীর চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। বর্ষার দিনে পানিতে ভিজে বা নৌকায় যাতায়াত ছাড়া কোনো বিকল্প থাকে না। এ অবস্থায় সরকারের গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার (কাবিটা) প্রকল্পের আওতায় টিটা খাঁপাড়া মহল্লা থেকে মিয়াপাড়া মহল্লায় সংযোগ রাস্তা তৈরির জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়। কিন্তু রাস্তাটির ১৯০০ মিটারের মধ্যে ১৭০০ মিটার কাজ হওয়ার পর প্রকল্পের বরাদ্দ শেষ হয়ে যায়। এরপর থেকে বাকি ২০০ মিটারের কাজ বন্ধ ছিল। বাধ্য হয়ে চাঁদা তুলে প্রায় দেড় লাখ টাকা ব্যয়ে রাস্তার বাকি অংশের কাজ করেছেন এলাকাবাসী।

স্থানীয় ইউপি সদস্য (মেম্বার) আবু সাইদ পটু মিয়া জাগো নিউজকে বলেন, রাস্তাটি এলাকাবাসীর কোনো কাজে আসছিল না। যে কারণে অসমাপ্ত ২০০ মিটার রাস্তা নির্মাণের জন্য এইচ এম খায়ের মিয়া, জাহাঙ্গীর মিয়া, কাইজার মিয়া, দেলোয়ার মিয়াসহ আরও কয়েকজন রাস্তাটি নির্মাণে উদ্যোগী হন। এরপর তারা এলাকাবাসীর সঙ্গে আলোচনা করে রাস্তা নির্মাণের কাজ শুরু করেন।

স্থানীয় বাসিন্দা খায়ের মিয়া জাগো নিউজকে বলেন, রাস্তাটির জন্য এলাকাবাসীর চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। সরকারিভাবে নির্মাণ করা হলেও রাস্তাটি অসম্পূর্ণ থেকে যায়। তাই রাস্তাটি সম্পূর্ণ করার উদ্যোগ নিলে গ্রামের সবাই ঝাঁপিয়ে পড়েন। যে যার সামর্থ্য অনুযায়ী চাঁদা দিয়ে আমাদের সহায়তা করেছেন।

আরেক বাসিন্দা জাহাঙ্গীর মিয়া জাগো নিউজকে বলেন, গ্রামের বেশিরভাগ মানুষ কৃষিকাজের ওপর নির্ভরশীল। বিভিন্ন কৃষিপণ্য নিতে অনেক পথ পাড়ি দিতে হতো। রাস্তার কাজ শেষ হওয়ায় এখন পণ্য পরিবহনে সময় ও খরচ অনেকাংশে কমে যাবে।

এ বিষয়ে টগরবন্দ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিয়া আসাদুজ্জামান বলেন, ওই এলাকায় যাতায়াতের জন্য কাবিটা প্রকল্পের মাধ্যমে রাস্তা নির্মাণ করা হয়। কিন্তু প্রকল্পের বরাদ্দ শেষ হওয়ার কারণে কাজ অসম্পূর্ণ ছিল। সরকারিভাবে রাস্তাটির নির্মাণকাজ পুরোপুরি শেষ করতে অপেক্ষা করতে বলা হয়। তার আগেই এলাকাবাসীরা নিজ উদ্যোগে রাস্তাটির কাজ শেষ করেছেন।

আলফাডাঙ্গা উপজেলা প্রকৌশলী (স্থানীয় সরকার বিভাগ) রাহাত ইসলাম বলেন, স্বেচ্ছাশ্রমে রাস্তা নির্মাণ প্রশংসনীয় কাজ। তবে রাস্তাটি এলজিইডির আইডিভুক্ত নয়। নিয়ম অনুযায়ী রাস্তাটি পাকাকরণের চেষ্টা করা হবে।

এ বিষয়ে আলফাডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রফিকুল হক বলেন, এলাকাবাসী ভালো কাজ করেছেন। আগামীতে এরকম ভালো কাজে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা করা হবে।

 

এন কে বি নয়ন/এসআর/জিকেএস