ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

গাজীপুর সিটি নির্বাচন

সুষ্ঠু ভোটে আস্থার সংকট, ইভিএমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া

জেলা প্রতিনিধি | গাজীপুর | প্রকাশিত: ০৯:৩২ এএম, ১২ মে ২০২৩

আগামী ২৫ মে গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন। নির্বাচন ঘিরে পুরো নগরীতে শুরু হয়েছে উৎসবমুখর আমেজ। মেয়র, ১৯ ওয়ার্ডে সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর ও ৫৭ ওয়ার্ডে সাধারণ কাউন্সিলর প্রার্থীদের বিরামহীন প্রচারণা চলছে। ভোটের মাঠে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী আজমতউল্লা খান ছাড়াও রয়েছেন আলোচিত সাবেক মেয়র জাহাঙ্গীর আলমের মা ঘড়ি প্রতীকের স্বতন্ত্রপ্রার্থী জায়েদা খাতুন, জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী এমএম নিয়াজ উদ্দিন ও ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী গাজী আতাউর রহমান, স্বতন্ত্রপ্রার্থী হাতি প্রতীকের সরকার শাহনুর ইসলাম রনিসহ আটজন মেয়র প্রার্থী।

কয়েকজন মেয়র প্রার্থী জানান, ভোটের জন্য জনগণের কাছে গেলে সবাই প্রশ্ন তুলছেন সুষ্ঠু ভোট হবে তো? ভোট নিয়ে তাদের মাঝে এক ধরনের আস্থার সংকট রয়েছে।

আরও পড়ুন: মেয়র জাহাঙ্গীরের মাকে কারণ দর্শানো নোটিশ 

জাতীয় পার্টির প্রার্থী এমএম নিয়াজ উদ্দিন বলেন, ২০১৮ সালের গাজীপুর সিটি করপোরেশন ও জাতীয় সংসদের ভোট নিয়ে সাধারণ ভোটারদের মাঝে যে তিক্ত অভিজ্ঞতা হয়েছে সেটা এখনো কাটিয়ে ওঠা যায়নি। ভোটাররা আশঙ্কা করেন কেন্দ্রে যেতে পারবেন কি না বা গেলেও তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারবেন কি না। তালগাছে ভোট দিলে তা বেলগাছে গিয়ে পড়বে কি না।

যদিও বুধবার প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী হাবিবুল আউয়াল গাজীপুর সিটির নির্বাচনের সব প্রার্থীর সঙ্গে মতবিনিময় সভায় সুষ্ঠু ভোটের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। সুষ্ঠু ভোট করতে তিনি পুলিশ ও প্রশাসনের নিরপেক্ষ ভূমিকায় থাকার কথাও বলেন। কিন্তু প্রধান নির্বাচন কমিশনের এ বার্তাটি নগরীর ভোটার ও সাধারণ জনগণ কতটুকু আস্থায় নিয়েছে তা সময় এলেই বোঝা যাবে।

তিনি বলেন, আগের নির্বাচনগুলোতে সবাই বলেছে- সুষ্ঠু ভোট হবে। কিন্তু ভোটের দিন সেই কথার প্রতিফলন দেখা যায়নি।

আরও পড়ুন: হাইকোর্টে রিট খারিজের বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরের আপিল 

স্বতন্ত্রপ্রার্থী সরকার শাহনুর ইসলাম রনি বলেন, ২০১৮ সালে গাজীপুর সিটি নির্বাচনের আগের দিন ধানের শীষের প্রার্থীর সব এজেন্টকে গাজীপুর থেকে বের করে দেওয়া হয়। কোনো অভিযোগ দিয়েও প্রতিকার পাওয়া যায়নি। তখনও বলা হয়েছিল সুষ্ঠু ভোট হবে। কিন্তু সে সময়ও সুষ্ঠু ভোট হয়নি। তাই এবারও সুষ্ঠু ভোটের আশঙ্কা রয়েছে অনেকের মাঝেই।

নগরীর এক কাউন্সিলর প্রার্থী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ইভিএম বিষয়ে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন কথা শুনি। এটি সম্পর্কে আমার নিজের এবং এলাকার ভোটারদের তেমন কোনো ধারণা নেই। অনেকে বলে ইভিএমে ভোট পরিবর্তন হয়ে যায়। এক জায়গার ভোট অন্য জায়গায় চলে যায়। এ বিষয়টি নিয়ে ভোটারদের আস্থার মধ্যে আনতে হবে।

২৩ নম্বর ওয়ার্ডের ভোটার আশরাফ আলী বলেন, ২০১৮ সালের নির্বাচন আমাদের ভয় দিয়ে গেছে। সে স্মৃতি এখনো মুছে যায়নি। এখন এবারের নির্বাচন কী হবে সেটি নিয়ে ভাবনায় আছি। মনে হচ্ছে সুষ্ঠু ভোট হবে।

আবু বকর নামের এক স্কুলশিক্ষক জানান, ২০১৮ ও ২০২৩ সময়টা ভিন্ন। ইভিএমে ভোট চুরির শঙ্কা নেই। কেউ জাল ভোট দিতে পারবে না। নিজের ভোট নিজে দিতে পারলে ভোট নষ্ট হবে না। ইভিএমে ভোট দেওয়া খুব সহজ। তবে ইভিএমের বিষয়টি সাধারণ মানুষের কাছে হারে প্রচার করতে হবে।

নির্বাচনে মেয়র পদে আটজন, সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে ৭৮ ও সাধারণ কাউন্সিলর পদে ২৪৩ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। নির্বাচনে ৫৭ ওয়ার্ডে ৪৮০টি ভোটকেন্দ্রে তিন হাজার ৪৯৭টি ভোটকক্ষ থাকবে। এখানে ভোটার সংখ্যা ১১ লাখ ৭৯ হাজার ৪৭৬। এদের মধ্যে পুরুষ পাঁচ লাখ ৯২ হাজার ৭৬২ জন ও নারী পাঁচ লাখ ৮৬ হাজার ৬৯৬ জন।

এ নির্বাচনে ৪৮০ জন প্রিসাইডিং কর্মকর্তা, তিন হাজার ৪৯৭ জন সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা এবং ৬ হাজার ৯৯৪ জন পোলিং কর্মকর্তা ভোটগ্রহণে মাঠে থাকবেন।

মো. আমিনুল ইসলাম/আরএইচ/জিকেএস