ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

নামের মিলে ৩ দিন জেল খাটলেন ইমাম

জেলা প্রতিনিধি | বরিশাল | প্রকাশিত: ১১:৫২ এএম, ০৪ জুলাই ২০২৩

বরিশালের বাকেরগঞ্জে নামের মিল থাকায় যৌতুক মামলায় তিনদিন কারাভোগ করেছেন সিরাজুল ইসলাম হাওলাদার নামের এক ইমাম। ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে ঢাকা থেকে বরিশালে গ্রামের বাড়িতে গিয়ে এমন ঘটনার শিকার হয়েছেন বলে জানান তিনি। তবে পুলিশের ভুলেই এমনটা হয়েছে বলে দাবি ভুক্তভোগী সিরাজুলের।

মামলার প্রকৃত আসামি একই গ্রামের আরেক সিরাজুল ইসলাম বিষয়টি আদালতে নিশ্চিত করার পর রোববার (২ জুলাই) বিকেল ৫টার দিকে বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পান ওই ইমাম।

এর আগে ঈদুল আজহা উদযাপন করতে সিরাজুল বাড়িতে এলে শুক্রবার (৩০ জুন) দুপুরে তাকে গ্রেফতার করেন বাকেরগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. গোলাম কিবরিয়া।

ভুক্তভোগী সিরাজুল ইসলাম ঢাকায় একটি মসজিদে ইমামতি করেন। তিনি বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার রঙ্গশ্রী ইউনিয়নের বোয়ালিয়া গ্রামের মেনহাজ হাওলাদারের ছেলে।

সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘আমার ও আসামির নাম একই। দুজনই হাওলাদার বংশের। তার ওপর আমার বাবা ও আসামি সিরাজুলের বাবার নামও এক। আমাদের ঠিকানাও একই গ্রামে। তাই পুলিশের ভুল হয়েছে। শুক্রবার দুপুর দেড়টার দিকে আমাকে বাড়ি থেকে গ্রেফতার করেন বাকেরগঞ্জ থানার এসআই কিবরিয়া। পরে জানতে পারি সোনিয়া নামের এক গৃহবধূর যৌতুক মামলার আসামি আমি। ওই মামলায় আমাকে গ্রেফতার দেখিয়ে শুক্রবার বিকেলে কারাগারে পাঠানো হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘গ্রেফতারের পর গ্রামের স্বজনরা মামলার কাগজপত্র তোলেন। এতে দেখা যায় আসামি সিরাজুল ইসলাম ছাড়া অন্য আসামিরা অচেনা। পরে গ্রামের মুরুব্বিদের সহযোগিতায় খোঁজখবর নিয়ে আসল আসামি সিরাজুল ইসলামের সন্ধান পান। ওই সিরাজের নামে তার স্ত্রী সোনিয়া ২০১৯ সালে মামলাটি করেন। মামলার অপর দুই আসামি হলেন হাসান ও তার মামা ফারুক।’

পরে এসব কাগজপত্র আদালতে দাখিলের পর মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয় বলে জানান সিরাজুল ইসলাম।

রঙ্গশ্রী ইউনিয়নের চৌকিদার আব্দুর রাজ্জাক বলেন, প্রকৃত আসামি সিরাজুল ইসলাম এলাকার জামাই। গ্রামে তার পরিচিতি নেই। তিন বছর ধরে বাকেরগঞ্জ থানা থেকে তার কাছে যৌতুক মামলার ওয়ারেন্ট আসামি সিরাজের সন্ধান চাওয়া হচ্ছিল। আসামির বাবা নাম ও বংশের মিল অনুযায়ী ঢাকায় মসজিদের ইমাম সিরাজ ছাড়া অন্য কোনো সিরাজের সন্ধান এলাকায় পাননি। পরে স্বজনদের অভিযোগের ভিত্তিতে আসল সিরাজের সন্ধান পাওয়া যায়।

এদিকে বাকেরগঞ্জ থানার এসআই গোলাম কিবরিয়া দাবি করেন, প্রকৃত আসামি সিরাজকেই গ্রেফতার করা হয়েছিল। আদালত কী কারণে তাকে জামিন দিয়েছেন তা তার জানা নেই।

এ বিষয়ে বাকেরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম মাকসুদুর রহমান বলেন, এখানে পুলিশ কর্মকর্তার দোষ দেখছি না। কারণ তিনি ওয়ারেন্ট মিলিয়ে আসামি গ্রেফতার করেছেন। তাই পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রকৃত ব্যক্তির সন্ধানে গ্ৰেফতার অভিযান চলছে।

শাওন খান/এসআর/জিকেএস