ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

৫৩ বছর ধরে বাঁশ-বেতের মায়ায় পরেশ চন্দ্র

উপজেলা প্রতিনিধি | সিদ্ধিরগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) | প্রকাশিত: ০৬:০৫ পিএম, ৩১ জুলাই ২০২৩

একসময় গ্রামবাংলার ঐতিহ্য ছিল বাঁশ-বেতের শিল্প। তখনকার দিনে গ্রামীণ মানুষজন বাঁশ দিয়ে ঘর এবং ঘরের কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন জিনিসপত্র তৈরি করতেন। এসব জিনিসপত্রের কদর বেশি থাকায় বেচাবিক্রিও ভালো ছিল। তবে বর্তমানে প্লাস্টিক পণ্যের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় এবং বাঁশ ও বেতের অভাবে হারাতে বসেছে এ শিল্প।

বর্তমানে এ পেশার সঙ্গে জড়িতরা জীবিকা নির্বাহ করতে হিমশিম খাচ্ছেন। তবে শত প্রতিকূলতার মধ্যেও এ পেশাকে এখনো জীবিকার প্রধান বাহক হিসেবে আঁকড়ে রয়েছেন কিছু সংখ্যক কারিগর। এদের মধ্যে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের পরেশ চন্দ্র দাস একজন। যিনি ৫৩ বছর ধরে বাঁশ-বেত শিল্পের কাজ করে আসছেন।

Nara-(7).jpg

আরও পড়ুন: ৩৩ বছর ধরে এক টাকায় চা বিক্রি করছেন মহির উদ্দিন

বুধবার (২৬ জুলাই) সকালে সোনারগাঁ জাদুঘরে কথা হয় পরেশ চন্দ্র দাসের সঙ্গে। সেখানেই উঠে আসে এ পেশার সঙ্গে তার টিকে থাকার লড়াইয়ের কথা।

১৩ সদস্যবিশিষ্ট পরিবার নিয়ে সোনারগাঁয়ের আমিনপুর পৌরসভার বাগমুসা এলাকায় বসবাস পরেশ চন্দ্রের। আলাপকালে তিনি আক্ষেপ নিয়ে বলেন, ‘জন্মগতভাবে আমি এ কাজ করে থাকি। যখন সোনারগাঁ জাদুঘরের পরিচালক শিল্পাচার্য জয়নাল আবেদীন ছিলেন তখন থেকেই এ জাদুঘরে আমি রয়েছি। ৫৩ বছর ধরে আমি বেতের কাজ করে আসছি। আজও জাদুঘর থেকে কিছুই পেলাম না।’

Nara-(7).jpg

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্য ছয়মাস কষ্ট করে এ নৌকা (হাত দিয়ে দেখিয়ে) বানিয়েছিলাম। কিন্তু কোনোভাবেই নৌকাটি তাকে দিতে পারলাম না। আমার এ মনের দুঃখ মনেই রয়ে গেলো।’

আরও পড়ুন: শখ থেকে শুরু, রকির ৩ একরের বাগানে এখন হরেক জাতের আম

ছোটবেলা থেকেই বাঁশ-বেত শিল্পের কাজ করে আসছেন পরেশ চন্দ্র। এটি তাদের পৈতৃক পেশা। বাবার কাছ থেকে শিখেছেন বাঁশ ও বেতের কাজ। বেতের নৌকা, গরুর গাড়ি, রিকশা, ভ্যানগাড়ি, ফলের ঝুড়ি, পালকি, ট্রে, কর্নার সেলফ, সোফাসেটসহ কয়েকশ আইটেমের শৌখিন সামগ্রী তৈরি করতে পারেন তিনি। ২০০ টাকা থেকে শুরু করে কয়েক হাজার টাকার সামগ্রী পাওয়া যায় তার দোকানটিতে।

Nara-(7).jpg

বর্তমানে নিজের ব্যবসা পরিস্থিতি কথা উল্লেখ করে পরেশ চন্দ্র জাগো নিউজকে বলেন, ‘একসময় দূর-দূরান্ত থেকে বাঁশ ও বেত দিয়ে আমার তৈরি জিনিসপত্র কিনতে মানুষ সোনারগাঁ জাদুঘরে আসতেন। কিন্তু এখন মানুষের সাড়া পাই না। দীর্ঘদিন ধরে এ পেশায় জড়িত। মায়ার কারণে ছাড়তেও পারি না। বর্তমানে যা রোজগার হয় তা নিয়েই কোনোমতে পরিবার নিয়ে বেঁচে আছি।’

আরও পড়ুন: দুই দোকানে মাসে ৬ লাখ টাকার চা বিক্রি

Nara-(7).jpg

এ বিষয়ে বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশনের উপ-পরিচালক রবিউল ইসলাম বলেন, এ শিল্পকে ধরে রাখতে আমাদের পক্ষ থেকে প্রতিবছর লোকজ মেলার আয়োজন করা হয়। এসময় তাদের এককালীন টাকাও অনুদান দেওয়া হয়। এছাড়া তাদের জন্য আর কী কী করা যায় তা নিয়ে আমরা আরও পরিকল্পনা গ্রহণ করবো।

রাশেদুল ইসলাম রাজু/এসআর/এমএস