যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
মেডিকেল ক্যাম্পে অসুস্থ হয়ে রোগীর মৃত্যু, অব্যবস্থাপনার অভিযোগ
যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (যবিপ্রবি) শিক্ষামন্ত্রীর উদ্বোধন করা ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পে চিকিৎসা নিতে এসে অসুস্থ হয়ে এক রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। একইসঙ্গে অব্যবস্থাপনার কারণে প্রচণ্ড গরমে রোগীরা দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেছেন। শনিবার (১৯ আগস্ট) যবিপ্রবি এমআর খান মেডিকেল সেন্টার ভবনে এই মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৮তম শাহাদাৎ বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে শনিবার যবিপ্রবি ক্যাম্পাসে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়। মেডিকেল ক্যাম্প উদ্বোধন করেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি।
সকালে এই মেডিকেল ক্যাম্পে চিকিৎসা সেবা নিতে যান যশোর সদর উপজেলার ইসলামপুর গ্রামের জয়নাল আবেদিন মুন্সীর স্ত্রী মর্জিনা খাতুন (৭০)। ঘণ্টাখানেক সময় সেখানে অবস্থানের পর প্রচণ্ড গরম ও ভিড়ে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। এ সময় যবিপ্রবির অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। কিন্তু হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তার মৃত্যু হয়।

যশোর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক আহমেদ তারেক শামস্ বলেন, হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই মর্জিনা খাতুনের মৃত্যু হয়েছে। পরে পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে।
মর্জিনা খাতুনের নাতী চৌগাছার সলুয়া কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্র মো. রাব্বী হোসেন জানান, তার দাদি (মর্জিনা খাতুন) শ্বাসকষ্টজনিত কারণে অসুস্থ ছিলেন। শনিবার তিনি যবিপ্রবির মেডিকেল ক্যাম্পে যান। সেখানে অনেকক্ষণ অপেক্ষার পর তিনি আরও অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাম্বুলেন্সে করে যশোর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু তার আগেই তার মৃত্যু হয়।
এদিকে মেডিকেল ক্যাম্পে প্রচণ্ড গরম আর অব্যবস্থাপনায় দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে বলে দাবি করেছেন রোগীরা। রোগীদের অভিযোগ ক্যাম্পে চিকিৎসা নেওয়ার জন্য তারা অনেকে সকাল ৯টায় লাইনে দাঁড়ান। প্রচণ্ড রোদ-গরমে ভবনের বাইরে লাইনে দাঁড় করিয়ে রাখায় অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়েন। বাইরে রোগীদের জন্য কোনো তাবু বা ছামিয়ানা টাঙানো হয়নি, বাতাসেরও ব্যবস্থা করা হয়নি। এজন্য প্রচণ্ড ভিড় ও রোদ-গরমে তাদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে।

চুড়ামনকাটি এলাকা থেকে চিকিৎসা নিতে যাওয়া সালমা বেগম (৪০) বলেন, সকাল ৯টায় এসে লাইন দিয়েছেন। তিন ঘণ্টা হয়ে গেলেও ভেতরে ঢুকতে পারেননি। রোদে বাইরে দাঁড়িয়ে আরও অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।
একই এলাকার রোগী রোজিনা খাতুন (৬০) অভিযোগ করেন, গরমে গেটের বাইরে রোগীরা ছটফট করছে। কিন্তু কেউ খেয়াল করছে না। সবাই অনুষ্ঠান নিয়ে ছুটাছুটি করছে। সকালে এসেও কখন ডাক্তার দেখাতে পারবেন তা নিয়ে সংশয়ে তিনি।
এ ব্যাপারে যবিপ্রবির প্রধান চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. দীপক কুমার মণ্ডল বলেন, ক্যাম্পে চিকিৎসা নিতে এসে এক নারী অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। তাকে অ্যাম্বুলেন্সে করে যশোর হাসপাতালে পাঠানো হয়। তিনি মারা গেছেন বলে শুনেছেন। কিন্তু পরবর্তীতে কী হয়েছে তা বিস্তারিত জানেন না।
তবে অব্যবস্থাপনা নিয়ে রোগীদের অভিযোগের ব্যাপারে ডা. দীপক কুমার মণ্ডল বলেন, একসঙ্গে অনেক রোগী আসায় কিছুটা চাপ ছিল। ভবনের গেটে আটজন চিকিৎসক ছিলেন। তারা প্রাথমিকভাবে নির্ধারণ করেছেন কোন চিকিৎসকের কাছে পাঠানো হবে। এজন্য গেটে কিছুট ভিড় হয়েছে। কিন্তু অব্যবস্থাপনার অভিযোগ সঠিক নয়।
মিলন রহমান/এফএ/এমএস
সর্বশেষ - দেশজুড়ে
- ১ মাতারবাড়ী কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্রের স্ক্র্যাপ ইয়ার্ডে আগুন
- ২ সীমান্তে সড়ক নির্মাণ নিয়ে কথা রাখেনি বিএসএফ, ফের পতাকা বৈঠক
- ৩ নাগরিকত্ব জটিলতায় ঝুলে রইলো বিএনপি প্রার্থী ফাহিম চৌধুরীর ভাগ্য
- ৪ দাঁড়িপাল্লার পক্ষে না থাকলে ওয়াজ মাহফিল শোনার দরকার নাই
- ৫ স্কুলশিক্ষককে হাতুড়িপেটা করার অভিযোগ দুই কিশোরের বিরুদ্ধে