আমার ভোট আমি দেবো, তোমার ভোটও আমি দেব
যশোরে বিএনপি সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেছে, দ্বিতীয় দফা ইউপি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের শ্লোগান, ‘আমার ভোট আমি দেবো, তোমার ভোটও আমি দেব’। এই শ্লোগান নিয়ে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা সবধরনের অনাচার করছেন। সোমবার দুপুরে প্রেসক্লাব যশোরে সংবাদ সম্মেলন করে সদর উপজেলা বিএনপি এ সব অভিযোগ করে।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, যশোর সদর উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও কর্মী সমর্থকদের ওপর হামলা, বোমাবাজি, এরপর উল্টো মামলা এবং পোস্টার-লিফলেট ছিড়ে সেগুলো পুড়িয়ে দেওয়াসহ এহেন অপকর্ম নেই যা ক্ষমতাসীনদের প্রার্থী সমর্থকরা করছেন না। এ অবস্থায় শুধু বিএনপি নেতাকর্মীই নয়, নিরীহ সাধারণ ভোটাররাও ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার সাহস হারাচ্ছেন। এ অবস্থায় কোনোভাবেই সুষ্ঠু নির্বাচন হতে পারে না।
সংবাদ সম্মেলনে নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করেন, আগামী ৩১ মার্চ অনুষ্ঠেয় দ্বিতীয় দফা ইউপি নির্বাচনে সদর উপজেলার ইউনিয়নগুলোর দখল নিতে মাঠে নেমেছে আওয়ামী লীগ। নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর থেকে ২৭ মার্চ পর্যন্ত যশোরের হৈবতপুর, লেবুতলা, ইছালী, নওয়াপাড়া, উপশহর, কাশিমপুর, চুড়ামনকাটি, চাঁচড়া, রামনগর, ফতেপুর, কচুয়া, বসুন্দিয়া, বসুন্দিয়াসহ সকল ইউনিয়নে বিএনপির প্রার্থী, কর্মী-সমর্থক এমনকী সাধারণ মানুষকে নানাভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে।
হুমকি, ধামকি দিয়ে ও জিম্মি করে ইতোমধ্যে ৩ ইউনিয়নে বিএনপির চেয়ারম্যান প্রার্থীকে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারে বাধ্য করেছে। বাকী ১২টি ইউনিয়নে বিএনপি প্রার্থী ও কর্মীরা মাঠে নামতে পারছে না। আওয়ামী লীগ নেতারা সমাবেশ করে হুমকি দিচ্ছেন, বিএনপির ভোট দেয়া লাগবে না, তাদের ভোট হয়ে গেছে, তাই তারা ভোট দিতে যাবে না।
নেতৃবৃন্দ জানান, বিগত নির্বাচনে সদরের ১২টি ইউনিয়নে বিএনপি প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছিল। এবারও যদি অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচন হয় তাহলে যে ১২টি ইউনিয়নে বিএনপি প্রার্থী রয়েছেন, তারা বিজয়ী হবেন। এটি বুঝতে পেরেই আওয়ামী লীগ ভোটকেন্দ্রে বিএনপির কর্মী সমর্থকদের ভোটের মাঠে নামতে দিচ্ছে না। এ পরিস্থিতির উত্তরণে প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন বিএনপি নেতৃবৃন্দ।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কাজী আজম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন দলের জেলা কমিটির সহ-সভাপতি গোলাম মোস্তফা, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু, সাংগঠনিক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকন, যুগ্ম সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ ও মিজানুর রহমান খান, নগর বিএনপির সভাপতি মারুফুল ইসলাম মারুফ, সাধারণ সম্পাদক মুনীর আহমেদ সিদ্দিকী বাচ্চু, সদর বিএনপির সভাপতি নূর উন নবী প্রমুখ।
মিলন রহমান/এফএ/এমএস