মঠবাড়িয়া ইউপি নির্বাচন : আতঙ্কিত গ্রামবাসী
পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় প্রথম দফার ইউপি নির্বাচনে বিজিবির গুলিতে পাঁচজন নিহতের ঘটনায় এলাকায় এখনও আতঙ্ক বিরাজ করছে। এ ঘটনায় পুলিশ ১৩শ জনের বিরুদ্ধে অজ্ঞাত মামলা দায়ের করায় গ্রেফতার আতঙ্কে ভুগছেন সাধারণ মানুষ।
ফলে কে নিরাপদ আর কে নিরাপদ নয় তা কেউই নিশ্চিত করে বলতে না পারায় দিনের দৈনন্দিন কার্যাদি যেমনভাবে করতে পারছেন না, ঠিক তেমনি রাতেও বাড়িতে নিশ্চিন্তে থাকতে পারছেন না বলে অভিযোগ গ্রামবাসীর।
এদিকে, গত ২৩ মার্চ রাতে মামলা হওয়ার সাত দিন চললেও মামলার দৃশ্যমান কোন অগ্রগতি পরিলক্ষিত হচ্ছে না। অন্যদিকে, নিহত পাঁচ পরিবারের পক্ষ থেকেও দেয়া হয়নি কোন মামলা। মুখ খুলতে চাচ্ছেন না ওই এলাকার সাধারণ মানুষও।
পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলা এখন ‘ইউপি নির্বাচন ট্রাজেডি’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। দিন শেষে রাত হলেই পুলিশ ও প্রশাসনের বিভিন্ন দফতরের লোকজনের আনাগোনায় ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে পড়েন এলাকাবাসী। জনমনে নানা শঙ্কা থাকলেও অনেকেই মুখ খুলতে চাচ্ছেন না। ইউনিয়নটি পুরুষ শূন্য হয়ে পড়ায় তদন্তের কাজেও বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে।
এলাকাবাসী বলছেন, ওই রাতের ঘটনায় অনেক নিরীহ জনগণ সম্পৃক্ত না হওয়া সত্ত্বেও এখন তারা বিপদমুক্ত নন। তবে ঘটনাটি ধানিসাফা ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রে ঘটলেও এর দায়-দায়িত্ব নিতে চাচ্ছেন না ওই এলাকার সাধারণ মানুষজন।
অন্যদিকে, ঘটনা তদন্তে ২টি সরকারি টিম এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে আরও একটি তদন্ত কমিটি গঠিত হলেও ক্যামেররার সামনে মুখ খুলতে রাজী নন তারা। দায়েরকৃত মামলায় আজ পর্যন্ত কোন আসামি গ্রেফতারের খবর দিতে না পারলেও এই কর্মকর্তা বলছেন মামলার অগ্রগতি হচ্ছে।
সে রাতের ঘটনা জানার জন্য প্রত্যক্ষদর্শী কলেজ গেটের বিপরীতের বাসিন্দা বাবুলে সঙ্গে কথা বললে তিনি জানান, আমি বিদেশে থাকি। আমার স্ত্রী একা থাকেন। সত্য কথা বলতে গেলে সমস্যা হবে। তবে পশ্চিম দিক থেকে কয়েক শত মানুষ এসে বিক্ষোভ করতে থাকে। মুহূর্তের মধ্যে তারা বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। পরে শুধু গুলি আর গুলি।
বুড়িরচর গ্রামের মো. ফজলুল হক হাওলাদারের (৯৭) একমাত্র ছেলে সোহেল (৩০)। তার দু’টি শিশু সন্তান সারা জাহান (৭) ও সাইফুল (৩)। ঢাকায় একটি বাস কাউন্টারে থাকতেন। বাবা গুলিতে নিহত হয়েছেন তা অবুঝ শিশুরা জানে না। সোহেলের স্ত্রী কুলসুম স্বামী হারিয়ে অজ্ঞান প্রায়।
আমড়বুনিয়া গ্রামের দিন মজুর বেল্লাল মোল্লার ছোট্ট সংসারে আর কেউ নেই যে রোজগার করবেন। সিফাত ও জুনায়েদ নামের দুটি শিশুপুত্র রয়েছে তার। স্ত্রী সীমা বেগম ও মা মনোয়ারা জানেন না কে বেল্লারকে ডেকে নিয়ে গেছে সাফা কলেজের সামনে। অফিসারদের কেন বাধা দিবে এটাও তারা বুঝেন না। তাদের প্রশ্ন কারা এখন খাওয়াবে তাদের। বাড়িতে এক খণ্ড পোতা (ঘরের জমি) ছাড়া তাদের কোন ফসলি জমি নেই।
নিহত সোহেলের মামা বেল্লাল তালুকদার জানান, যাদের কারণে সোহেল নিহত হয়েছে তাদের বিচার চান। বুধবার বিকেলে তার বাড়িতে গেলে মার আহাজারি দেখে উপস্থিত সকলে চোখের পানি ধরে রাখতে পারেন নি।
মঠবাড়িয়ার সাধারণ মানুষের এখন একটিই দাবি সৃষ্ট ঘটনা সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় এনে শাস্তির ব্যবস্থা নিশ্চিত এবং নিরীহ ও নিরাপরাধ মানুষকে হয়রানির শিকার থেকে অবিলম্বে মুক্ত করা।
হাসান মামুন/এসএস/এমএস