ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

আ.লীগে মনোনয়ন বাণিজ্যের মাধ্যমে প্রার্থী ঘোষণার অভিযোগ

প্রকাশিত: ১০:৪২ এএম, ৩০ মার্চ ২০১৬

কক্সবাজারের রামু উপজেলায় তৃণমূলের মতামত উপেক্ষা করে মনোনয়ন বাণিজ্যের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের একক প্রার্থী ঘোষণা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। উপজেলা আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে উপজেলার ১১ ইউনিয়নে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশীরা সংবাদ সম্মেলন করে এ অভিযোগ করেছেন।

বুধবার দুপুরে কক্সবাজার প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এ নিয়ে আবারো বিভাজন দেখা দিয়েছে উপজেলা আ.লীগে।

সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, উপজেলা আওয়ামী লীগ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ উপেক্ষা করে অর্থ ও মনোনয়ন বাণিজ্যের বিনিময়ে জনবিচ্ছিন্ন ব্যক্তিকে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে দলের একক প্রার্থী ঘোষণা করছেন। আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রকৃত ত্যাগী নেতাদের আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন দেওয়ার কথা রয়েছে। অথচ রামুর প্রত্যেক ইউনিয়নে বিএনপি-জামায়াত ও স্বাধীনতা বিরোধী লোকজনকে কাউন্সিলর করে পাতানো নির্বাচনের মাধ্যকে বিশেষ ব্যক্তিকে প্রার্থী ঘোষণা করা হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন আসন্ন নির্বাচনে রাজারকুল ইউনিয়ন থেকে দলের মনোনয়ন প্রত্যাশী রামু উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান জাফর আলম চৌধুরী।

এ সময় উপস্থিত মনোনয়ন প্রত্যাশীরা অভিযোগ করে বলেন, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবকলীগসহ অন্যান্য সহযোগী সংগঠনের জনপ্রিয় অনেক নেতা ১১ ইউনিয়নে দলীয় প্রতীকে নির্বাচনে অংশ নিতে মনোনয়ন প্রত্যাশায় রয়েছেন। দলের হয়ে লড়ার আশায় তারা দীর্ঘদিন থেকে নিজ নিজ ইউনিয়নের প্রত্যন্ত অঞ্চলে সময় ব্যয় করেছেন। সামাজিক নানা কাজে নিজেদের সম্পৃক্ততায় পরিচিতি বাড়িয়েছেন। কিন্তু উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতবৃন্দ এসব মনোনয়ন প্রত্যাশীদের অন্তরালে রেখে অপরিচিত ও মৌসুমী নেতাদের কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা নিয়ে প্রতিটা ইউনিয়নে একের পর এক প্রার্থী ঘোষণা করে যাচ্ছেন। যা কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের নির্দেশনা পরিপন্থি ও অগঠনতান্ত্রিক।

এক প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগের সাবেক উপজেলা সভাপতি ও চেয়ারম্যান জাফর আলম চৌধুরী বলেন, রামুতে আওয়ামী লীগ করতে হলে কাজল-মন্ডল লীগের বন্দনা করতে হবে। শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ করতে গেলে দলের পদ-পদবী পাওয়া দুরের কথা সাধারণ কর্মী হিসেবেও স্বীকৃতি মিলছে না। তাই মনোনয়নে অভিজ্ঞ ও জনপ্রিয় প্রার্থীরা বাদ যাচ্ছেন। তাদের চাটুকারিতায় মগ্ন বিত্তশালী মৌসুমী আওয়ামী লীগেরাই অর্থের বিনিময়ে মনোনয়ন পাচ্ছেন।

সংবাদ সম্মেলনে রামু উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা যুবলীগ সভাপতি রিয়াজ উল আলম ও রামু উপজেলার ১১টি ইউনিয়নের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নুরুল আমিন কোম্পানী, খুনিয়াপালং ইউপি চেয়ারম্যান সাংবাদিক আবদুল মাবুদ, ঈদগড় ইউপি চেয়ারম্যান ফিরোজ আহমদ ভুট্টো, চাকমারকুল ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম সিকদার, দক্ষিণ মিঠাছড়ি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক ইউনুস ভুট্টো, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সাধারণ সম্পাদক তপন মলি­ক, উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক ফরিদুল আলম, গর্জনিয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান সৈয়দ নজরুল ইসলাম, উপজেলা যুবলীগের অর্থ সম্পাদক আবছার কামাল সিকদার, রাজারকুল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদস্য মুফিজুর রহমান, জোয়ারিয়ানালা ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আনছারুল আলম, রশিদনগর আওয়ামী লীগের সদস্য মিজানুল করিম, কাউয়ারখোপ ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মোস্তাক আহমদ প্রমূখ।

সায়ীদ আলমগীর/এফএ/আরআইপি