সিলেট বিভাগে বিএনপির ভরাডুবি
সিলেট বিভাগের ৪৬টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীকে আওয়ামী লীগ পেয়েছে ২৬টি ইউনিয়ন। এছাড়া ধানের শীষ প্রতীকে বিএনপি পেয়েছে ৭টি ও স্বতন্ত্র প্রার্থী পেয়েছে ১৩টি ইউনিয়ন।
বিভাগের সিলেট জেলায় ১৩, সুনামগঞ্জ ১৩, হবিগঞ্জ ০৫, এবং মৌলভীবাজারে ১৫টি ইউনিয়ন পরিষদে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এর আগে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টায় এসব জেলার কেন্দ্রগুলোতে ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে চলে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। এরপর ভোট গণনা চলে রাত পর্যন্ত।
সিলেট থেকে ছামির মাহমুদ জানান, সিলেট জেলার গোয়াইনঘাট ও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ১৩ ইউনিয়নে বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ছাড়া শান্তিপূর্ণভাবেই ভোট গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। ১৩ ইউনিয়নের ৪টিতে আওয়ামী লীগ, ৫টিতে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী, ও দুইটিতে বিএনপি এবং অপর দুটিতে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী নির্বাচিত হয়েছেন।
বিজয়ীরা হলেন, সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার আলীরগাঁওয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম কিবরিয়া হেলাল, নন্দিরগাঁওয়ে আমিরুল ইসলাম, ফতেহপুরে আমিনুর রশীদ চৌধুরী এবং কোম্পানীগঞ্জের পশ্চিম ইসলামপুরে আওয়ামী লীগের শাহ জামাল উদ্দিন বিজয়ী হয়েছেন।
গোয়াইনঘাটের পূর্ব জাফলংয়ে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী লুৎফুর রহমান লেবু, কোম্পানীগঞ্জের উত্তর রণিখাইয়ে বর্তমান চেয়ারম্যান ফরিদ উদ্দিন, দক্ষিণ রণিখাইয়ে রোকন উদ্দিন, তেলিখালে বর্তমান চেয়ারম্যান কাজী আব্দুল ওদুদ আলফু মিয়া এবং ইছাকলসে কুটি মিয়া বিজয়ী হয়েছেন।
বিএনপির প্রার্থী হিসেবে গোয়াইনঘাটের রুস্তমপুরে শাহাব উদ্দিন ও তোয়াকুলে খালেদ আহমদ বিজয়ী হয়েছেন। বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী হিসাবে বিজয়ীরা হলেন-গোয়াইনঘাটের পশ্চিম জাফলংয়ে হোসেন আহমদ এবং কোম্পানীগঞ্জের পূর্ব ইসলামপুরে বর্তমান চেয়ারম্যান বাবুল মিয়া বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন।
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, উপজেলার ১৩টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ পেয়েছে ৯টি, বিএনপি ১টি ও আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী স্বতন্ত্রপ্রার্থী ৩টিতে জয়ী হয়েছেনে।
ইসলামপুর ইউনিয়নে আব্দুল হেকিম নৌকা প্রতীকে ৫৫১৯ পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন, নিকটতম প্রতিন্দ্বদ্বী জামায়াত নেতা সতন্ত্রপ্রার্থী ছুফি আলম সোহেল পেয়েছেন ৪১৬৩ ভোট।
জাউয়া বাজার ইউনিয়নে সতন্ত্রপ্রার্থী মুরাদ হোসেন মটর সাইকেল প্রতীকে ৩৫২৭ পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। নিকটতম প্রতিন্দ্বদ্বী আওয়ামী লীগ প্রার্থী আলহাজ্জ নুরুল ইসলাম পেয়েছেন ৩৪৬৭ ভোট। নোয়ারাই ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়েছের আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী দেওয়ান আব্দুল খালিক পীর, তার নিকটতম প্রতিন্দ্বদ্বী আওয়ামী লীগ মনোনিত আফজাল হোসেন আবুল।
সিংচাপইর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সাহাব উদ্দিন মোহাম্মদ সাহেল নৌকা প্রতীক নিয়ে বিজয়ী হয়েছেন, নিকটতম প্রতিন্দ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের বিদ্রোহীপ্রার্থী মোজাহিদ আলী।
কালারুকা ইউনিয়নে নৌকা প্রতীক নিয়ে বিজয়ী হয়েছেন অদুদ তার নিকটতম প্রতিন্দ্বন্দ্বী বিএনপি মনোনিত নজরুল হক।
ছাতক সদর ইউনিয়নে নৌকা প্রতীক নিয়ে বিজয়ী হয়েছেন সাইফুল ইসলাম তার নিকটতম প্রতিন্দ্বন্দ্বী আওয়ামী বিদ্রোহীপ্রার্থী সেলিম মিয়া।
তাছাড়া উত্তর খুরমা ইউনিয়নে নৌকা প্রতীক নিয়ে বিজয়ী হয়েছেন বিল্লাল হোসেন। দক্ষিণ খুরমা ইউনিয়নে নৌকা প্রতীক নিয়ে বিজয়ী হয়েছেন আব্দুল মছব্বির নৌকা। সৈদেরগাও ইউনিয়নে বিজয়ী হয়েছেন আখলাকুর রহমান। ছৈলা আফজারাবাদ ইউনিয়নে নৌকা প্রতীক নিয়ে বিজয়ী হয়েছেন গয়াছ আহমদ।
ভাতগাও ইউনিয়নে নৌকা প্রতীক নিয়ে বিজয়ী হয়েছেন আওলাদ হোসেন তার নিকটতম প্রতিন্দ্বন্দ্বী জাতীয় পার্টির গিয়াস মিয়া।
দোলারবাজার ইউনিয়নে নৌকা প্রতীক নিয়ে বিজয়ী হয়েছেন শায়েস্তা মিয়া। চরমহল্লা ইউনিয়নে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে বিজয়ী হয়েছেন আবুল হাসনাত।
হবিগঞ্জ থেকে সৈয়দ এখলাছুর রহমান খোকন জানান, হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ উপজেলার ৫টি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদে ৩টিতে আওয়ামী লীগ ও ২টিতে আওয়ামী লীগ বিদ্রোহী প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন। বিজয়ীরা হলেন; আজমিরীগঞ্জ সদর ইউনিয়নে আব্দুল কদ্দুস সেন (আওয়ামী লীগ), বদলপুর ইউনিয়নে সুসেনজিৎ চৌধুরী (আওয়ামী লীগ), কাকাইলছেও ইউনিয়নে হাজী নূরুল হক ভূইয়া (আওয়ামী লীগ), জলসুখা ইউনিয়নে ফয়েজ আহমেদ খেলু (আওয়ামী লীগ বিদ্রোহী) ও শিবপাশা ইউনিয়নে আলী আমজদ তালুকদার (আওয়ামী লীগ বিদ্রোহী)।
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি জানান, মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের মধ্যে চেয়ারম্যান পদে ৭টিতে আওয়ামী লীগ, ১টি আওয়ামী লীগ (বিদ্রোহী) ও ২টি বিএনপি প্রার্থী জয়ী হয়েছেন। আর জুড়ী উপজেলার ৫টি ইউনিয়নের মধ্যে চেয়ারম্যান পদে ৩টি আওয়ামী লীগ ও ২টি বিএনপির প্রার্থী বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন।
মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলায় বর্ণি ইউনিয়নে নৌকা প্রতীক নিয়ে এনাম উদ্দিন, নিজবাহাদুরপুরে নৌকা প্রতীক নিয়ে মইনুল হক , উত্তর শাহবাজপুর ইউনিয়নে নৌকা প্রতীক নিয়ে আহমদ জুবায়ের লিটন, দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী শাহাব উদ্দিন।
বড়লেখা সদরে নৌকা প্রতীক নিয়ে সুয়েব আহমদ, তালিমপুর ইউনিয়নে নৌকা প্রতীক নিয়ে বিদ্যুৎ কান্তি দাস, দক্ষিণভাগ উত্তরে নৌকা প্রতীক নিয়ে এনাম আহমদ, দক্ষিণভাগ দক্ষিণে নৌকা প্রতীক নিয়ে আজির উদ্দিন, সুজানগর ইউনিয়নে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নছিব আলী,, দাসেরবাজার ইউনিয়নে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে কমর উদ্দিন বিজয়ী হয়েছেন।
জুড়ী উপজেলার জায়ফরনগর ইউনিয়নে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে মাছুম রেজা,পশ্চিম জুড়ী ইউনিয়নে নৌকা প্রতীক নিয়ে শ্রীকান্ত দাস, পূর্বজুড়ী ইউনিয়নে নৌকা প্রতীক নিয়ে সালেহ উদ্দিন আহমদ, গোয়ালবাড়ি ইউনিয়নে নৌকা প্রতীক নিয়ে শাহাব উদ্দিন আহমদ লেমন এবং সাগরনাল ইউনিয়ন পরিষদে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে এমদাদুল ইসলাম চৌধুরী বিজয়ী হয়েছেন।
এসকেডি/আরআইপি