ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

রক্তক্ষয়ী নির্বাচনে চট্টগ্রাম বিভাগে আ.লীগের জয়জয়কার

প্রকাশিত: ০৭:৪৯ পিএম, ৩১ মার্চ ২০১৬

প্রথম ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের পর দ্বিতীয় ধাপেও জয়জয়কার ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের। আগের ধাপের মতো এ ধাপ নিয়েও কারচুপির অভিযোগ বিএনপির। বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় ধাপে ৬৩৯ ইউপিতে নির্বাচন শুরুর পর সারা দেশে সংঘর্ষে প্রাণ গেছে অন্তত সাতজনের। এর মধ্যে কেবল সন্দ্বীপেই নির্বাচনী সহিংসতায় প্রাণ গেছে তিনজনের।

দ্বিতীয় ধাপের নির্বাচনের ফলাফলে দেখা গেছে আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের ধারেকাছেও নেই বিএনপি। বিরোধী দল জাতীয় পার্টির অবস্থা আরো করুণ। সারা দেশের এই ফলের ধারাবাহিকতা বজায় থেকেছে চট্টগ্রামেও। এ বিভাগের সবখানেই দেখা গেছে আওয়ামী লীগের জয়জয়কার।

জাগো নিউজের কক্সবাজার প্রতিনিধি সায়ীদ আলমগীর জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবারের নির্বাচনে কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার সাত ইউপিতে ৯১ জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হয়েছেন। তবে এখানে চেয়ারম্যান পদে খুব একটা সুবিধা করতে পারেননি আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা। পেকুয়া উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের মধ্যে তিনটিতে জিতেছেন বিএনপির প্রার্থী, দুটিতে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ও দুটিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী। কয়েকটি কেন্দ্রে বিশৃংখলা ছাড়া মোটামুটি শান্তিপূর্ণই হয়েছে এ সাত ইউনিয়নে নির্বাচন। তবে পেকুয়া সদর ইউপি কেন্দ্রে প্রভাব বিস্তারের অভিযাগে পেকুয়া উপেজলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম, যুব লীগের সভাপিত জাহাঙ্গীর ও উপজেলা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক ইউসুফ রুবেলকে আটক করে র্যাব।     

কক্সবাজারের পেকুয়ায় বিএনপি-৩ আ.লীগ-২ স্বতন্ত্র-২

নির্বাচিতরা হলেন- পেকুয়া সদরে বিএনপির এম বাহাদুর শাহ, মগনামা ইউনিয়নে বিএনপির শরাফত উল্লাহ ওয়াসিম, শীলখালী ইউপিতে বিএনপির নুরুল হোছাইন, বারবাকিয়া ইউনিয়নে জামায়াত সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থী  বদিউল আলম, রাজাখালী ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী সৈয়দ নুর, উজানটিয়া ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের এম. শহীদুল ইসলাম চৌধুরী ও টইটং ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের জাহেদুল ইসলাম চৌধুরী।

আমাদের চাঁদপুর প্রতিনিধি একরাম হোসেন চৌধুরী জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার চাঁদপুরের যে ১৮টি ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচন হয়েছে তার ১৫টিতেই জয় পেয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা। এর মধ্যে চাঁদপুর সদরে আওয়ামী লীগ জিতেছে ১০টি ইউপিতে ও হাইমচরে পাঁচটিতে। বাকিগুলোতে জিতেছেন বিএনপির প্রার্থীরা।

চাঁদপুরের ১৮টি ইউনিয়নের ১৫টিই আ.লীগের

চাঁদপুর সদরে বিজয়ীরা হলেন- ১নং বিষ্ণুপুর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের শামীম খান, ২নং আশিকাটিতে আওয়ামী লীগের বিল্লাল মাস্টার, ৩নং কল্যাণপুরে আওয়ামী লীগের শাখাওয়াত হোসেন রনি, ৪নং শাহমাহমুদপুর ইউনিয়নে বিএনপির স্বপন মাহমুদ ৫নং রামপুর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের আল মামুন পাটওয়ারী, ৬নং মৈশাদী ইউনিয়নে বিএনপির মনিরুজ্জামান মানিক, ৭নং তরপুরচণ্ডী ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের রাসেল গাজী, ৮নং বাগাদী ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের বেলাল হোসেন বিল্লাল, ১১নং ইব্রাহিমপুর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের আবুল হোসেন খান, ১২নং চান্দ্রা ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের খান জাহান আলী কালু, ১৩নং হানারচর ইউনিয়নে আব্দুল ছাত্তার রাড়ী ও ১৪ নং রাজরাজেশ্বর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের হযরত আলী বেপারী।
 
হাইমচরে বিজয়ীরা হলেন- ১নং গাজীপুরে ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের মো. হাবিবুর রহমান গাজী, ২নং আলগী উত্তরে আওয়ামী লীগের মনির আহমেদ দুলাল, ৩নং আলগী দক্ষিণ ইউনিয়নে বিএনপির সরদার আব্দুল জলিল মাস্টার, ৪নং নীলকমল ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের মো. সালাউদ্দিন সরদার, ৫নং হাইমচর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের মো. শাহাদাত সরকার ও চরভৈরবী ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের আহমেদ উল্লাহ মাস্টার।

জাগো নিউজের নোয়াখালী প্রতিনিধি মিজানুর রহমান জানিয়েছেন নোয়াখালীতে দৃশ্যত বিএনপির ভরাডুবির কথা। তার পাঠানো তথ্য অনুযায়ী দ্বিতীয় ধাপে নোয়াখালীর যে ১৫টি ইউপিতে নির্বাচন হয়েছে, চেয়ারম্যান পদে তার একটিতেও জয়ের দেখা পাননি বিএনপির কেউ। তবে সিরাজপুর ইউনিয়নের ফল স্থগিত রয়েছে।

নোয়াখালীতে বিএনপির ভরাডুবি

নির্বাচিতরা হলেন- কবিরহাট উপজেলার সোন্দলপুর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের নুরুল আমিন রুমি, নরোত্তমপুরে আওয়ামী লীগের এ কে এম সিরাজ উল্যা, চাপরাশিরহাটে আওয়ামী লীগের মহিউদ্দিন টিটু, ধানশালিকে আওয়ামী লীগের ইয়াকুব নবী এবং ধানসিঁড়িতে মো. আবদুল মন্নান (আ.লীগ বিদ্রোহী), বাটইয়াতে মো. মিজানুর রহমান (আ.লীগ বিদ্রোহী) ও ঘোষবাগে মো. মহসিন মিন্টু (আ.লীগ বিদ্রোহী)।

এছাড়া কোম্পানিগঞ্জ উপজেলার চর পার্বতীপুর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের মোজাম্মেল হোসেন, চর হাজারীতে নুরুল হুদা, চর কাঁকড়ায় সফি উল্যাহ, চর ফকিরায় জামাল উদ্দিন লিটন, রামপুরায় ইকবাল বাহার চৌধুরী, মুছাপুরে নজরুল ইসলাস শাহিন চৌধুরী এবং চর এলাহী ইউনিয়নে আব্দুর রাজ্জাক।

আমাদের ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি আজিজুল আলম সঞ্চয় জানিয়েছেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরের ১১টি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) মধ্যে ৯টিতেই জয় পেয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা। একটিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী জয়ী হয়েছেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ৯ ইউপিতে আ.লীগের জয়

বিজয়ীরা হলেন- লাউর-ফতেহপুর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের ফারুক আহমেদ, সাতমোড়া ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের মাসুদ রানা, রসুল্লাবাদ ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের আলী আকবর, ইব্রাহিমপুর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের মো. আবু মুছা, কাইতলা ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের মো. শওকত আলী, নবীনগর পূর্ব ইউনিয়নে স্বতন্ত্র প্রার্থী মৌসুমী আক্তার, বিদ্যাকুট ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের মো. এনামুল হক, বিটঘর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের আবুল হোসেন, শ্রীরামপুর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের আজহার হোসেন সরকার জামাল, নাটঘর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের মো. আবুল কাশেম।

এছাড়া কুমিল্লা প্রতিনিধি মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন জানিয়েছেন, কুমিল্লার বরুড়া ও সদর দক্ষিণ উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নের মধ্যে ১৩টি ইউনিয়নের ফলে আটটি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ ও পাঁচটিতে বিএনপি প্রার্থী নির্বাচিত হয়েছেন। জেলার সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তা রাশেদুল ইসলাম তাকে জানিয়েছেন, জাল ভোট ও সহিংসতার কারণে বরুড়া উপজেলার চিতড্ডা ইউপির ফলাফল স্থগিত রাখা হয়েছে।

কুমিল্লার দুই উপজেলায় আ.লীগ-৮ বিএনপি-৫

নির্বাচিতরা হলেন- আগানগর ইউপিতে বিএনপির প্রার্থী ইফতেখার আলম শাহীন, ভবানীপুর ইউপিতে বিএনপির সৈয়দ রেজাউল হক রেজু, লক্ষীপুর ইউপিতে বিএনপির নুরুল ইসলাম, আড্ডায় বিএনপির মো. জাফর উল্লাহ চৌধুরী, আদ্রা ইউপিতে বিএনপির মো. ফজলুল হক, খোশবাস ইউপিতে আওয়ামী লীগের নাজমুল হাছান, পয়ালগাছা ইউপিতে আওয়ামী লীগের সৈয়দ মাহিন, ঝলম ইউপিতে নুরুল ইসলাম নুরু, চৌয়ারা ইউপিতে আ.লীগের আবুল কালাম আজাদ, বারপাড়া ইউপিতে সেলিম আহাম্মেদ, জোড়কানন পুর্ব ইউপিতে হারিছ মিয়া, জোড়কানন পশ্চিম ইউপিতে হাসমত উল্লাহ, পেরুল দক্ষিণ ইউপিতে সফিকুর রহমান।

রাত দেড়টায় চট্টগ্রাম প্রতিনিধি জীবন মুছার পাঠানো খবর অনুযায়ী, মিরসরাই-সীতাকুণ্ডের সব ইউপিতে নৌকা জয়ী হয়েছে। তবে কারচুপি ও কেন্দ্র দখলের অভিযোগ এনে ভোট চলাকালেই সীতাকুন্ডের সবকটি ইউনিয়নে ভোট বর্জন করে বিএনপি।

মিরসরাই-সীতাকুণ্ডের সব ইউপিতে নৌকা জয়ী

সীতাকুণ্ডে নির্বাচিতরা হলেন- ৯নং সৈয়দপুর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের তাজুল ইসলাম নিজামী (১৫,২৪৩ ভোট), বারৈয়াঢালা ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের রেহান উদ্দিন রেহান (১৫,২২৩ ভোট), মুরাদপুর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের জাহেদ হোসেন নিজামী বাবু (৯,৮২৪ ভোট), বাড়বকুণ্ড ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের সাদাকাত উল্ল্যাহ মিয়াজি (১৩,৪৮২ ভোট), বাঁশবাড়ীয়ায় আওয়ামী লীগের শওকত আলী জাহাঙ্গীর (৯,৩৪৮ ভোট), কুমিরায় আওয়ামী লীগের মোরশেদ হোসেন চৌধুরী (১৭,৩৮৮ ভোট), সোনাইছড়ির মনির আহম্মদ (১৮,৭৫৪ ভোট), ভাটিয়ারীতে আওয়ামী লীগের মো. নাজিম উদ্দিন (২৩,০০৯ ভোট), ছলিমপুর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের মো. সালাউদ্দিন আজিজ (১৮,৪১৯ ভোট)।

মিরসরাইয়ে বিজয়ীরা হলেন- ২ নং হিঙ্গুলী ইউনিয়নের নাসির উদ্দিন হারুন, ৩ নং জোরারগঞ্জ ইউনিয়নে মকছুদ আহম্মদ চৌধূরী, ৪ নং ধুম ইউনিয়নে মো. জাহাঙ্গীর, ৫ নং ওচমানপুর ইউনিয়ন মফিজ উদ্দিন, ৬ নং ইছাখালী ইউনিয়নে নুরুল মোস্তফা, ৭নং কাটাছরা ইউনিয়নে রেজাউল করিম চৌধুরী হুমায়ুন, ৮ নং দুর্গাপুর ইউনিয়নে আবু সুফিয়ান বিপ্লব, ৯ নং মিরসরাই সদর ইউনিয়নে এমরান উদ্দিন ও ১৬নং সাহেরখালী ইউনিয়নে কামরুল হায়দার চৌধুরী।

এনএফ/আরআইপি