ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

হঠাৎ বৃষ্টিতে দিনাজপুরে ৫০ কোটি টাকার ক্ষতি

প্রকাশিত: ১২:১৬ পিএম, ০১ এপ্রিল ২০১৬

দিনাজপুরে বৃহস্পতিবার রাতে বৃষ্টিপাতের ফলে ইট-ভাটাগুলোতে কাঁচা ইটের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। কাঁচা ইট নষ্ট হয়ে যাওয়ায় পুরোপুরিভাবে বন্ধ হয়ে গেছে ইট উৎপাদন। আর এতে প্রায় ৫০ কোটি টাকার উপরে ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন ভাটা মালিকরা।

দিনাজপুর ইটভাটা মালিক সমিতি সূত্রে জানা যায়, দিনাজপুরে মোট ২৩০টি ইটভাটা রয়েছে। হঠাৎ করে বৃহস্পতিবার বৃষ্টিপাতের ফলে প্রতিটি ইটভাটার গড়ে ২০ থেকে ২১ লাখ কাঁচা ইট নষ্ট হয়ে গেছে। মাঠে শুকাতে দেয়া ইটগুলো নষ্ট হয়ে যাওয়ার ফলে পুনরায় সেগুলোকে মাঠ থেকে তুলে জমা করতে হবে। পরে মাঠ পুরোপুরি শুকিয়ে পুনরায় ইট তৈরি করতে হবে। এতে করে লাগবে বাড়তি শ্রমিক খরচ। ইটগুলো তৈরি, ভিজে যাওয়ায় মাঠ থেকে অপসারণ ও নতুন করে ইট তৈরির কারণে প্রতিটি ইটভাটায় গড়ে প্রায় ২১ লাখ টাকার ক্ষতি হবে। এই হিসেবে দিনাজপুর জেলায় ২৩০টি ইটভাটায় ক্ষতি হয়েছে প্রায় ৫০ কোটি টাকা।

দিনাজপুর বিরল উপজেলার মেসার্স সোনালী ব্রিক্স’র ম্যানেজার মনোয়ার হোসেন জানান, বৃষ্টির আগে এখানে প্রায় ১০ লাখ কাঁচা ইট ছিল। হঠাৎ করে বৃষ্টিপাতের ফলে এই ভাটার সব ইটই ভিজে নষ্ট হয়ে গেছে। এসব ইট মাঠ থেকে অপসারণ করে পুনরায় ইট তৈরি করতে হবে। এতে এই ভাটার প্রায় ২০ লাখ টাকার মত লোকসান গুণতে হবে।

শুধু তাই নয়, বৃষ্টির কারণে নতুন করে ইটভাটাগুলো উৎপাদনে যেতে লাগবে আরো এক সপ্তাহের অধিক সময়। ফলে ওই সময়টিতে যে পরিমাণ ইট উৎপাদিত হতো সেটিও এখন লোকসানের খাতায় যোগ করতে হবে বলেও তিনি জানান।

এদিকে ইট তৈরির কাজে নিয়োজিত শ্রমিকরা জানালেন, বৃষ্টিপাতের ফলে সম্পূর্ণরুপে কাজ বন্ধ রয়েছে। কয়দিন বন্ধ থাকবে তাও জানা নেই। আকাশ এখন মেঘলা, যে কোনো সময় আবারো বৃষ্টি নামতে পারে। এতে করে যে কয়দিন কাজ বন্ধ থাকবে সে দিনগুলোতে কোন বেতন পাব না।

Dinajpur-Brike

মো. জুলফিকার জানান, হাড়ভাঙ্গা খাটুনি কের ইটগুলো তৈরি করা হয়েছিল তা সম্পূর্ণ ভিজে নষ্ট হয়ে গেছে। কাজ বন্ধ থাকায় শুক্রবার কোনো বেতন পাননি তারা। মাঠের পানি শুকালে ভিজে যাওয়া ইটগুলো মাঠ থেকে অপসারণ করা হবে। এই নষ্ট ইটগুলো সরাতে যতদিন সময় লাগবে ততদিন পর্যন্ত তারা কোনো বেতন পাবেন না। কাজ করতে হবে পেটে-ভাতে।

শ্রমিক হামিদুল ইসলাম জানান, পেটে ভাতেই কাজ করতে হবে। তাছাড়া কোনো উপায় নেই। আমাদের যেমন ক্ষতি, ঠিক তেমনি ক্ষতি মালিকদেরও। মাটি অপসারণ না করানো হলে কোনো উৎপাদন শুরু হবে না আর আমাদের কাজও শুরু হবে না। দিন হাজিরা ভিত্তিতে প্রতিজন শ্রমিক ২৫০ থেকে ৩৫০ টাকা করে উপার্জন করেন বলেও জানান তিনি।

এ ব্যাপারে দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার ইটভাটা এন এইচ ব্রিকের মালিক ইয়াকুব আলী বাবুল জানান, হঠাৎ করে বৃষ্টিপাতের কারণে তার ভাটার আট লাখ ইট নষ্ট হয়ে গেছে। প্রতি হাজার কাচাঁ ইট তৈরিতে পারিশ্রমিক দিতে হয় পাঁচশত টাকা। আরার নষ্ট ইটগুলো সরাতে খরচ হবে হাজারে পাঁচশত টাকা। এতে ক্ষতি হবে সরাসরি আট লাখ টাকা। আবার অন্যান্য ক্ষতি তো আছেই।

সদর উপজেলার এন আর ব্রিকের মালিক শাহিনুর ইসলাম জানান, ভাটায় পুরোপুরি উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে। নতুন করে উৎপাদন শুরু করতে আরো কয়েকদিন লাগবে। কাঁচা ইট নষ্ট ও নতুন করে উৎপাদনে যাওয়া পর্যন্ত প্রতিটি ইটভাটাকে ২০ থেকে ২১ লাখ টাকা করে লোকসান গুণতে হবে।

এমদাদুল হক মিলন/এআরএ/পিআর