ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

তেলিয়াপাড়ায় মুক্তিযুদ্ধ কমপ্লেক্স নির্মাণ অনিশ্চিত

জেলা প্রতিনিধি | হবিগঞ্জ | প্রকাশিত: ০৪:৩৪ এএম, ০৪ এপ্রিল ২০১৬

আজ ৪ এপ্রিল। ঐতিহাসিক তেলিয়াপাড়া দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার তেলিয়াপাড়া চা বাগানের ম্যানেজার বাংলোয় স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের ঊর্ধ্বতন ২৭ সেনা কর্মকর্তার উপস্থিতিতে এ বৈঠকেই দেশকে স্বাধীন করার শপথ এবং যুদ্ধের রণকৌশল গ্রহণ করা হয়। মুক্তিযুদ্ধের রণাঙ্গনকে ভাগ করা হয় ১১টি সেক্টর ও ৩টি ব্রিগেডে। নিজের পিস্তল থেকে গুলি ছুড়ে যুদ্ধের সূচনা ঘোষণা করেন জেনারেল এমএজি ওসমানী। কিন্তু স্বাধীনতার ৪৫ বছরেও ঐতিহাসিক এ স্থানটি সংরক্ষণ করা হয়নি। এমনকি চা বাগান কর্তৃপক্ষের অসহযোগিতায় সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেও নির্মাণ হয়নি মুক্তিযুদ্ধ কমপ্লেক্স। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মুক্তিযোদ্ধারা।

মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের সম্পাদকমন্ডলীর সদস্য ক্যাপ্টেন (অব.) কাজী কবির উদ্দিন জানান, এনটিসির বড় বড় পদে মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষের শক্তির লোক বসে আছে। ফলে এখানে মুক্তিযুদ্ধ কমপ্লেক্স নির্মাণে তাদের আপত্তি। আমি আশা করি বর্তমান মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের সরকারের আমলেই এটি নির্মাণ করা হবে। পরবর্তী প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সম্মুন্নত রাখতে এটি অবশ্যই নির্মাণ করা প্রয়োজন।

Habigong

জেলা মুক্তিযোদ্ধা ইউনিট কমান্ডার মোহাম্মদ আলী পাঠন জানান, ২০১১ সালের ৭ মে তেলিয়াপাড়ায় মুক্তিযোদ্ধাদের মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের চেয়ারম্যান হেলাল মুর্শেদ খান বীর বিক্রম এখানে কমপ্লেক্স নির্মাণের ঘোষণা দেন। তা নির্মাণে ১০ কোটি টাকা আনুমানিক ব্যয়ও ধরা হয়েছিল। এজন্য প্রকল্পও গ্রহণ করা হয়েছিল। দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল এলজিইডি’র প্রধান প্রকৌশলীকে। তিনি সব প্রক্রিয়াও করেছিলেন। কিন্তু এখানে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি সংরক্ষণ করলে বাগানের পরিবেশ নষ্ট হবে এমন দাবির অজুহাতে এনটিসি তা বাস্তবায়নে আপত্তি তুলে। এর ফলে উক্ত প্রকল্পটি আর আলোর মুখ দেখেনি।

তেলিয়াপাড়া চা বাগানের ব্যবস্থাপক এমদাদুল হক জানান, বাগান এলাকায় মুক্তিযুদ্ধ কমপ্লেক্স তৈরিতে বাগান কর্তৃপক্ষের কোন আপত্তি নেই। ম্যানেজার বাংলোর চারপাশে দেয়াল দেয়া হয়েছে এনটিসির সিদ্ধান্তে। বাংলোর নিরাপত্তার স্বার্থে এটি দেয়া হয়েছে।

Habigong

উল্লেখ্য,  ১৯৭১ সালের ৪ এপ্রিল হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার তেলিয়াপাড়া চা বাগানের ম্যানেজার বাংলোয় জেনারেল এমএজি ওসমানীর নেতৃত্বে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের ঊর্ধ্বতন ২৭ সেনা কর্মকর্তা মিলিত হন। এখান থেকে নেয়া হয় মহান মুক্তিযুদ্ধের সর্বাত্মক প্রস্তুতি। রণাঙ্গনকে ভাগ করা হয় ১১টি সেক্টরে। জেনারেল ওসমানী নিজের পিস্তল থেকে গুলি ছুড়ে এখান থেকেই যুদ্ধের সূচনা ঘোষণা করেন। স্বাধীনতার পর সেখানে বুলেট আকৃতির দেশের প্রথম মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিসৌধও নির্মাণ করা হয়। এমন ঐতিহাসিক স্থানটি স্বাধীনতার ৪৫ বছরেও রয়ে গেছে চরম অবহেলিত। স্বাধীনতার পর থেকেই ঐতিহাসিক এ বাগানের ম্যানেজার বাংলোটি ছিল উন্মুক্ত। সাধারণ দর্শনার্থীরা মন খুলে এটি দেখতে পারতেন। কিন্তু সম্প্রতি বাগান কর্তৃপক্ষ দেয়াল নির্মাণ করে ম্যানেজার বাংলো থেকে স্মৃতিসৌধটি পৃথক করে দিয়েছে।

এসএস/এমএস