দুটি ব্রিজে অবসান হলো লাখো মানুষের ভোগান্তি
টাঙ্গাইলের মির্জাপুর-পাথরঘাটা রাস্তায় সদরের বংশাই নদীর ওপর ত্রিমোহন খেয়াঘাট এলাকায় ৩শ মিটার দৈর্ঘ্য ব্রিজটি নির্মাণের কাজ শেষ হয়েছে। ব্রিজটি নির্মাণ হওয়ায় উপজেলার চারটি ইউনিয়নবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি পুরণ হয়েছে। এতে প্রায় দুই লাখ মানুষের যাতায়াতে ভোগান্তির অবসান হলো।
অপরদিকে এ উপজেলার দেওহাটা-বিলগজারিয়া রাস্তার বহুরিয়া খেয়াঘাট এলাকার লৌহজং নদীর ওপর ১৪০ মিটার দৈর্ঘ্য ব্রিজটির নির্মাণের কাজও শেষ হয়েছে। এতে এ উপজেলার উত্তর এবং দক্ষিণ পূর্বাঞ্চলের বহুরিয়া ইউনিয়নের প্রায় ৫০ হাজার মানুষের সদরের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে দীর্ঘ দিনের যে ভোগান্তি ছিল তার অবসান হয়েছে বলে এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে।
প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ব্রিজ দুটি চলতি মাসেই আনুষ্ঠানিকভাবে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশারফ হোসেন উপস্থিত থেকে উদ্বোধন করবেন বলে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা জানিয়েছেন।
উপজেলা এলজিইডি অফিস সূত্র জানায়, উভয় ব্রিজই স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের অর্থায়নে নির্মিত হয়েছে। এরমধ্যে বংশাই নদীর উপর ৩০০ মিটার দৈর্ঘ্য এবং ৬.৮৫ মিটার প্রস্থ ব্রিজটি নির্মাণে ব্যয় হয়েছে প্রায় ১২ কোটি টাকা। এর নির্মাণ কাজ শুরু হয় ২০১০ সালের জুলাই মাসে।
অপরদিকে বহুরিয়া ইউনিয়নের বহুরিয়া খেয়াঘাট এলাকায় ১৪০ মিটার দৈর্ঘ্য এবং ৬.০৮ মিটার প্রস্থ ব্রিজটি নির্মাণে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৫ কোটি ৫০ লাখ টাকা। এর নির্মাণ কাজ শুরু হয় ২০১২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে।
সূত্র আরও জানায়, এ উপজেলার আজগানা, বাঁশতৈল, তরফপুর ও লতিফপুর ইউনিয়নের প্রায় দুই লাখ মানুষের উপজেলা সদরের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে বংশাই নদীর ত্রিমোহন খেয়াঘাটে চরম ভোগান্তি পোহাতে হতো। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ শতশত মানুষকে নদী পরাপারের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হতো। মির্জাপুর-পাথরঘাটা রাস্তায় সদরের ত্রিমোহন খেয়াঘাট এলাকায় বংশাই নদীর ওপর ব্রিজটি নির্মিত হওয়ায় জনগনের সেই চরম দুর্ভোগের অবসান হয়েছে বলে এলাকাবাসী জানিয়েছেন।
মির্জাপুর-পাথরঘাটা সড়কে ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল চালক মো. আলমগীর হোসেন, জামান মিয়া, রাইজ উদ্দিন, মো. মালেক মিয়া বলেন, খেয়াঘাট এলাকায় নৌকা পার হতে ইজারাদাররা সাধারণত ২০ টাকা করে নিয়ে থাকেন। তাছাড়া তারা নিয়মিত পারাপার হওয়ার কারণে তাদের কাছ থেকে ১০ টাকা করে নেয়া হতো। ব্রিজটি নির্মিত হওয়ায় এলাকাবাসী দীর্ঘ দিনের ভোগান্তি থেকে মুক্তি পেলো।
লতিফপুর ও তরফপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান যথাক্রমে মো. জাকির হোসেন ও মুক্তিযোদ্ধা আবুল কাশেম সিকদারের সঙ্গে কথা হলে তারা জানান, মির্জাপুরের উত্তর ও পূর্বাঞ্চলের চারটি ইউনিয়নবাসীর সদরের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে যে ভোগান্তি পোহাতে হতো ব্রিজটি নির্মিত হওয়ায় এলাকার জনগনের যুগ-যুগান্তরের সমস্যার অবসান হয়েছে।
সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি স্থানীয় সাংসদ মো. একাব্বর হোসেনের সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, ব্রিজ দুটি নির্মিত হওয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেয়া প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন হলো। এতে এলাকাবাসীর দীর্ঘ দিনের দাবিও পুরোণ হলো। চলতি মাসের যে কোনো দিন ব্রিজ দুটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হবে বলে তিনি জানান।
এফএ/পিআর