ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

নিহত তরিকুল সবজি ব্যবসায়ীর পরিচয়ে থাকতেন

প্রকাশিত: ১১:৫৮ এএম, ০৫ এপ্রিল ২০১৬

বগুড়ায় গ্রেনেড বিস্ফোরণে নিহত তরিকুল ইসলাম (৩০) ছিলেন ছদ্মবেশ ধারণ করে থাকা জেএমবির ইসাবা গ্রুপের সদস্য। হামলার টার্গেট নির্ধারণ ও অপারেশনের কাজ পরিচালনা করতেন তিনি। একই সঙ্গে বোমা তৈরি এবং টার্গেটে হামলা চালানো বিশেষ প্রশিক্ষণ ছিল তার। আর তার সঙ্গে নিহত অপর যুবক ছিল দলটির বোমা বিশেষজ্ঞদের একজন।

শেরপুরে জুয়ানপুর কুঠিবাড়ি এলাকার জেএমবির আস্তানা হিসেবে ব্যবহার করা বাড়ির মালিকের মেয়ে সুমাইয়া আকতার পলি জানান, বাড়ি ভাড়া নেয়ার সময় অটোরিকশাচালক মিজান নামে একজন এসেছিলেন। তার সঙ্গে ছিল তরিকুল। তিনি নিজেকে মিজানের ভগ্নিপতি ও কাঁচামালের ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচয় দেয়।

গোয়েন্দা পুলিশ জানায়, দুর্ঘটনার পর বাড়ি তল্লাশিকালে তরিকুলের ব্যাগে থাকা তার বড় ভাই কুদরত উল্লাহর পাসপোর্টের সূত্র ধরে তার পরিচয় জানা যায়। নিহত তরিকুল ইসলাম সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার শিয়ালকোল ইউনিয়নের জামুয়া গ্রামের সরকারি প্রাথমিক বিদালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মওলানা আবু বকর সিদ্দিকের ছোট ছেলে। ২০০৫ সালে দেশব্যাপী সিরিজ বোমা হামলার সময় তরিকুল কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলেন।

জঙ্গি সংগঠনে জড়িত থাকার অপরাধে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ পরবর্তী সময়ে তাকে বহিষ্কার করে। এরপর থেকে তরিকুল সিরাজগঞ্জে নিজের গ্রামে এসে জেএমবির কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত হয়ে পড়েন।

এর আগে তরিকুলের ব্যাগ থেকে উদ্ধারকৃত কাগজপত্রের সূত্র ধরে তার বাবা, ভাই ও বোনসহ ছয় স্বজনকে আটক করে সিরাজগঞ্জ ডিবি পুলিশ। তারা হলেন, তরিকুলের বাবা মওলানা আবু বকর সিদ্দিক (৮০), বড় ভাই ইসলামী ব্যাংক উল্লাপাড়া শাখার সিনিয়র অফিসার মো. সানা উল্লাহ (৪৫), ভাই জামুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক লিয়াকত হোসেন (৩৬), বরকত উল্লাহ (৩০), ভাবি মেহবুবা আকতার (৩২) ও বোন সাকেরা খাতুন (২৫)। এদের মধ্যে পুরুষ সদস্য চারজনকে বগুড়ায় নিয়ে আসা হয়।

এ ব্যাপারে বগুড়ার পুলিশ সুপার (এসপি) আসাদুজ্জামান জানান, নিহত তরিকুলের পরিবারের চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদের করা হয়েছে। আর শেরপুর থানার এসআই বুলবুল হোসেন বাদী হয়ে অস্ত্র ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে একটি মামলা দায়ের করেছে।

মামলাটি তদন্ত করছে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান। তিনি জানান, সোমবার রাতে তরিকুলের পরিবারের সদস্যরা প্রথমে মরদেহ দেখে শনাক্তে অস্বীকার করেন। পরে জিজ্ঞাসাবাদের মুখে তারা পরিচয় স্বীকার করে নেয়।

এআরএ/এবিএস