বেনাপোলে মাস হিস্টেরিয়া রোগে অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী অসুস্থ
যশোরের বেনাপোল পোর্ট থানার ধান্যখোলা মাধ্যমিক ও শাখারীপোতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫৬ জন শিক্ষার্থী মাস হিস্টেরিয়া রোগে আক্রান্ত হয়েছে। এর মধ্যে ১৫ জনকে শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। বুধবার ও বৃহস্পতিবারে তারা এ রোগে আক্রান্ত হয়।
বর্তমানে ৯ জন শিক্ষার্থী শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছে। বাকিরা স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়েছে। এ ঘটনায় অভিভাবকদের মাঝে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। আশেপাশের স্কুলগুলোতে অঘোষিত ছুটি চলছে।
উপজেলা প্রাথমিক সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মাসুম বিল্লা জানান, প্রচণ্ড গরমের কারণে বুধবার ধান্যখোলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ২১ জন ও বৃহস্পতিবার শাখারীপোতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩৫ জন শিক্ষার্থী অজ্ঞান হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। এসময় অনেকে ছটফট করতে থাকে। ভয়েতে ক্লাস রুমের অন্যান্য ছাত্র-ছাত্রীরা কান্নাকাটি শুরু করে।
শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবকদের কান্নাকাটিতে এলাকাবাসীরা সবাই ছুটে আসে। তাৎক্ষণিকভাবে তারা প্রাথমিক চিকিৎসক নিয়েছে। গুরুতর ৯ জন শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এরা হলো দশম শ্রেণির সুমাইয়া আক্তার তন্নি ও সুমাইয়া খাতুন, দবম শ্রেণির মালিয়া খাতুন, পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী বৃষ্টি খাতুন ও আখি খাতুন, তৃতীয় শ্রেণির সাথী খাতুন।
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে ধান্যখোলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহি আলম ও শাখারিপোতা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মুনসুর আলী জাগো নিউজকে জানান, এ ঘটনার পর ঊর্ধ্বতন কোনো কর্মকর্তা আমাদের স্কুলে আসেননি।
তবে মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের একাডেমিক সুপারভাইজার নুরুজ্জামান স্কুল পরিদর্শন করেছেন। তাছাড়া কোনো ডাক্তারও এ ঘটনায় এগিয়ে আসেনি। গ্রামের গরিব অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের গ্রাম্য চিকিৎসক দ্বারা চিকিৎসা দিয়ে সুস্থ করেছেন।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) লিটন আলী বলেন, আমি নাভারণ হাসপাতালের দায়িত্বরত আরএমওকে চিকিৎসার সার্বিক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছি।
শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মঞ্জুরুল মুরশিদ বলেন, অতিরিক্ত গরমে শিশুরা এ ধরনের রোগে আক্রান্ত হয়। ভয়ের কোনো কারণ নেই। বিশ্রাম নিলেই শিশুরা সুস্থ হয়ে যাবে।
জামাল হোসেন/এআরএ/আরআইপি