ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

শেরপুরে পৃথক অগ্নিকাণ্ডে বসতঘর-দোকান পুড়ে ছাই

প্রকাশিত: ০৬:১৫ পিএম, ০৮ এপ্রিল ২০১৬

শেরপুর পৌর শহরের তেরাবাজারে এবং নকলা উপজেলার পাঠাকাটা ইউনিয়নে শুক্রবার ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে বসতঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভস্মিভূত হয়েছে। এতে প্রায় দুই কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে।

ফায়ার সার্ভিস অফিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুপুর ১টার দিকে তেরাবাজারে মোস্তফা মিয়ার লেপ-তোষকের দোকানের বৈদ্যুতিক মিটার থেকে আগুনের সূত্রপাত ঘটে। দোকানের বস্তায় তুলা থাকায় মূহুর্তের মধ্যে আগুন চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। আগুনের লেলিহান শিখায় মোস্তফার বসতঘর-দোকান, তার ভাই আশরাফ মিয়ার বসতঘর-দোকান, প্রতিবেশী স্বাগতম শীল, জোবায়দা বেগমের বসতঘরসহ ১০টি বসতঘর ও ৪টি দোকানের সকল মালামাল ভস্মিভুত হয়। আগুন আতঙ্কে আশ-পাশের লোকজন বাড়ি-ঘর ছেড়ে রাস্তায় বেরিয়ে আসে।

জুমার নামাজের সময় হওয়ায় তেরাবাজার মাদ্রাসার মুসুল্লিরাসহ স্থানীয় লোকজন আগুন নেভাতে ঝাপিয়ে পড়েন। খবর পেয়ে শেরপুরে দুইটি ও জামালপুরের একটি ইউনিটের দমকল কর্মীরা ঘটনাস্থলে হাজির হয়ে প্রায় ৩ ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। এসময় স্থানীয় এমপি হুইপ আতিউর রহমান আতিক ঘটনাস্থলে গিয়ে দমকল কর্মীদের পরামর্শ দিয়ে আগুন নেভানোর কাজে উদ্বুদ্ধ করেন।

পরে হুইপ ক্ষতিগ্রস্ত ৪ পরিবারকে ১ লাখ টাকা, ৮ বান্ডিল টিন এবং ঘর তোলার জন্য নগদ ২৪ হাজার টাকা প্রদান করেন। এসময় জেলা প্রশাসক ডা. এ এম পারভেজ রহিম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আব্দুল ওয়ারিশ, দমকল বিভাগের উপ-পরিচালক রুহুল কুদ্দুস উপস্থিত ছিলেন।

ক্ষতিগ্রস্ত মোস্তফা মিয়া, জোবাইদা বেগম ও স্বাগতম শীল জানান, আগুনে তাদের মোটর সাইকেল, ফ্রিজ, টেলিভিশন, স্বর্ণালংকার, ঘরের আসবাবপত্র, নগদ অর্থসহ কোটি টাকার মালামাল পুড়ে ছাই হয়েছে।  

শেরপুর দমকল বিভাগের উপ-সহকারী পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, প্রাথমিক তদন্তে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় প্রায় অর্ধকোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এদিকে দুপুর একটার দিকে নকলা উপজেলার পাঠাকাটা বাজারে আরেকটি ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ইলেট্রনিক্স, কাপড়, রং ও হার্ডওয়ারের দোকানসহ ৮টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পুড়ে ছাই হয়েছে। ময়মনসিংহ জেলার ফুলপুর উপজেলা থেকে দমকল কর্মীরা গিয়ে ২ ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এসময় আগুন নেভানোর জন্য ৫টি দোকান ভেঙে ফেলা হয়। এতে ক্ষয়-ক্ষতির পরিমাণ কোটি টাকার বেশি হবে বলে জানা গেছে।

নকলার ইউএনও মো. আবুল কালাম আজাদ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, কিভাবে আগুন লেগেছে তা জানা যায়নি। তবে কোটি টাকার উপর ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। আগুনের লেলিহান শিখায় পাঠাকাটা বাজারের নামিদামী ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ধংস্বস্তুপে পরিণত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরির কাজ চলছে।

হাকিম বাবুল/একে