ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

বগুড়ায় আ.লীগ-বিএনপি সংঘর্ষ : ভাঙচুর-আগুন

প্রকাশিত: ০২:২৮ পিএম, ০৯ এপ্রিল ২০১৬

বগুড়ার গাবতলীতে আওয়ামী লীগ-বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এসময় অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। পুলিশ দুই পক্ষকে ছত্রভঙ করতে ৫০ রাউন্ড রাবার বুলেট ছুঁড়েছে। বর্তমানে ওই এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা বিরাজ করছে।

শনিবার সন্ধ্যায় উপজেলার রামেশ্বরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে সংর্ঘষের ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, বিকেল সাড়ে ৪টায় রামেশ্বরপুর ইউনিয়ন বিএনপির উদ্যোগে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে এক বর্ধিত সভার আহ্বান করা হয়। সভায় ইউপি নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আব্দুল ওয়াহাব মন্ডল উপস্থিত ছিলেন।

সন্ধ্যার কিছু আগে সভা চলাকালে রামেশ্বরপুর ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান ও বগুড়া শহর আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক রফিনেওয়াজ খান রবিনের কর্মী সমর্থকরা ১১টি মোটরসাইকেল যোগে স্কুল মাঠে গিয়ে বিএনপির বর্ধিত সভা বন্ধ করতে বলে। এসময় বিএনপির নেতাকর্মীদের ধাওয়ার মুখে মোটরসাইকেল ফেলে রেখে আওয়ামী লীগের কর্মী সমর্থকরা পালিয়ে যায়। পরে বিএনপির নেতাকর্মীরা ফেলে যাওয়া মোটরসাইকেলগুলোতে আগুন ধরিয়ে দেয়।

সন্ধ্যার দিকে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা সংঘবদ্ধ হয়ে বিএনপির নেতাকর্মীদের উপর হামলা চালালে দুইপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। এসময় পুলিশ প্রথমে লাঠিচার্জ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। এরপর পুলিশ রাবার বুলেট ছুঁড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। একপর্যায় পুলিশের সঙ্গে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা যোগ দিলে বিএনপির নেতাকর্মীরা পালিয়ে যায়।

সংঘর্ষের কারণে বিএনপির বর্ধিত সভা সমাপ্তির আগেই পণ্ডু হয়ে যায় এবং পুলিশের সহযোগিতায় আওয়ামী লীগের কর্মী সমর্থকরা স্কুল মাঠে অবস্থান নেয়। এসময় রামেশ্বরপুর বাজারে বিএনপির সমর্থিত লোকজনের সাতটি দোকানে আগুন দেয় আওয়ামী লীগ কর্মীরা।

পুলিশের ভয়ে আহতরা পালিয়ে যাওয়ায় তাদের পরিচয় জানা যায়নি। তবে ঘটনার আহসান নামে এক পুলিশ কনস্টেবল আহত হয়েছে বলে জানা গেছে। সংঘর্ষের পর রামেশ্বরপুর বাজারের দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়। বিএনপির কর্মী সমর্থকরা ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে গেছে।

ঘটনা সম্পর্কে রামেশ্বরপুর ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান ও বগুড়া শহর আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক রফিনেওয়াজ খান রবিন জানান, নির্বাচনী কাজে বের হয়ে বিএনপির প্রার্থী লোকজন বিনা কারণে তার কর্মীদের উপরে হামলা চালায়। তাদের মোটরসাইকেলও পুড়িয়ে দেয়।

তিনি আরো জানান, পুলিশের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এসআই লাল মিয়ার ভূমিকা এসময় প্রশ্নবিদ্ধ ছিলো। কারণ তিনি চেষ্টা করলে এই সহিংসতা এড়াতে পারতেন।

আর বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল ওয়াহাব মন্ডল অভিযোগ করে বলেন, তার সভায় পরিকল্পিতভাবে এই হামলার ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের পক্ষে ছিলো।

এ ব্যাপারে গাবতলী মডেল থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) লাল মিয়া জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সহিংসতা এড়াতে স্কুল মাঠে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পুলিশ কোনো প্রশ্নবিদ্ধ আচরণ করেনি।

এআরএ/আরআইপি