শেরপুরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের কাজে বাধা : মামলা দায়ের
বগুড়ার শেরপুরে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার কাজে বাধা এবং উপজেলা ভূমি অফিস ভাঙচুরের ঘটনায় পৃথক দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
সোমবার দুপুরে শেরপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফিরুজুল ইসলাম বাদী হয়ে থানায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা কাজে বাধা দেয়ার অভিযোগে একটি এবং সরকারি অফিস ভাঙচুর ও (ভূমি কার্যালয়) তছনছের অভিযোগে আরও একটি মামলা দায়ের করেন।
মামলায় উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক পৌর কাউন্সিলর চন্দন কুমার দাস রিংকুর নাম উল্লেখ করে প্রায় ৪ শতাধিক অজ্ঞাতব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।
অভিযোগ থেকে জানা যায়, শেরপুর উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক রিংকু ও উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রতন কর্মকারের নেতৃত্বে উত্তরবাহিনী পৌর মহাশ্মশানের পাশে করতোয়া নদীতে শ্যালো মেশিন বসিয়ে বালু উত্তোলন করে মহাশ্মশানের নিচু এলাকা ভরাট করা হচ্ছিল। এঘটনায় রোববার বিকেলে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফিরুজুল ইসলামের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই দুইজনকে আটক করে এবং বালু উত্তোলনের কাজে ব্যবহৃত শ্যালোমেশিন জব্দ করে। তাদের আটকের সংবাদ পেয়ে স্থানীয় বিক্ষুব্ধ জনগণ থানা ঘেরাও করে। পরে তারা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে চেয়ার, টেবিল, গ্লাসসহ আসবাবপত্র ভাঙচুর করে।
রাতে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মজিবর রহমান মজনু, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাইফুজ্জামান ফারুকী, শেরপুর পৌরসভার মেয়র আলহাজ আব্দুস সাত্তার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা একেএম সরোয়ার জাহান বৈঠক করে পরিস্থিতি শান্ত করতে আটক রিংকু ও রতনকে থানা থেকে ছেড়ে দিলে বিক্ষুব্ধরা ফিরে যায়। সন্ধ্যায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয় ভাঙচুরের ঘটনা পরিদর্শন করেন জেলা প্রশাসক আশরাফ উদ্দিন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা শেরপুর থানা পুলিশের এসআই বুলবুল ইসলাম জানান, দুটি মামলায় ৪ শতাধিক অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।
শেরপুর থানা পুলিশের ওসি খান মো. এরফান বলেন, সরকারি কাজে বাধা ও সরকারি অফিস ভাঙচুরের ঘটনায় পৃথক দুটি মামলা দায়ের হয়েছে। এখন তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
লিমন বাসার/এমএএস/আরআইপি