ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

অন্ধ হয়েও হার মানেননি বংশীবাদক রফিক

প্রকাশিত: ০৭:১১ এএম, ১৩ এপ্রিল ২০১৬

আমি আমার স্বামীকে অনেক ভালোবাসি। আমার স্বামী কখনো ভিক্ষা করা পছন্দ করেন না। তিনি ভিক্ষাকে ঘৃণা করেন। তাই এতো অভাবের সংসারেও কারো কাছে কোনোদিন হাত পাতেননি তিনি। কথাগুলো বলছিলেন শরীয়তপুর সদর উপজেলার বংশীবাদক রফিক মুন্সীর স্ত্রী রোকেয়া বেগম। শরীয়তপুরের রাস্তায়, বিভিন্ন মেলায় রফিক মুন্সীকে দেখা যায় বাঁশি ও বিভিন্ন মুখরোচক খাবার বিক্রি করতে।

শরীয়তপুর সদর উপজেলার ভূচুরা গ্রামে বাবা হোসেন মুন্সি ও মা আঞ্জুমান আরার ঘর আলো করে ১৯৫৬ সালে জন্ম নেন মো. রফিক মুন্সী (৬০)। কিন্তু চার বছর বয়সে টাইফয়েড জ্বরে আক্রান্ত হয়ে সে অন্ধ হয়ে যায়। সেই থেকেই নিজের কাজ নিজে করার দৃঢ় মনোবল নিয়ে বড় হতে থাকেন রফিক। অন্যের সাহায্যের জন্য কখনো হাত বাড়াননি তিনি।

Basiola

১৯৭২ সাল থেকে জীবিকার জন্য বেছে নেন বাঁশি। বাঁশি বাজিয়ে সুরের কারুকার্যে মানুষ জড়ো করে বিক্রি করেন বাঁশি। এক সময় ছোট-বড় অনেকেই বাঁশি কিনে বাজাতো। ফলে বাঁশি বিক্রির পয়সায় ৫ সদস্যের সংসার ভালভাবেই চলে যাচ্ছিল। কিন্তু সন্তানেরা বড় হলে সংসারের খরচ বাড়ে অন্যদিকে কমে যায় বাঁশি বিক্রি। বাধ্য হয়ে চকলেট জাতীয় দ্রব্য বিক্রি শুরু করেন তিনি। বর্তমানে তিনি অসুস্থ অবস্থায় দিন যাপন করছেন।

২ ছেলে ও ১ মেয়ে নিয়ে একটি সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে অভাবকে গোপন করে রেখেছে রফিক মুন্সীর পরিবার। রফিক মুন্সীর বড় ছেলে আব্দুর রহীম একজন বাঁশি বাদক সে দেশের বিভিন্ন স্থানে বাঁশি বাজিয়ে থাকেন। ছোট ছেলে সোহাগ মুন্সী একজন বাউল শিল্পী সেও দেশের বিভিন্ন স্থানে বাউল গান করেন। একমাত্র মেয়েকে বরিশাল জেলায় বিয়ে দিয়েছেন দিয়েছেন তিনি।

Basiola

জানা যায়, তৎকালীন রাষ্ট্রপতি হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদ তাকে সম্মামনা প্রদান করে। এছাড়াও ২০১৩ সালে জেলা শিল্পকলা একাডেমি থেকে যন্ত্র সংগীতে অবদানের জন্য তাকে পুরস্কৃত করা হয়।

এ পর্যন্ত রফিক মুন্সীকে কোনো প্রকার প্রতিবন্ধী ভাতা প্রদান করা হয়নি। কিছুদিন যাবৎ তাকে সংবাদকর্মীদের অনুরোধে বয়স্ক ভাতা প্রদান করা হচ্ছে।

এবিষয়ে জেলা সমাজসেবা অধিদফতরের উপ-পরিচালক মোস্তফা কামাল বলেন, আমি নতুন যোগদান করেছি। এ বিষয়ে আমি খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

এফএ/পিআর