নৌ ধর্মঘটে ৯ জেলায় জ্বালানি তেলের সঙ্কট
নৌ-যান শ্রমিক ফেডারেশনের ধর্মঘটের কারণে জাহাজ থেকে ভৈরবের তিনটি তেল ডিপোতে তেল আমদানি না হওয়ায় গত কয়েকদিন যাবত ভৈরবসহ ৯ জেলায় জ্বালানি তেলের সঙ্কট দেখা দিয়েছে। বর্তমানে সেখানে তেলের জন্য হাহাকার অবস্থা বিরাজ করছে।
গত তিনদিন যাবত দুটি ডিপোতে তেলের মজুদ শূন্য হয়ে যাওয়ায় বিভিন্ন জেলা থেকে আসা প্রায় শতাধিক ট্যাংক লরি তেলের জন্য অপেক্ষা করছে। ডিপোতে তেল সঙ্কটের কারণে কিশোরগঞ্জ জেলাসহ ৯টি জেলায় তেলের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে বলে জানা গেছে। এর ফলে বোরো আবাদে সেচ কাজ ব্যাহতসহ পরিবহন ভাড়া বৃদ্ধি পেয়েছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ডিপোগুলোতে তেলের মজুদ শূন্য হলেও মেঘনা নদীতে কয়েকটি জাহাজ ৫০ লাখ লিটার তেল উত্তোলনের অপেক্ষায় রয়েছে। নৌ-যান শ্রমিকদের ধর্মঘটের কারণে জাহাজের কর্মচারীরা নদীতে নোঙর দিয়ে জাহাজ নিয়ে বসে আসে। তারা বলছেন, ধর্মঘট প্রত্যাহার না হলে জাহাজের তেল ডিপোতে আমদানি হবে না।
জানা গেছে, ভৈরবের যুমনা, মেঘনা ও পদ্মা অয়েল কোম্পানীর ৩টি ডিপো থেকে প্রতিদিন কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোনা, ময়মনসিংহ, জামালপুর, শেরপুর, নরসিংদী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, হবিগঞ্জ ও সুনামগঞ্জসহ ৯টি জেলায় প্রায় ১০ লাখ লিটার তেল সরবরাহ হয়ে থাকে। ২১ এপ্রিল থেকে নৌ-যান শ্রমিক ফেডারেশনের ধর্মঘট চলছে। এ ধর্মঘটের কারণে গত ৬ দিন যাবত ভৈরবে মেঘনা নদীতে অপেক্ষমান জাহাজগুলো থেকে ডিপোগুলোতে তেল আমদানি হচ্ছে না।
উল্লেখ্য, ভৈরবের ডিপোগুলোতে নদী পথে জাহাজযোগে চট্টগ্রাম থেকে তেল আসে। এদিকে আগের মজুদকৃত ডিজেল ও কেরোসিন যমুনা ও মেঘনা ডিপোতে গত ৩ দিন আগেই শেষ হয়ে গেছে। ফলে বিভিন্ন জেলা থেকে প্রায় শতাধিক ট্যাংকলরি তেল নেওযার জন্য অপেক্ষা করছে। এদিকে জ্বালানি তেল না পেয়ে ভৈরবসহ বিভিন্ন এলাকায় তেলের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। ৬৩ টাকা লিটার দরের তেল গ্রামগঞ্জে ৯০/১০০ টাকা দরে বিক্রির খবরও পাওয়া গেছে।
ভৈরব থেকে তেল নিতে আসা তারাকান্দা এলাকার ট্যাংকলরি ড্রাইভার আব্দুল মালেক জানান, গত ৩ দিন যাবত তেলের জন্য অপেক্ষা করছি।
ময়নমসিংহ থেকে আসা ড্রাইভার আজাদুল জানান, গত সোমবার সকাল থেকে তেল নেওয়ার জন্য অপেক্ষা করেও তেল পাচ্ছি না।
ভৈরবের জ্বালানী তেল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি হাজি জিল্লুর রহমান জানান, নৌ-যান শ্রমিকদের দাবি মেনে নিয়ে সরকার শিগগিরই ধর্মঘট প্রত্যাহারের ব্যবস্থা না করলে তেল সঙ্কট ভয়াবহ আকার ধারণ করবে।
ভৈরবের মেঘনা ডিপোর সুপারেনটেন্ড জামাল উদ্দিন ভুইয়া জানান, তিন দিন যাবত আমার ডিপোতে ডিজেল নেই। নদীতে জাহাজে ৩০ লাখ লিটার তেল আছে। ধর্মঘট প্রত্যাহার না হলে ওই তেল আমদানি করা যাচ্ছে না।
যমুনা ডিপোর সুপারেনটেন্ট নজমুল ইসলাম বলেন, তার ডিপোতে গত ৪ দিন ধরে তেলের মজুদ শূন্য।
ভৈরব উপজেলা নির্বাহী অফিসার দিলরুবা আহমেদ জানান, নৌ- যান শ্রমিকদের ধর্মঘট প্রত্যাহারের ব্যাপারটি আমাদের হাতে নেই। তবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে ধর্মঘটের ঘটনাটি তিনি অবহিত করবেন বলে জানান।
নৌ-যান শ্রমিক ফেডারেশন আশুগঞ্জ শাখার সাধারণ সম্পাদক ও সমন্বয়ক হাবিবুল বাহার বলেন, সরকার আমাদের দাবি না মানলে ধর্মঘট প্রত্যাহার হবে না।
আসাদুজ্জামান ফারুক/এফএ/এবিএস