ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

যুদ্ধাপরাধ মামলার সেই আসামির নৌকা প্রতীক বাতিল

প্রকাশিত: ০১:৩৪ পিএম, ২৮ এপ্রিল ২০১৬

হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার গজনাইপুর ইউপি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়ে চমক দেখিয়েছিলেন যুদ্ধাপরাধ মামলার আসামি ইউপি চেয়ারম্যান আবুল খায়ের গোলাপ। যে মুহূর্তে মানবতা বিরোধী অপরাধ মামলার আসামি হিসেবে চেয়ারম্যান আবুল খায়ের গোলাপকে নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে তোলপাড় চলছে ঠিক সেই মুহূর্তেই তাকে এ মনোনয়ন দেয়া হয়েছিল।

নবীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ইমদাদুর রহমান মুকুলের নাম বাদ দিয়ে তৃণমূল থেকে তার নাম প্রস্তাব পাঠানো হয়। এ নিয়ে উপজেলার সর্বত্র আলোড়ন সৃষ্টি করে। অবশ্য মানবতা বিরোধী আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন তার বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় বৃহস্পতিবার তার মনোনয়ন বাতিল করা হয়। এখানে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ইমদাদুর রহমান মুকুলকে মনোনয়ন দেয়া হয়। পাশাপাশি মানবতা বিরোধী অপরাধের প্রসিকিউশন আবুল খায়ের গোলাপকে নজরদারীর জন্য ম্যাসেজের মাধ্যমে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে জানিয়ে দিয়েছে।

দলীয় সূত্র দাবি করে, নবীগঞ্জ উপজেলার গজনাইপুর ইউনিয়নে নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে লড়াই করার জন্য উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ইমদাদুর রহমান মুকুলের নাম কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু দলীয় চূড়ান্ত মনোনয়নে উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতির নাম বাদ দিয়ে বর্তমান চেয়ারম্যান আবুল খায়ের গোলাপকে নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করার জন্য মনোনীত করা হয়।

উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের ১৭ জুলাই গজনাইপুর ইউপি চেয়ারম্যান আবুল খায়ের গোলাপের বিরুদ্ধে মানবতা বিরোধী অপরাধের অভিযোগ এনে একই উপজেলার নিশাকুড়ি গ্রামের আছকির উল্লাহর ছেলে মো. মানিক মিয়া বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। মামলার প্রেক্ষিতে বিষয়টি তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন দাখিলের জন্য হবিগঞ্জের পুলিশ সুপারকে নির্দেশ দেন বিচারক। এ প্রেক্ষিতে হবিগঞ্জ ডিবি পুলিশের তৎকালীন ওসি মো. মুকতাদির হোসেন দীর্ঘ তদন্ত শেষে গত ৩১ জানুয়ারি আবুল খায়ের গোলাপের বিরুদ্ধে মানবতা বিরোধী অপরাধের অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পেয়ে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। প্রতিবেদনে বলা হয়, চেয়ারম্যান আবুল খায়ের গোলাপ মানবতা বিরোধী অপরাধের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত ছিলেন।

১১ ফেব্রুয়ারি এ তদন্ত প্রতিবেদনের খবর বিভিন্ন মিডিয়ায় গুরুত্ব সহকারে প্রচার হলে নড়েচড়ে বসেন চেয়ারম্যান আবুল খায়ের গোলাপ। ১৭ ফেব্রুয়ারি বিভিন্ন পত্রিকায় মামলার বাদী মানিক মিয়া একটি বিজ্ঞাপন দেন। তাতে তিনি আবুল খায়ের গোলাপের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দায়েরকৃত মামলাটি মিথ্যা বলে দাবি করেন। আগের দিন হবিগঞ্জ নোটারী পাবলিকে এফিডেভিট করে মানিক মিয়া এ দাবি করেন।

অপরদিকে ওই উপজেলার গজনাইপুর ইউনিয়নের লোগাঁও গ্রামের বাসিন্দা মৃত রইছ উল্লাহর মেয়ে বিরাঙ্গণা সুকুরী বিবি (৬৫) চলতি বছরের ১৩ মার্চ মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় ইউপি চেয়ারম্যান আবুল খায়ের গোলাপের বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ এনে মানবতা বিরোধী আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ দায়ের করেন। এতে তিনি উল্লেখ করেন, তার নির্যাতনের শিকার হন এলাকার অসংখ্য নারী। এমন ধারাবাহিকতায় তিনিও অমানুষিক নির্যাতনের শিকার হন। গোলাপ ১৯৭১ সালের ১২ নভেম্বর বিকেলে হানাদার বাহিনীকে নিয়ে সুকুরী বিবির বাড়িতে হানা দেন। হায়েনারা তাকে তুলে নিয়ে পাশবিক নির্যাতন চালায়। থেমে থাকেননি আবুল খায়ের গোলাপও।

তিনিও অমানুষিক নির্যাতন করেন। শুধু সুকুরী বিবি নয়, তার নেতৃত্বে এলাকার অসংখ্য নিরীহ নারীকে ধরে নিয়ে নির্যাতন করা হয়। সেদিনের লোমহর্ষক স্মৃতি তিনি এখনও বয়ে বেড়াচ্ছেন। বর্তমান সরকার মানবতা বিরোধীদের বিচার শুরু করলে তার মনেও আশার সঞ্চার হয়। সুষ্ঠু বিচারের আশায় তিনি অভিযোগ দায়ের করেন।

এদিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্বাক্ষরিত দলীয় মনোনয়নপত্র হাতে পেয়ে বীরের বেশে ঢাকা থেকে এলাকায় ফিরেন চেয়ারম্যান আবুল খায়ের গোলাপ। আনন্দে মেতে উঠেন তার অনুসারী সমর্থকরা। ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পানিউমদা এলাকা থেকে শতাধিক মোটরসাইকেল, মাইক্রোবাস ও পিকআপ ভ্যানে করে আনন্দ মিছিল দিয়ে শো-ডাউন করে চেয়ারম্যান আবুল খায়ের গোলাপকে মামদপুর তার নিজ বাড়িতে নিয়ে আসে সমর্থকরা।

বৃহস্পতিবার ফের তার হাত থেকে নৌকা প্রতীক চলে যাওয়ায় হতাশায় ভেঙে পড়েন তার কর্মী সমর্থকরা।

সৈয়দ এখলাছুর রহমান খোকন/এমএএস/পিআর

আরও পড়ুন