মুক্তিপণ দিয়েও প্রবাসী স্বপনকে জীবিত পায়নি পরিবার
মুক্তিপণের টাকা বিকাশে পরিশোধ করার পরও জীবিত স্বপনকে ফিরে পায়নি তার পরিবার। গত বুধবার কুমিল্লার দেবিদ্বারে ধানক্ষেত থেকে উদ্ধার হওয়া অজ্ঞাত লাশটিই ছিল দুবাই ফেরত স্বপন মিয়ার।
ওই দিন উপজেলার ফতেহাবাদ ইউনিয়নের কোটনা গ্রামের একটি ধানী জমি থেকে ওই যুবকের বিকৃত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি জেলার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার রানীগাছ গ্রামের মো. মুজাফফর আলীর ছেলে। অজ্ঞাত পরিচয়ের ওই লাশটি উদ্ধারের পর কুমিল্লাস্থ আঞ্জুমানে মফিদুল ইসলামের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছিল। এ খবর বুধ ও বৃহস্পতিবার জাগো নিউজসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার বিকেলে নিহতের বড় ভাই পূবালী ব্যাংক প্রধান কার্যালয়ে কর্মরত মো. জাহাঙ্গীর আলমসহ আত্মীয়রা দেবিদ্বার থানায় গিয়ে লাশের ছবি এবং পরিহিত শর্টপ্যান্ট দেখে মরদেহটি স্বপন মিয়ার বলে সনাক্ত করেন।
দুবাই প্রবাসী স্বপন মিয়াকে তার বন্ধুরাই মোবাইলে ডেকে নিয়ে টাকা আদায় করে হত্যা করেছিল।
পুুলিশ ও নিহতের বড় ভাই পূবালী ব্যাংক প্রধান কার্যালয়ে কর্মরত মো. জাহাঙ্গীর আলম জানান, তার ভাই মো. স্বপন মিয়া (২৬) প্রায় ৬ বছর ধরে দুবাই প্রবাসী হিসেবে ছিল। গত জানুয়ারি মাসে ৩ মাসের ছুটি নিয়ে সে দেশে আসে। গত ৪ এপ্রিল তার দুবাই চলে যাওয়ার কথা ছিল। গত ২৪ এপ্রিল সোমবার সকালে বুড়িচং উপজেলার তার এক বন্ধু মোবাইল ফোনে বুড়িচং খেয়াঘাটে তাকে ডেকে নেয়। পরে বিকেলে মোবাইল ফোনে ৩ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। এসময় তাৎক্ষণিকভাবে দেড় লক্ষ টাকা বিকাশ করে পাঠানো হলেও দুর্বৃত্তরা স্বপনের অবস্থান জানায়নি। ওই দিনই তার পরিবারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে ব্রাহ্মণপাড়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়।
সর্বশেষ বুধবার সকালে স্বপনের মোবাইলে আরও ৭৫ হাজার টাকা বিকাশে পাঠানো হলেও এ দিনই তার লাশ উদ্ধার করা হয়।
দেবিদ্বার থানা পুলিশের ওসি মো. মিজানুর রহমান জানান, প্রথমে ওই যুবকের পরিচয় নিশ্চিত হতে না পারায় বুধবার বিকেলেই থানার এসআই মো. সোহেল আহমেদ বাদী হয়ে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করে।
তিনি আরও জানান, স্বপনকে হত্যার পরও দুর্বৃত্তরা তার মোবাইলে বিকাশের মাধ্যমে টাকা নিয়েছিল। কারণ বুধবার লাশ উদ্ধারের সময় তার শরীর ও মুখমণ্ডলের অধিকাংশ স্থানে পঁচন ধরেছিল ও পোকায় বাসা বেঁধেছিল। তাই ধারণা করা হচ্ছে হয়তো কয়েক দিন আগেই তাকে হত্যা করা হয়। তবে নিহতের পরনে নীল রং এর এটি জিন্সের প্যান্ট এবং নীল রঙ্গের একটি শর্টপ্যান্ট দেখে পরিবারের সদস্যরা লাশটি স্বপনের বলে সনাক্ত করে। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে বলে জানা গেছে।
মো. কামাল উদ্দিন/ এমএএস/পিআর