অবশেষে সুন্দরবনের আগুন নিয়ন্ত্রণে
ফাইল ছবি
অবশেষে সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের ধানসাগর স্টেশনে লাগা আগুন তিন দিন পর নিয়ন্ত্রণে এসেছে। ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট বুধবার বিকেলে এ আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। সরকারি হিসেবে আগুনে পুড়ে গেছে সাড়ে তিন একর বনভূমি।
পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের ডিএফও (বিভাগীয় বন কর্মকর্তা) মো. সাইদুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, তিন দিন পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আসায় সুন্দরবন থেকে ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট প্রত্যাহার করে নেয়া হয়েছে।
আগুনে বনের সুন্দরীসহ মূল্যবান উদ্ভিদ পুড়েছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিক্ষিপ্তভাবে লাগা আগুনে মাটির উপরে থাকা বলাগাছ ও লতা জাতীয় উদ্ভিদ পুড়ে গেছে। আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। অতিরিক্ত সতর্কতা হিসেবে ফায়ার সার্ভিসের মোড়েলগঞ্জ ইউনিট আরো দুইদিন বনে রাখা হয়েছে।
এদিকে আগুন লাগার ঘটনাকে পরিকল্পিত নাশকতা হিসেবে উল্লেখ করে ছয়জনের নামে শরনখোলা থানায় মামলা করা হয়েছে। চাঁদপাই রেঞ্জের ধানসাগর বন কর্মকর্তা সুলতান মাহমুদ বাদী হয়ে আড়াই লাখ টাকার ক্ষতির কথা উল্লেখ করে এ মামলা দায়ের করেন।
মামলায় বলা হয়, ২৭ তারিখে ধানসাগর স্টেশনের বন কর্মকর্তা সুলতান মাহমুদ বনে টহল দেয়ার সময়ে তুলাতলা এলাকায় বনে ধোঁয়া দেখতে পায়। তাৎক্ষণিকভাবে তিনি বনকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে সেখানে গেলে চিহ্নিত ছয় ব্যক্তি বনের বেশ কিছু এলাকায় পরিকল্পিতভাবে আগুন দিয়ে দৌঁড়ে পালিয়ে যায়। আগুনে বনের লাকড়ি পুড়ে ৫০ হাজার টাকা এবং আগুনে জীব বৈচিত্রের দুই লাখ টাকার ক্ষতির কথা উল্লেখ করে ১৯২৭ সালের বন আইনের ধারায় চিহিৃত ওই ৬ আসামিকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
এর আগে ১৩ ও ১৮ এপ্রিল সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জে আগুন দেয়ার ঘটনায়ও ওই দুইটি মামলায় ১১ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছিল।
অপরদিকে, শুক্রবার রাতে সুন্দরবনে আগুন দেয়ার ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে শরনখেলা থানা পুলিশ উত্তর রাজাপুর এলাকা থেকে খলিলুর রহমান হাওলাদারকে (৩৫) আটক করে।
চলতি এপ্রিল মাসের ১৩, ১৮ ও ২৭ তারিখে চাঁদপাই রেঞ্জ এলাকায়ও তিন দফা আগুন লাগার ঘটনা ঘটে। আগুনের তিনটি ঘটনাকে বনবিভাগ পরিকল্পিত অগ্নিকাণ্ড উল্লেখ করে বনবিভাগ শরনখোলা থানায় অভিযোগ করে। তবে এর আগেও ২৮ মার্চ আরেক দফা চাঁদপাই রেঞ্জ এলাকায় আগুন লাগে।
শওকত আলী বাবু/এআরএ/এবিএস