ইভটিজিংয়ের প্রতিবাদে ক্লাশ পরীক্ষা বর্জন
ইভটিজিংয়ের ঘটনাকে কেন্দ্র করে শরীয়তপুর পলিটেকনিক ইন্সিটিটিউটের ছাত্র-ছাত্রীরা মঙ্গলবারের মধ্য পর্ব পরীক্ষাসহ ক্লাশ বর্জন করেছে।
এর আগে গত ২৮ এপ্রিল শরীয়তপুর পলিটেকনিক ইন্সিটিটিউটের ৬ ছাত্রীকে ইভটিজিং করে। তাৎক্ষণিকভাবে ইন্সিটিটিউটের ছাত্র-ছাত্রীরা ইভটিজিংকারীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করে বিক্ষোভ মিছিল, সমাবেশ অব্যাহত রাখে। কিন্তু ৬ দিন পার হলেও প্রশাসনিকভাবে কোনো পদক্ষেপ না নেয়ায় ছাত্র-ছাত্রীরা আজকের মধ্য পর্ব পরীক্ষাসহ ক্লাশ বর্জন করে।
জানা যায়, শরীয়তপুরস্থ দেওভোগ গ্রামে অবস্থিত গিয়াসউদ্দিন সরকারের বাড়িতে শরীয়তপুর পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের কিছু ছাত্র-ছাত্রী ম্যাচ করে থাকতেন। দীর্ঘ দিন ধরে ম্যাচ মালিক গিয়াস উদ্দিন সরকারের ছেলে নাঈম সরকার উক্ত ম্যাচের ৬ ছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করতেন। ছাত্রীরা সম্মানের ভয়ে সহ্য করতেন।
কিন্তু উপায়ান্তুর না দেখে ছাত্রীরা শরীয়তপুর পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষকে জানালে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে উক্ত ৬ ছাত্রীকে কলেজ ক্যাম্পাসের শিক্ষকদের বাসভবনে থাকার ব্যবস্থা করেন। ঘটনাটি জানাজানি হলে ইনস্টিটিউটের ছাত্র-ছাত্রীরা তার প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ করেন এবং ক্লাশ বর্জনসহ পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দেন। এরই ধারাবাহিকতায় উক্ত পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ছাত্র-ছাত্রীরা মঙ্গলবার পরীক্ষাসহ ক্লাশ বর্জন করে।20160503035828.jpg)
শরীয়তপুর পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ছাত্র ঐক্য পরিষদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, গত ২৮ এপ্রিল শরীয়তপুর পলিটেকনিক ইন্সিটিটিউটের ৬ ছাত্রীকে গিয়াস উদ্দিন সরকারের ছেলে নাঈম সরকার ইভটিজিং করে। তার বিচারের জন্য আমরা প্রশাসনকে জানিয়েছি। কিন্তু প্রশাসন তাকে গ্রেফতার তো দূরের কথা কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি। তাই আমরা সম্মিলিতভাবে আজকের মধ্য পর্ব পরীক্ষাসহ ক্লাস ক্লাশ বর্জন করেছি। যত দিন এ ইভটেজারের বিচার না হয় ততদিন পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে।
এ ব্যাপারে শরীয়তপুর পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ হুমায়ুন কবির খানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ইভটিজিংয়ের বিচারের দাবিতে ছাত্র-ছাত্রীরা মধ্য পর্ব পরীক্ষাসহ ক্লাশ বর্জন করেছে। আমরা চেষ্টা করছি খুব দ্রুত ছাত্র-ছাত্রীদের বুঝিয়ে ক্লাশে ফিরিয়ে নিয়ে আসবো।
ছগির হোসেন/এসএস/আরআইপি