ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

বিজ্ঞাপনে ঢাকা পড়েছে ফেরির প্রকৃত নাম

প্রকাশিত: ০৩:১৭ এএম, ১৮ মে ২০১৬

‘একলা হয়ে দাঁড়িয়ে অছি, তোমার জন্য গলির কোণে
ভাবি আমার মুখ দেখাব, মুখ ঢেকে যায় বিজ্ঞাপনে।’

কবি শঙ্খ ঘোষের কবিতার মতোই বিজ্ঞাপনে মুখ ঢেকে গেছে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া ও শিমুলিয়া-কাওরাকান্দি নৌ-রুটে চলাচলকারী রো-রো ফেরিগুলোর। নানা পণ্যের বিজ্ঞাপনে আড়াল হয়েছে ফেরির প্রকৃত নাম। ফলে নাম নিয়ে প্রতিনিয়ত বিভ্রান্তিতে পড়ছেন যাত্রীরা। অথচ বিআইডব্লিউটিসির এসব ফেরিগুলোর নামকরণ করা হয়েছে দেশের বীর সন্তান ও ইসলামি ব্যক্তিত্বদের নামে।

যাত্রী ও ফেরি সংশ্লিষ্টরা জানান, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহণ সংস্থার (বিআইডব্লিউটিসি) ফেরি চেনার উপায় হচ্ছে ওপরের অংশ সাদা এবং নিচে নীল রং। শুরু থেকেই এই রংয়ের ঐতিহ্য ধরে রেখেছিলো সংস্থাটি। কিন্তু হঠাৎ করেই সাদা-নীলের এ ফেরি সেজেছে নানা রংয়ে।

বিভিন্ন পণ্যের চটকদার বিজ্ঞাপনে ঢাকা পড়েছে সব কিছু। কোম্পানিগুলো তাদের পণ্যের প্রচার চালাতে গিয়ে বড় বড় অক্ষরে নানা চটকদার কথা লিখে রেখেছে পুরো ফেরিতে। আর এক কোণায় ছোট করে লেখা হয়েছে ফেরির নাম। যা সহজে দৃষ্টিগোচর হয় না।

Feri

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, একটি কোম্পানির পানির ট্যাংকের বিজ্ঞাপনে আড়াল হয়েছে বীরশ্রেষ্ঠ মোহাম্মদ রুহল আমীন ও জাহাঙ্গীর আলমের নাম। একই প্রতিষ্ঠানের টায়ারের বিজ্ঞাপনে আড়াল শাহ এনায়েতপুরী। চায়ের বিজ্ঞাপনে দেখা যাচ্ছে না শাহ আলী ও খান জাহান আলীর নাম। একই অবস্থা শাহ মুখদুমেরও। কাপড় ধোয়ার গুড়া সাবানের বিজ্ঞাপনে আড়াল এর নাম। মোবাইল ব্যাংকের বিজ্ঞাপনে ঢাকা পড়েছে আরো দুটি ফেরি।

শুধু ফেরিতে নয়, বিজ্ঞাপনের দাপট দেখা গেল ফেরি ঘাটের পন্টুনগুলোতেও। প্রতিটি পন্টুনেই এখন শোভা পাচ্ছে হরেক রকম বিজ্ঞাপন।

মানিকগঞ্জের গড়পাড়া গ্রামের সাব্বির মিয়া জানান, কয়েকদিন আগে তিনি এক আত্মীয়কে নিতে পাটুরিয়া ঘাটে এসেছিলেন। তার আত্মীয় ফেরিতে উঠে বলেছিলেন তিনি ইস্পাহানী ফেরিতে আছে। পরে দেখা গেল ফেরির নাম ইস্পাহানী নয়, ফেরির নাম খানজাহান আলী।

ফেরিযাত্রী আলমগীর হোসেন জানান, কোম্পানিগুলো ফেরির নাম ছোট করে লিখে পণ্যের প্রচারণা বড় করে চালিয়েছে। যার ফলে ফেরির প্রকৃত নাম চোখে পড়ে না। এতে বিভ্রান্তিতে পড়তে হয়।

তুহিন হোসেন নামে আরেক যাত্রী জানান, পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া ও শিমুলিয়া-কাওরাকান্দি রুটে চলাচলকারী সবগুলো ফেরির আগে একই রং ছিল। নীল আর সাদা। এই রং দেখে সহজে বিআইডব্লিউটিসির ফেরি চেনা যেত। কিন্তু এখন একেকটি ফেরির একেক ধরনের রং দেখে বোঝার উপায় নেই, কোনো ফেরিতে উঠেছি।

Feri

ফেরি যাত্রী ও দৌলতদিয়া উপজেলা যুবলীগের সভাপতি নজরুল মন্ডল জানান, বিআইডব্লিউটিসির ফেরিগুলো দেশের বীর শহীদ আর বিভিন্ন ইসলামি ব্যক্তিত্বদের নামে নামকরণ হওয়ায়, তাদের ব্যাপারে মানুষের জানার আগ্রহ বাড়তো। কিন্তু এখন ফেরির নাম হয়েছে ইস্পাহানী, ফেরির নাম গাজী টায়ার। ভালো ভালো নামগুলো বিজ্ঞাপনের আড়ালে ঢাকা পড়েছে। অথচ কর্তৃপক্ষ বিষয়টি যেন দেখছেই না।

বিআইডব্লিউটিসির মেরিন বিভাগ সূত্রে জানাগেছে, নৌ-মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে এক বছরের জন্য রো-রো ফেরিতে বিজ্ঞাপন প্রচারের অনুমতি দেয়া হয়েছে। ফেরি প্রতি বিজ্ঞাপন দাতারা দিচ্ছেন ৭৫ হাজার ৫০০ টাকা। তবে সামনে-পেছনে অন্তত্ব ৫টি স্থানে ফেরির নাম লেখার শর্ত রয়েছে।

বিআইডব্লিউটিসির ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) শেখ মো. নাসির জাগো নিউজকে জানান, পণ্যের নামের চেয়ে ফেরির নাম ছোট হওয়ার বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে। বিষয়টি জানিয়ে ঊধ্বর্তন কর্তৃপক্ষের কাছে তারা লিখিছেন। কর্তৃপক্ষ নতুন করে কোনো ফেরিতে বিজ্ঞাপন প্রচারের অনুমতি দিচ্ছেন না।

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি/এসএইচএস/পিআর