ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

শক্তি সঞ্চয় করে এগুচ্ছে রোয়ানু, প্রস্তুত প্রশাসন

প্রকাশিত: ০৪:৫৬ পিএম, ১৯ মে ২০১৬

কক্সবাজার সংলগ্ন পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর এলাকায় সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় ‘রোয়ানু’ শক্তি সঞ্চয় করে ক্রমশ উপকূলের দিকে এগিয়ে আসছে। মৌসুমী ঘূর্ণিঝড়ের কারণে থেমে থেকে বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। আকাশ মেঘাচ্ছন্ন। একারণে কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরকে ৪নং স্থানীয় হুঁশিয়ারি সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। অপরদিকে, ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলায় প্রস্তুত জেলা প্রশাসন। সন্ধ্যায় সভা করে প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি।

কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ একেএম নাজমুল হক জানান, ঘূর্ণিঝড়টি বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা নাগাদ চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ১ হাজার ৩৬৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে ও কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ১ হাজার ৩৩৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থান করছিল। এটি আরো ঘনীভূত হয়ে উত্তর-উত্তর পূর্ব দিকে অগ্রসর হতে পারে। ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৫৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৬২ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া আকারে ৮৮ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের নিকটবর্তী এলাকায় সাগর খুবই উত্তাল রয়েছে।

চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরকে ৪নং স্থানীয় হুঁশিয়ারি সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। এদিকে নিম্নচাপের প্রভাবে কক্সবাজার শহরসহ জেলায় মাঝারি বৃষ্টিপাত হচ্ছে। বৃহস্পতিবার ভোর ৬টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ৩৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে জানিয়ে সহকারী আবহাওয়াবিদ একেএম নাজমুল হক আরো বলেন, বৃষ্টিপাত আরো বাড়তে পারে। ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কায় দক্ষিণ বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত সকল মাছধরার নৌকা ও ট্রলারকে উপকূলের কাছাকাছি থাকতে বলা হয়েছে, যাতে তারা স্বল্প সময়ের নির্দেশে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে পারে।

কক্সবাজার সংলগ্ন গভীর সাগরে মৎস্য আহরণে যাওয়া ফিশিংবোটগুলো বিরূপ আবহাওয়ার কারণে ফিরে আসছে বলে জানিয়েছেন ফিশিং ট্রলার মালিকরা। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কক্সবাজার ফিশারিঘাট ও ৬ নম্বর এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, গভীর সমুদ্র ফেরত শত শত ফিশিংবোট নোঙ্গর করে আছে।

এদিকে, দুর্যোগের সম্ভাব্য সব ধরনের ক্ষতি মোকাবেলায় প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্টিত সভায় জানানো হয়, জেলার উপকূলীয় এলাকায় দুর্যোগ ঝুঁকিপূর্ণ লোকজনের আশ্রয়ে প্রস্তুত রাখা হয়েছে ৫১৬টি আশ্রয় কেন্দ্র। সম্ভব্য ঝুঁকি মোকাবেলায় শুকনো খাবার, পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট, লোকজন সরিয়ে নিতে প্রয়োজনীয় যানবাহন ও চিকিৎসা সামগ্রী তৈরি রাখা হয়েছে।

প্রশাসনিক সহযোগিতা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে খোলা হয়েছে একটি কন্ট্রোল রুম। যেকোনো প্রয়োজনে কন্ট্রোল রুমের জন্য নির্ধারিত ০৩৪১-৬৪২৫৪ ও ০১৭৩২ ৫৯২৩২১ এবং ০১৭১১ ৩৯৫৮৭৫ নম্বরে যোগাযোগ করতে অনুরোধ করা হয়েছে। স্বাস্থ্যগত সহযোগিতার জন্য সিভিল সার্জন কার্যালয়ে কাজ করবে অপর একটি কন্ট্রোল রুম। ইতোমধ্যে, জেলার আট উপজেলার ইউএনওসহ প্রশাসনিক সকলকে দেয়া হয়েছে সতর্ক থাকার নির্দেশনা। পাশাপাশি উপকূলের নিকটবর্তী লোকজনকে সতর্ক করতে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের নিজ নিজ এলাকায় মাইকিং করে ঘূর্ণিঝড় সম্পর্কে জনগণকে অবহিত করতে বলা হয়েছে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি জেলা প্রশাসক মো. আলী হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আনোয়ারুল নাসের, সিভিল সার্জন ডা. পঁচনু, জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি অ্যাড. সিরাজুল মোস্তফা, সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান, কক্সবাজার পৌর মেয়র মাহবুবুর রহমান, দমকল বাহিনীর আবদুল মজিদ, সহকারী আবহাওয়াবিদ একেএম নাজমুল হকসহ সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থার কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

সায়ীদ আলমগীর/বিএ

আরও পড়ুন