ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. অর্থনীতি

এস আলম সংশ্লিষ্ট ৬ ব্যাংক

২০৭০ কোটি টাকার আমানত নিয়ে ‘বেকায়দায়’ বিপিসি

ইকবাল হোসেন | প্রকাশিত: ০৮:১৪ এএম, ০৩ জানুয়ারি ২০২৬

দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ব্যাংকিং কেলেংকারির প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনেও (বিপিসি)। বিগত সময়ে এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে থাকা ছয় ব্যাংকে জমানো দুই হাজার কোটি টাকার বেশি আমানত নিয়ে কিছুটা বেকায়দায় পড়েছে সরকারি প্রতিষ্ঠানটি।

সম্প্রতি এর মধ্যে চারটি ব্যাংক অবসায়ন হয়ে সরকারি মালিকানাধীন ব্যাংক হয়ে যাওয়ায় সে দুশ্চিন্তা কিছুটা কেটেছে বলে দাবি বিপিসির।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর ব্যাংকিং সেক্টরে বড় লুটপাটের তথ্য প্রকাশ্যে আসে। বিশেষ করে এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণাধীন সাতটি ব্যাংকের মধ্যে পাঁচটিতে ঘটে নামে-বেনামে ঋণ জালিয়াতির ঘটনা। এ নিয়ে গত দেড় বছরে সারাদেশে তুমুল সমালোচনা তৈরি হয়। ওই পাঁচ ব্যাংক থেকে জালিয়াতির মাধ্যমে প্রায় দুই লাখ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে। এরই মধ্যে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এসব ব্যাংকের ঋণ জালিয়াতি নিয়ে বেশ কয়েকটি মামলাও করেছে। আরও মামলা প্রক্রিয়াধীন বলে জানায় দুদক সূত্র।

এস আলম সংশ্লিষ্ট ছয়টি ব্যাংকে বিপিসির আমানত রয়েছে। এর মধ্যে চারটি ব্যাংক অবসায়িত হয়েছে। পাশাপাশি অবসায়িত এক্সিম ব্যাংকেও আমাদের আমানত রয়েছে। এসব আমানত বিভিন্ন সময়ে রাখা হয়েছিল। যথাযথ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ও নির্দেশনা অনুসারে ব্যাংকগুলোতে অর্থ জমা রাখা হয়েছিল।- বিপিসির ঊর্ধ্বতন মহাব্যবস্থাপক (হিসাব) এটিএম সেলিম

ব্যাংকগুলো হলো- ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ও সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক। পাশাপাশি কমার্স ব্যাংক ও আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকে গ্রুপটির নিয়ন্ত্রণ থাকলেও ওই দুই ব্যাংকে জালিয়াতির মাধ্যমে আত্মসাতের খবর পাওয়া যায়নি। এর মধ্যে ইসলামী ব্যাংক বাদে অন্য চারটির সঙ্গে এক্সিম ব্যাংকও বিলুপ্ত করে বাংলাদেশ ব্যাংক। বিলুপ্ত পাঁচ ব্যাংক নিয়ে সরকারি মালিকানায় গঠন করা হয় ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’। ইতোমধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন পাওয়ার পর তাদের কার্যক্রমও শুরু হয়েছে।

আরও পড়ুন
তদন্ত হচ্ছে বিপিসির সেই ১২৫ কোটি টাকা গচ্চার ঘটনা
‘আলেজ’ সংকটে দেড় লাখ ডলার ক্ষতির মুখে বিপিসি
খালেদার সময় দেখিয়ে হাসিনা আমলের চুক্তি বাস্তবায়ন করছে বিপিসি!
বেসরকারিতে ঝুঁকছে জ্বালানি খাত, একক নিয়ন্ত্রণ হারাবে বিপিসি

বিপিসির ২০২৪-২৫ অর্থবছরের নিরীক্ষা প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে দেখা যায়, এস আলম গ্রুপকেন্দ্রিক ছয় ব্যাংকে এফডিআর (ফিক্সড ডিপোজিট রিসিপ্ট) ও এসএনডি (শর্ট নোটিশ ডিপোজিট) মিলে ২ হাজার ৭০ কোটি টাকার কিছু বেশি জমা রয়েছে বিপিসির। তবে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে এ জমার পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৩৪৫ কোটি টাকা। এক বছরের ব্যবধানে ব্যাংকগুলোতে বিপিসির জমার পরিমাণ বেড়েছে ৭২৫ কোটি টাকা। এ জমার বেশিরভাগই বেড়েছে ইসলামী ব্যাংকে। ব্যাংকটিতে খেলাপি ঋণের বড় অংশই এস আলম সংশ্লিষ্ট।

নিরীক্ষা প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের ৩০ জুন পর্যন্ত ইসলামী ব্যাংকে বিপিসির জমার পরিমাণ ৮৭৪ কোটি ৯৬ লাখ ৬৭ হাজার ৪৮৩ টাকা। ২০২৩-২৪ অর্থবছরের একই তারিখে ছিল ২০৯ কোটি ৩৭ লাখ ৪০ হাজার ৮৪৬ টাকা। এক বছরে জমার পরিমাণ বেড়েছে ৬৬৫ কোটি ৫৯ লাখ ২৬ হাজার ৬৩৭ টাকা।

একই সঙ্গে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকে জমা ছিল দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৭২৮ কোটি ৫০ লাখ ৭৪ হাজার ১৮৯ টাকা। আগের অর্থবছরে জমা ছিল ৭০০ কোটি ৯৬ লাখ ১৬ হাজার ৪৭৩ টাকা। একইভাবে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের শেষে গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকে জমা ছিল ২১২ কোটি ১৮ লাখ ৫৬ হাজার ৩৮৩ টাকা, যা এর আগের অর্থবছরে ১৬ কোটি ৪৬ লাখ ৪৯ হাজার ১৩৪ টাকা কম ছিল।

২০২৪-২৫ অর্থবছরের শেষে ইউনিয়ন ব্যাংকে জমা ছিল ২২২ কোটি ৫ লাখ ৭০ হাজার ৭২৩ টাকা। ওই ব্যাংকে আগের অর্থবছরের শেষে জমা ছিল ২০৬ কোটি ৫১ লাখ ১৫ হাজার ৪১২ টাকা। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের ৩০ জুন পর্যন্ত সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকে বিপিসির জমা ছিল ১০ কোটি টাকা। তবে একমাত্র সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকে আগের বছরের তুলনায় জমা কমেছে। আগের অর্থবছর বিপিসির জমানো অর্থের পরিমাণ ছিল ১১ কোটি ৪৮ লাখ ৬৬৪ টাকা। তাছাড়া এস আলম সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংকে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের শেষে এফডিআর ও এসঅ্যান্ডডি মিলে জমা রয়েছে ২২ কোটি ৩৩ লাখ ৫ হাজার ৩৫১ টাকা।

বিপিসির হিসাব মতে, অবসায়িত চার ব্যাংকে বিপিসির জমানো অর্থের পরিমাণ ১ হাজার ১৭২ কোটি ৭৫ লাখ ১ হাজার ২৯৫ টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, অবসায়িত পাঁচ ব্যাংক নিয়ে গঠিত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে আগের হিসাবগুলো ট্রান্সফার করা হচ্ছে। অন্যদিকে অবসায়িত আরেক আর্থিক প্রতিষ্ঠান এক্সিম ব্যাংকে বিপিসির জমানো আমানত রয়েছে ১৫৩ কোটি ২৬ লাখ ৮৭ হাজার ২৫৪ টাকা এবং সমস্যাগ্রস্ত ন্যাশনাল ব্যাংকে রয়েছে ১৪২ কোটি ৫৬ লাখ ৪৫ হাজার ১৮১ টাকা।

এ বিষয়ে বিপিসির ঊর্ধ্বতন মহাব্যবস্থাপক (হিসাব) এটিএম সেলিম জাগো নিউজকে বলেন, ‘এস আলম সংশ্লিষ্ট ছয়টি ব্যাংকে বিপিসির আমানত রয়েছে। এর মধ্যে চারটি ব্যাংক অবসায়িত হয়েছে। পাশাপাশি অবসায়িত এক্সিম ব্যাংকেও আমাদের আমানত রয়েছে। এসব আমানত বিভিন্ন সময়ে রাখা হয়েছিল। যথাযথ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ও নির্দেশনা অনুসারে ব্যাংকগুলোতে অর্থ জমা রাখা হয়েছিল।’

তিনি বলেন, ‘ইসলামী ব্যাংকে আমানত থাকলেও নিয়মিত এলসি করার কারণে ইসলামী ব্যাংকের আমানত নিয়ে আপাতত কোনো সমস্যা নেই। তবে অবসায়িত ব্যাংকগুলোর আমানত নিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে। আমাদের হিসাবগুলো সচল। এখন অবসায়িত ব্যাংকগুলো নিয়ে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক হয়েছে। এটি যেহেতু শতভাগ সরকারি মালিকানার ব্যাংক এবং বিপিসিও সরকারি প্রতিষ্ঠান, সে হিসেবে আমানতের নিরাপত্তা তৈরি হয়েছে। এতে আমানত নিয়ে আপাতত দুশ্চিন্তা নেই।’

এমডিআইএইচ/এএসএ/এমএফএ/এএসএম