ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. অর্থনীতি

চট্টগ্রামের লাল গরু সংরক্ষণ অত্যন্ত জরুরি: ফরিদা আখতার

নিজস্ব প্রতিবেদক | চট্টগ্রাম | প্রকাশিত: ০৮:৫০ এএম, ২৯ জানুয়ারি ২০২৬

রেড চিটাগাং ক্যাটল (আরসিসি) সংরক্ষণের গুরুত্ব তুলে ধরে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেছেন, চট্টগ্রাম হলো লাল গরুর দেশ। দুধ উৎপাদন তুলনামূলক কম হলেও মাংসের গুণগত মান ও জাতগত বৈশিষ্ট্যের দিক থেকে রেড চিটাগাং ক্যাটলের (লাল গরু) তুলনা বিশ্বে খুব কমই আছে। তাই এই জাত সংরক্ষণ করা অত্যন্ত জরুরি।

বুধবার (২৮ জানুয়ারি) কর্ণফুলী উপজেলার শিকলবাহা এলাকায় এ কে অ্যাগ্রো অ্যান্ড ডেইরি হাব-সংলগ্ন মাঠে ‘চট্টগ্রাম অঞ্চলে ডেইরি খাতের উন্নয়ন: সম্ভাবনা ও করণীয়’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ফরিদা আখতার বলেন, বাংলাদেশ প্রতিবছর প্রায় পাঁচ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করে গুঁড়া দুধ আমদানি করে। এই অর্থ যদি দেশীয় দুধ উৎপাদন বৃদ্ধিতে ব্যয় করা হয়, তাহলে আমদানিনির্ভরতা অনেকাংশে কমানো সম্ভব।

তিনি বলেন, গুঁড়া দুধ ব্যবহারের ফলে তরল দুধে ভেজালের ঝুঁকিও বাড়ছে। এ কারণে আমদানি কমিয়ে দেশীয় তরল দুধের উৎপাদন বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

বিদ্যুৎ বিল ও ভর্তুকি প্রসঙ্গে উপদেষ্টা বলেন, আলোচনা ও প্রচেষ্টার মাধ্যমে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে ২০ শতাংশ বিদ্যুৎ বিল রেয়াত এবং ১০০ কোটি টাকা ভর্তুকি দেওয়া সম্ভব হয়েছে। এটি প্রাথমিক উদ্যোগ হলেও ভবিষ্যতে প্রয়োজন অনুযায়ী বাড়ানোর চেষ্টা করা হবে।

খামারি নিবন্ধনের ওপর গুরুত্বারোপ করে ফরিদা আখতার বলেন, নিবন্ধন ছাড়া খাতটির প্রকৃত চিত্র জানা সম্ভব নয়। অনলাইনে নিবন্ধন কার্যক্রম চালু হলে সব তথ্য এক জায়গায় পাওয়া যাবে এবং নীতিনির্ধারণ সহজ হবে।

তিনি প্রাণিসম্পদ ও ডেইরি উন্নয়ন প্রকল্প (এলডিডিপি) প্রসঙ্গে বলেন, এ প্রকল্পের মাধ্যমে খামারিরা প্রশিক্ষণ পেয়েছেন, পিজি গ্রুপ গড়ে উঠেছে এবং ডেইরি কার্যক্রম অনেকের জীবনের অংশ হয়ে উঠেছে। তার ভাষায়, অনেক খামারি লাভ-ক্ষতির হিসাবের বাইরেও এই কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে টেকসই জীবিকার পথ তৈরি করবে।

দুধের পুষ্টিগুণের বিষয়ে উপদেষ্টা বলেন, দুধ শুধু উৎপাদনের পরিসংখ্যান নয়, মানুষ কতটা দুধ গ্রহণ করছে সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। নারী, শিশু ও বয়স্কদের জন্য দুধ অত্যন্ত প্রয়োজনীয়, যা হাড়ের রোগ ও অস্টিওপোরোসিস প্রতিরোধে সহায়ক।

এলডিডিপির আওতায় স্কুল ফিডিং কর্মসূচির মাধ্যমে শিশুদের পুষ্টি নিশ্চিতের পাশাপাশি তাদের মেধা বিকাশেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। ফরিদা আখতার বলেন, বাংলাদেশ তরুণদের দেশ। ডেইরি শিল্পে তরুণদের এগিয়ে আসতে হবে। সরকার এ খাতে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেবে।

সেমিনারে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. আবু সুফিয়ানের সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ডেইরি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী পরিচালক শাহীনা ফেরদৌসী, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পরিচালক (কৃত্রিম প্রজনন) মো. শাহজামান খান তুহিন, পরিচালক (সম্প্রসারণ) ডা. বেগম শামছুননাহার, চট্টগ্রাম বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আতিয়ার রহমান এবং এ কে অ্যাগ্রো অ্যান্ড ডেইরি ফার্মের পরিচালক মোহাম্মদ ইকবাল হোসেইন।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মো. বয়জার রহমান। এছাড়া এলডিডিপির আওতায় ডেইরি হাব কার্যক্রমের অগ্রগতি ও সম্ভাবনা নিয়ে একটি উপস্থাপনা ও ডকুমেন্টারি প্রদর্শন করা হয়।

এমআরএএইচ/বিএ