বড় উত্থানের পর শেয়ারবাজারে ফের দরপতন
এক কার্যদিবস বড় উত্থানের পর দেশের শেয়ারবাজারে ফের দরপতন হয়েছে। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমার পাশাপাশি প্রধান মূল্য সূচক কমেছে। তবে বেড়েছে লেনদেনের পরিমাণ।
ডিএসইতে দরপতনের তালিকা বড় হলেও অন্য শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) দাম বাড়ার তালিকায় বেশি প্রতিষ্ঠান নাম লিখিয়েছে। ফলে বেড়েছে মূল্যসূচক। সেইসঙ্গে বেড়েছে লেনদেনের পরিমাণ।
গত সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস শেয়ারবাজারে বড় উত্থান হয়। একদিনে ডিএসইর প্রধান সূচক বাড়ে ২০০ পয়েন্ট। তবে পরের পাঁচ কার্যদিবসে দরপতনের তালিকা বড় হয়। টানা পাঁচ কার্যদিবস দরপতনের পর গতকাল সোমবার শেয়ারবাজারে বড় উত্থান হয়। ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক বাড়ে ৮৫ পয়েন্ট।
এই উত্থানের পর এখন আবার দরপতন হলো। এদিন ডিএসইতে লেনদেন শুরু হয় অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দাম বাড়ার মাধ্যমে। ফলে লেনদেনের শুরুতে সূচকের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার দেখা মিলে। কিন্তু শেষ দেড় ঘণ্টার লেনদেনে টানা দরপতন হয়। এতে দাম কমার তালিকা বড় হওয়ার পাশাপাশি প্রধান মূল্যসূচক কমেই দিনের লেনদেন শেষ হয়।
দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইতে সব খাত মিলে দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে ১১৯টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট। বিপরীতে দাম কমেছে ২২১টির। আর ৫৭টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
এদিকে ভালো কোম্পানি বা ১০ শতাংশ অথবা তার বেশি লভ্যাংশ দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ৪৫টির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে ১৩৩টির দাম কমেছে এবং ৩১টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। মাঝারি মানের বা ১০ শতাংশের কম লভ্যাংশ দেওয়া ২১টি কোম্পানির শেয়ার দাম বাড়ার বিপরীতে ৫০টির দাম কমেছে এবং ৯টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ না দেওয়ার কারণে ‘জেড’ গ্রুপে স্থান হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে ৫৩টির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৩৮টির এবং ১৭টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। আর তালিকাভুক্ত মিউচুয়াল ফান্ডগুলোর মধ্যে ৭টি দাম বেড়েছে। বিপরীতে ৯টির দাম কমেছে এবং ১৭টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
দাম কমার তালিকা বড় হওয়ায় ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ১০ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৫৪২ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। অন্য দুই সূচকের মধ্যে ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৫ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ১০১ পয়েন্টে অবস্থান করছে। তবে বাছাই করা ভালো ৩০ কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক আগের দিনের তুলনায় ৬ পয়েন্ট বেড়ে ২ হাজার ১৪৩ পয়েন্টে উঠে এসেছে।
প্রধান মূল্যসূচক কমলেও ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণও বেড়েছে। বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ৮২৪ কোটি ৮৯ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৭১৮ কোটি ৫৬ টাকা। এ হিসাবে আগের কার্যদিবসের তুলনায় লেনদেন বেড়েছে ১০৬ কোটি ৩৩ লাখ টাকা।
এ লেনদেনে সব থেকে বড় ভূমিকা রেখেছে সিটি ব্যাংকের শেয়ার। কোম্পানিটির ৬৪ কোটি ৮ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা ব্র্যাক ব্যাংকের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৩৫ কোটি ৩৩ লাখ টাকার। ২১ কোটি ৮৯ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে ইস্টার্ন ব্যাংক।
এছাড়া ডিএসইতে লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে- খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগ, যমুনা ব্যাংক, রবি, আনোয়ার গ্যালভানাইজিং, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস, সায়হাম কটন এবং অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ।
অন্য শেয়ারবাজার সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই বেড়েছে ৫ পয়েন্ট। বাজারটিতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ১৮৭ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৮৩টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৬৪টির এবং ৪০টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। লেনদেন হয়েছে ১৯ কোটি ৪৯ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ১৮ কোটি ৪৩ লাখ টাকা।
এমএএস/এমএএইচ/